সংবাদ সংস্থা
বারাণসী, ১৮ সেপ্টেম্বর

এই যে কোভিডে এত মৃত্যু আমেরিকা আর ইওরোপে, তেমনটা তো দেখা যাচ্ছে না ভারতে কিংবা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায়!‌ রহস্যটা কোথায়? রহস্যটা জিনে। ভারতীয়দের অনেকটাই বাঁচিয়ে দিচ্ছে তাঁদের জিন। সেরকমই বলছে একদল বিজ্ঞানীর গবেষণা। 
বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জ্ঞানেশ্বর চৌবের পরিচালনায় ৬টি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের জিন বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের গবেষণায় জানা গেছে, আমাদের দেহের এসিই ২ জিনের ওপর চেপে বসে করোনা ভাইরাসের একটা স্পাইক বা কাঁটা। এরপর ভাইরাস তার সংক্রমণ চালান করে দেয় জিনে। মানে ‘শজারুর কাঁটা’র মতো কোভিডের ঘাতক কাঁটা। গবেষকেরা বিভিন্ন মহাদেশের বাসিন্দাদের এসিই ২ জিনের সম্পূর্ণ ডিএনএ–‌র তথ্য বিশ্লেষণ শুরু করেন। তাতে দেখা যায়, ভারতীয়দের জিনের বৈশিষ্ট্যই কোভিডকে এদেশে তত বড় ঘাতক হয়ে উঠতে দিচ্ছে না। গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানের বিশ্ববিখ্যাত জার্নাল প্লস ওয়ান–‌এ।  কোভিড রোগীদের মধ্যে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি ইরান, ইওরোপ এবং আমেরিকায়। আমেরিকায় আবার মৃত্যু বেশি তাঁদের মধ্যে, যাঁদের পূর্বপুরুষরা ছিলেন ইওরোপীয়। অধ্যাপক চৌবে বলেন, ‘মানব শরীরে করোনা ভাইরাসের এন্ট্রি পয়েন্ট হল এসিই ২ জিন। এই জিনের কিছু পরিবর্তনের ফলেই কোভিড সংক্রমণ অত্যন্ত তীব্র চেহারা নেয়।’ গবেষকেরা এই জিনের পুরো ডিএনএ শৃঙ্খলকে কয়েকটি খণ্ডে ভেঙে ফেলেন। প্রতিটি মহাদেশের ব্যক্তিদের দেহের এসিই ২ জিনের বিভিন্ন অংশ নিয়ে চলে তুলনামূলক পর্যালোচনা। সুইৎজারল্যান্ডের বার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জর্জ ভ্যান ড্রিেয়ম বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার বেশিরভাগ বাসিন্দার জিনের উৎস পশ্চিম ইউরেশীয় মানবগোষ্ঠীর মধ্যে। এরা পূর্ব ইউরেশিয়ানদের চেয়ে আলাদা। এখানেই জিনের ফারাক।’ অধ্যাপক চৌবে বলেন, ‘গবেষণায় দক্ষিণ এশীয়দের ডিএনএ–‌র সঙ্গে পূর্ব এশীয়দের ডিএনএ মিলে গেছে। এতেই বোঝা যায়, যে পথে দক্ষিণ এশীয়দের দেহে করোনা ভাইরাস ঢুকছে সেই পথ ইওরোপ বা আমেরিকার বাসিন্দাদের চেয়ে আলাদা। বরং, পূর্ব এশীয় ও দক্ষিণ এশীয়দের মিল বেশি। তাই দক্ষিণ এশিয়ায় করোনায় মৃত্যু কম।’ আরেক গবেষক আনিষ্কা শ্রীবাস্তব বলেন,  ‘ বিভিন্ন মানবগোষ্ঠীর মধ্যে করোনা সংক্রমণের প্যাটার্ন বুঝতে সাহায্য করবে এই গবেষণা।’ টিমে রয়েছেন বিএইচইউ–‌র রুদ্র পান্ডে ও প্রোজ্জ্বল সিং, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকেশ তামাং, সাগর কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবিনাশ রাসালকার ও পঙ্কজ শ্রীবাস্তব, এনসিডিসি–‌র প্রমোদ কুমার।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top