সংবাদ সংস্থা
দিল্লি, ৪ জুলাই

লাদাখে পরিদর্শনে গিয়েও চীন নিয়ে মৌনব্রত ভাঙেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার এই ইস্যুতেই মোদিকে পর পর আক্রমণ করলেন প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদম্বরম, প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ কে অ্যান্টনি। তঁাদের দাবি, চীনা অনুপ্রবেশ সম্পর্কে দেশবাসীকে সত্যি কথাটা বলে রাজধর্ম পালন করুন প্রধানমন্ত্রী। 
এদিন দিনের শুরুতেই চিদম্বরম টুইট করেন, ‘এক সপ্তাহে এই নিয়ে পর পর তিনবার আগ্রাসনকারী হিসাবে চীনের নাম করলেন না প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু কেন? কেন তিনি দেশের মানুষের কাছে এবং লাদাখে জওয়ানদের সামনে অনামা শত্রুর বিরুদ্ধে তোপ দাগছেন। দেশ জানতে চায়, যখন তিনি ফোনে ট্রাম্প বা পুতিনের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেন, তখনও তিনি চীনের নাম উল্লেখ করছেন কি না।’ 
চিদম্বরম বলেন, ‘১৫ জুন ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে সঙ্ঘর্ষ ঠিক কোথায় হয়েছিল, সে কথা এখনও আমাদের জানাননি প্রধানমন্ত্রী। উপগ্রহ চিত্রে দেখা যাচ্ছে, এতদিন েয সব এলাকা ভারতীয় ভূখণ্ড হিসাবে পরিচিত ছিল, সেই সব গুরুত্বপূর্ণ এলাকা চীনের সেনারা দখল করে বসে আছে। অথচ সরকার এ নিয়ে নীরব।’
লাদাখ সফরে গিয়ে নরেন্দ্র মোদি যে বিশেষ কোনও বাহাদুরির কাজ করেননি, এদিন প্রকারান্তরে সে কথাই বুঝিয়ে দিয়েছেন প্রাক্তন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এ কে অ্যান্টনি। তঁার মতে, ‘মোদির লাদাখ সফর ভাল পদক্ষেপ। তবে অতীতে প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু, লালবাহাদুর শাস্ত্রী এবং ইন্দিরা গান্ধী সীমান্তে সঙ্ঘর্ষের এলাকায় এক ডজনেরও বেশি বার পরিদর্শনে গেছেন। এই ধরনের পরিদর্শনে সব সময়ই বাহিনীর মনোবল বাড়ে। মোদির লাদাখ সফরকে সেভাবেই দেখতে হবে।’ মোদি সরকার যে আসল সমস্যা এড়িয়ে যাচ্ছে, তা বোঝাতে অ্যান্টনি বলেন, ‘এখন দরকার সীমান্তে আগের স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনা। চীনকে পিছিয়ে যেতে হবে। ওরা পিছিয়ে না গেলে ওই এলাকা থেকে তাদের হঠিয়ে দেওয়া উচিত।’
অন্যদিকে, শনিবারই গত মে থেকে জুন পর্যন্ত লাদাখের প্যাংগং–‌‌এর বেশ কিছু স্যাটেলাইট ছবি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা কপিল সিবাল। ছবিগুলিতে লাদাখে চীনা নির্মাণকার্যের প্রমাণ মিলছে। মোদিকে বিভ্রম সৃষ্টি ও চীনকে রক্তচক্ষু দেখানোর রাজনীতি বন্ধ করে ভারত ভূখণ্ড রক্ষায় চীনের চোখে চোখ রেখে উপযুক্ত পদক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছেন তিনি। লাদাখের বেশ কয়েকজন বাসিন্দার নাম–‌‌ধাম উল্লেখ করে চীনা অনুপ্রবেশ নিয়ে তাঁদের তোলা অভিযোগের উল্লেখ করেছে কংগ্রেস। জবাব চাওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

জনপ্রিয়

Back To Top