সংবাদ সংস্থা
দিল্লি, ৪ জুলাই

দু’‌মাস ধরে তপ্ত পূর্ব লাদাখের চীন–ভারত সীমান্ত। গালোয়ানের রক্তক্ষয়ী, প্রাণঘাতী সঙ্ঘর্ষের পর চলছে দু’পক্ষের স্নায়ুযুদ্ধ। শুক্রবার হঠাৎ করেই লাদাখ পরিদর্শনে চলে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেনাবাহিনীকে চাঙ্গা রাখতে, সেই সঙ্গে ঘরে–‌বাইরে কিছু বার্তা দিতে। প্রধানমন্ত্রীর সেই ঝটিকা সফরের পর শুক্রবারই লাদাখে আরও সেনা মোতায়েন করা হল। ভারতকে চাপে রাখতে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় ফৌজ বাড়িয়েছে চীন। ভারতও পাল্লা দিচ্ছে। শুক্রবার আরও এক ডিভিশন সেনা মোতায়েন হয়েছে বলে সূত্রের খবর। অন্যদিকে, ভারত মহাসাগর অঞ্চলেও চীনের তৎপরতার ওপর চাপ তৈরি করতে আন্দামান–‌নিকোবরে অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানোর কাজ শুরু করেছে। 
মে মাসের আগে পূর্ব লাদাখে ভারতের সেনা ছিল এক ডিভিশনের মতো। এই মুহূর্তে সেই সেনার সংখ্যা বেড়ে দঁাড়িয়েছে চার ডিভিশন। এক–‌‌একটি ডিভিশনে ১৫ থেকে ২০ হাজার সৈন্য থাকে। অর্থাৎ, ভারতের দিক থেকে ৮০ হাজারের কাছাকাছি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে শুধু পূর্ব লাদাখেই। সূত্রের খবর, নতুন ডিভিশনটি এসেছে উত্তরপ্রদেশ থেকে। সেই সঙ্গে এসেছে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র, যুদ্ধের সরঞ্জামও। 
মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই পূর্ব লাদাখ সীমান্তে শুরু হয়েছিল টানাপোড়েন, সঙ্ঘাত। ১৫ জুন রাতে গালোয়ানের রক্তক্ষয়ী সঙ্ঘর্ষের পর সীমান্ত–‌সঙ্ঘাত ছাড়িয়ে সম্পর্কের নানা দিকে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। বাণিজ্যিক দিক থেকেও চেষ্টা চলছে চীনকে চাপে রাখার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুক্রবার নাম না করে চীনের ‘‌সম্প্রসারণবাদ’–এর‌ দিকে আঙুল তুলেছিলেন। এই ভৌগোলিক দিক থেকে চীনের প্রতিপত্তির এলাকা ছড়িয়ে আছে ভারত মহাসাগর অঞ্চলে। সেখানে ভারতের উপস্থিতি সবল করতেই আন্দামানে ফৌজ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে দিল্লি। ২০০১–এ প্রথম আন্দামান–‌নিকোবর কম্যান্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি এখনও পর্যন্ত দেশের প্রথম এবং একমাত্র কম্যান্ড, যেখানে স্থলসেনা, বায়ুসেনা এবং নৌসেনা অভিন্ন অপারেশনাল কম্যান্ডারের অধীনে রয়েছে। 
কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই কম্যান্ড তত কিছু গুরুত্ব পাচ্ছিল না বলে অভিযোগ। যদিও অবস্থানগত বিচারে আন্দামান–‌নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গালোয়ানের সঙ্ঘর্ষের পর নতুন করে এতে নজর পড়েছে। ভারত মহাসাগরের ওপর দিয়ে আন্দামান–‌নিকোবরের কাছ দিয়ে জ্বালানি তেল আমদানি করে চীন। 
উত্তর আন্দামানের শিবপুরে নৌসেনার এয়ার স্টেশন আইএনএস কোহাসারের রানওয়ের দৈর্ঘ্য বাড়ানো হচ্ছে। ক্যাম্পবেলে আইএনএস বাজের রানওয়ের দৈর্ঘ্য বাড়ানোরও পরিকল্পনা রযেছে, যাতে বড় যুদ্ধবিমান নামতে পারে। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top