মলয় সিনহা
ফেলো কড়ি মাখো তেল। প্রবাদ সত্যি হল এভারেস্ট অভিযানের ক্ষেত্রেও। ১ কোটি খরচ করলেই এভারেস্ট অভিযান করা যাবে!‌ তাও ভিভিআইপি মর্যাদায়!‌ অবাক কাণ্ডই বটে। ব্যবস্থাপনায় নেপালের একটি পর্বতারোহণ সংস্থা। পোশাকি নাম ‘‌প্ল্যাটিনাম এভারেস্ট এক্সপিডিশন–২০২০’।
অতীতে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ অভিযান করার সাহস দেখাতেন না অনেকেই। কিন্তু এখন সময় বদলেছে। ইন্টারনেট পরিষেবার উন্নতি, পরিবহণ ব্যবস্থার বদল, স্যাটেলাইট ফোন, আধুনিক আরোহণ সরঞ্জাম এবং গুগ্‌ল ম্যাপে সহজে পৌঁছে যাওয়া যায় অতি দুর্গম পর্বত শৃঙ্গে। সারা বিশ্বের অ্যাডভেঞ্চার প্রেমীদের স্বপ্ন পৃথিবীর সর্বোচ্চ শিখরে পা রাখা। এই টানে হিমালয়ের কোলে অবস্থিত নেপাল ছোট আয়তনের একটি দেশ হওয়া সত্ত্বেও বিশ্বজুড়ে পর্বতারোহীদের গন্তব্য এটি। নেপাল এবং চীনের সীমান্ত জুড়ে যে অঞ্চল, সেখানে পৃথিবীর সর্বোচ্চ ১০টি পর্বতের ৮টি অবস্থিত। এখানেই পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট অবস্থিত। এর টানে বিশ্বের নানা দেশের অ্যাডভেঞ্চার প্রেমীরা আসেন ট্রেকিং এবং বিভিন্ন শৃঙ্গ অভিযানে। নেপালে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম জনপ্রিয় হওয়ায় অনেক পর্বতারোহণ ও ট্রেকিং সংস্থা তৈরি হয়েছে সেদেশের প্রশাসনের সহযোগিতায়। 
২০১৯–এ এপ্রিল–মে মাসের অভিযান মরশুমে তিনশোর বেশি বিদেশি পর্বতারোহীদের নেপালের দিক থেকে এভারেস্ট অভিযানের সরকারি অনুমোদন পেয়েছিলেন। বর্তমানে এভারেস্ট অভিযান করতে আরোহী পিছু ২৩ থেকে ৪০ লাখ টাকা নেয় নেপালের পর্বতারোহণ ও ট্রেকিং সংস্থাগুলি। সংস্থাগুলির মাধ্যমে নানা প্যাকেজে অভিযান করতে পারেন আরোহীরা। নেপালের ‘‌১৪ পিক এক্সপিডিশন’‌ নামক সংস্থা আগামী ২০২০ সালের এভারেস্ট অভিযানে ভিভিআইপি আরোহীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় প্যাকেজ করেছে। যার মূল্য ১ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। ভারতীয় টাকায় ১ কোটি ১৩ লাখ টাকার কিছু বেশি। যেমন খরচ, তেমনই সব সুবিধা পাবেন আরোহীরা। বেসক্যাম্পে সবধরনের সুবিধাযুক্ত নিজস্ব তাঁবু, সাহায্যের জন্য হেলিকপ্টার, ইউআইজিএম সার্টিফায়েড গাইড, তিনবার এভারেস্ট সামিট করা শেরপা, সবসময় অক্সিজেন ও চিকিৎসক পরিষেবা, ২৪ ঘণ্টা স্যাটেলাইট ফোন ও ইন্টারনেট পরিষেবার সুবিধা পাবেন ভিভিআইপি আরোহীরা। এছাড়াও লাবুচে শৃঙ্গ অভিযান এবং সমগ্র অভিযানের ভিডিওগ্রাফি করার বাড়তি সুবিধা পাবেন তাঁরা। ইতিমধ্যে সারা বিশ্বের অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় মানুষের কাছে প্রচারের জন্য নিজেদের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিয়েছে সংস্থাটি। এই নিয়ে বাংলার বিশিষ্ট পর্বতারোহী বসন্ত সিংহরায় বলেন, ‘‌এখন অভিযান অনেকটা ট্রেনের ভ্রমণের মতো হয়ে গেছে। কম খরচে স্লিপার ক্লাসে যাত্রা। বেশি খরচ করতে পারলেই প্রথম শ্রেণির এসি কোচ।’‌ পর্বতারোহী সত্যরূপ সিদ্ধান্ত জানান, ‘‌সারা বিশ্বের কাছে এখন নেপাল অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমের জন্য বিখ্যাত। বাণিজ্যিক কারণে ধনীদের আকর্ষণের জন্য এটা করছে। খরচ করতে পারলে আন্টার্কটিকাতেও ভিভিআইপি মর্যাদায় ভ্রমণ করা যায়।’ টাকা খরচ করলেও আরোহীর শারীরিক সক্ষমতার ওপরই নির্ভর করবে অভিযানের সফলতা বলে মনে করেন সত্যরূপ।‌‌‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top