রাজীব চক্রবর্তী
দিল্লি, ২৭ নভেম্বর

হঠাৎ কেন্দ্রীয় সংস্থার তৎপরতা বেড়েছে মহারাষ্ট্রে। নানাভাবে পিছনের দরজা দিয়ে সরকার ফেলার চেষ্টা হচ্ছে, এমনই দুশ্চিন্তায় রয়েছে ৩ দলের জোট সরকার। খেপে গিয়ে ‘‌তোমাদেরও পরিবার, আত্মীয় রয়েছে’‌ বলে বিজেপি‌কে তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে।
রাজ্যের এনসিপি–‌‌কংগ্রেস–‌‌শিবসেনা সরকার সিবিআই–‌কে রাজ্যে তদন্ত করতে হলে আগাম অনুমতি নিতে হবে বলে পুলিশ আইনে বদল করেছে। উদ্দেশ্য সিবিআই–এর কাজকর্মের ওপর রাশ টানা। কিন্তু এভাবে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (‌ইডি)‌–কে আটকানো যায় না। এখন শিবসেনা নেতাদের বাড়িতে ইডি হানা দিচ্ছে। এরই মধ্যে বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাওসাহেব দানভে দাবি করেছেন, দু’‌‌তিন মাসের মধ্যেই মহারাষ্ট্রে সরকার গড়বে বিজেপি। বিধান পরিষদ নির্বাচনে বিজেপি–‌‌র কর্মিসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় উপভোক্তা ও গণবণ্টন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী দানভে দলীয় কর্মীদের তৈরি থাকার বার্তা দেন।
কিন্তু কীভাবে হবে পরিবর্তন?‌ মন্ত্রী বলেছেন, ‘‌কীভাবে সরকার গড়া হবে, তা এখনই আপনাদের বলছি না। সরকার গড়ার পর মহারাষ্ট্র বিকাশ আগাড়ি টের পাবে। আমরা শুধুমাত্র আসন্ন নির্বাচন পর্ব (‌বিধান পরিষদ)‌ মিটে যাওয়ার অপেক্ষা করছি।’‌ 
দিল্লিতে কংগ্রেস নেতারা বলছেন, তবে কি তলে তলে মহারাষ্ট্রের সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে?‌ কর্ণাটক, গোয়া এবং উত্তর–পূর্বের রাজ্যগুলোর মতো মহারাষ্ট্রেও বিধায়ক কেনাবেচার চেষ্টা হচ্ছে?‌ এখনও ঘোড়া কেনাবেচার কোনও অভিযোগ ওঠেনি। তবে বিজেপি নেতারা প্রকাশ্যেই বলছেন, ‘‌মহারাষ্ট্র সরকারের ৩ শরিক দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। এনসিপি এবং শিবসেনা যৌথভাবে কংগ্রেসকে হেয় করতে চাইছে।’‌ 
এসবের মধ্যে এনসিপি–‌‌কে নিয়ে চিন্তিত রয়েছে কংগ্রেস ও শিবসেনা। যদিও এনসিপি সূত্রে বিজেপি–র সঙ্গে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই বলে দাবি করা হচ্ছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এর আগেও একইরকম মন্তব্য করেছিলেন দানভে। সেবার ২০১৯ সালে এনসিপি নেতা অজিত পাওয়ারকে পাশে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। তবে, এনসিপি–‌‌বিজেপি সখ্য বেশিক্ষণ টেকেনি। শারদ পাওয়ারের ভাইপো অজিত পাওয়ার পদত্যাগ করার পর পদত্যাগ করতে হয়েছিল ফড়নবিশকেও। তারপর এনসিপি, কংগ্রেস ও শিবসেনা মিলে সরকার গড়েছে। 
মহারাষ্ট্রে সরকার গড়ার চেষ্টা চলছে?‌ এ বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে ফড়নবিশ বলেছেন, ‘‌বর্তমান সরকার মানুষের জন্য কোনও কাজ করতে পারছে না। এই সরকার বেশিদিন চলবে না। আজ হোক বা কাল ক্ষমতায় ফিরবে বিজেপি। তবে, আপাতত দায়িত্বশীল বিরোধী হিসেবে কর্তব্য পালন করছে বিজেপি।’‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top