‌সংবাদ সংস্থা
দিল্লি, ১১ জুলাই

কানপুরওয়ালা বিকাশ দুবে। পুলিশ–ক্ষমতাসীনরা তার ইয়ারদোস্ত। রাজনীতির অন্দরমহলে অবাধ বিচরণ। তাকে পাকড়াও করার ‘‌স্পর্ধা’‌ দেখানোয় সরিয়ে দেওয়া হল মহাকাল মন্দিরের নিরাপত্তা আধিকারিক রুবি যাদবকে। গ্যাংস্টারকে ধরার বাহবা দিল না মধ্যপ্রদেশ। নেমে এল খাঁড়া। 
এদিকে বিকাশের অঢেল সম্পত্তির খোঁজ শুরু করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (‌ইডি)‌। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়ানো তার সম্পত্তি। বিভিন্ন শহরে তার ১১টা বাড়ি, ১৬টা ফ্ল্যাট, বেনামে রয়েছে অজস্র জমি। সম্পত্তির বিশদ বিবরণ চেয়ে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের সঙ্গে যোগযোগ করেছে ইডি। গ্যাংস্টারদের আঁতুড়ঘর যোগী আদিত্যনাথের রাজ্য। 
বিকাশকে ধরে রুবি যাদব এখন ‘‌লেডি সিঙ্ঘম’‌। মন্দিরের নিরাপত্তা আধিকারিকের পদ থেকে হটিয়ে দিলেও পরোয়া নেই। বিকাশের গ্রেপ্তারির বিবরণে রুবি বলেন, ‘‌একজন ফুল বিক্রেতা প্রথম বিকাশকে দেখতে পায়। সেই আমাদের লোকজনকে খবর দেয়। সন্দেহভাজনের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত তার ওপর নজর রাখতে বলি। সেই মতো বিকাশের প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর নজর রাখছিল আমাদের লোকজন। ২৫০ টাকা দিয়ে টিকিট কিনে মন্দিরে ঢুকেছিল বিকাশ। আমাদের কাছে বিকাশের ছবি ছিল। কিন্তু তার সঙ্গে ওর এখনকার চেহারার মিল ছিল না। ওর চুল ছোট ছোট করে ছাঁটা ছিল। চোখে চশমা, মুখে মাস্ক, চেনাই যাচ্ছিল না। ও যখন মন্দিরে ঘুরছিল তখন গুগলে ওর চেহারা খঁুটিয়ে দেখে নিই। গুগলের ছবিতে ওর কপালে একটা কাটা দাগ ছিল। সেই সব মিলিয়ে দেখে নিশ্চিত হয়ে এসপি–‌কে খবর দিই। বিকাশ ভুয়ো পরিচয়পত্র নিয়ে ঘুরছিল। ওর নাম জানতে চাইলে বলেছিল শুভম। পরিচয়পত্রে নাম ছিল নবীন পাল। অমিল ধরা পড়তে সদর্পে জানায় সেই বিকাশ দুবে। মন্দিরে একজনের সঙ্গে হাতাহাতিও হয়। ভয়ডরের লেশমাত্র ছিল না ওর। এসবের মধ্যেই পুলিশ এসে পড়ে। ওকে পুলিশের হাতে তুলে দিই।’‌ 
বিকাশের গ্রেপ্তারি বা আত্মসমর্পণ যা–‌ই হোক না কেন তা নিয়ে একটি শব্দ খরচ করেননি মধ্যপ্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরোত্তম মিশ্র। রা কাড়েনি উজ্জয়িনী পুলিশ। মধ্যপ্রদেশ পুলিশ স্পষ্ট বলছে, বিকাশ দুবেকে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে কর্তব্য সেরেছে তারা।
বিকাশ ধরা পড়ার পর তার বিরুদ্ধে কোনও মামলা রুজু করা হল না কেন?‌ ৬০টি অপরাধের মামলা ঝুলছে তার বিরুদ্ধে। মোস্ট ওয়ান্টেড। হাই অ্যালার্ট থাকা সত্ত্বেও বিকাশ উত্তরপ্রদেশ থেকে হরিয়ানা হয়ে মধ্যপ্রদেশে ঢুকল কী করে?‌ একের পর এক বিজেপি–‌শাসিত রাজ্যে ঘুরল কী করে?‌ মন্দিরের ক্লোক রুমে বিকাশের মালপত্রের ভেতর ছোরা ছিল, অস্ত্র নিয়ে সে মন্দিরে ঢুকল কী করে?‌ 
মশা–‌মাছিও ঘেঁষতে পারে না তার কাছে। এ হেন বিকাশ বেপরোয়া ভাবে মহাকাল মন্দিরে ঘুরে বেড়াল। নন্দী হলে তার পিছন থেকে ঘোরাফেরার ভিডিও তোলা হল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে। সেই ভিডিও তুলল কে?‌ গ্যাংস্টারের মোবাইলেই বা সেই ভিডিও কে পাঠাল?‌ নিরাপত্তার বেড়া ডিঙিয়ে মন্দিরে ঢোকার সময় বা তার ছবি কে তুলল?‌ অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর অজানা।
পুলিশ মুখ বন্ধ রাখলেও শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যাচ্ছে না। আঁশটে গন্ধ বেরিয়ে পড়ছেই। বিকাশ উজ্জয়িনী পুলিশের জেরায় বলেছে, সে বাসে দিল্লি থেকে রাজস্থানের কোটা গিয়েছিল। এখন লকডাউন। এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে বাস চলাচল বন্ধ। তাহলে সে কীভাবে বাসে সফর করল?‌ কারা সাহায্য করেছিল?‌ কোন ক্ষমতাবানদের নাম বলেছিল বিকাশ?‌ সেই প্রভাবশালী ব্যক্তিটি কে যিনি বিকাশকে উজ্জয়িনী পৌঁছতে সাহায্য করেছিলেন?‌ কারও নাম বলেনি পুলিশ। দু’‌জন আইনজীবী–‌সহ চারজনকে পুলিশ শুক্রবার পাকড়াও করেছে। 

জনপ্রিয়

Back To Top