রাজীব চক্রবর্তী
দিল্লি, ২৮ অক্টোবর

বিহারে প্রথম পর্বের নির্বাচনে ভোট পড়ল ৫৩.৫৪ শতাংশ। ভোটগ্রহণ চলেছে সন্ধে ছ’‌টা পর্যন্ত। রাজ্যের ৬টি জেলার ৭১টি কেন্দ্রে ভোট‌পর্ব ছিল মোটামুটি শান্তিপূর্ণ। ২০১৫ সালে এই কেন্দ্রগুলিতে ভোটের হার ছিল ৫৪.‌৭৫ শতাংশ। ২০১৯–‌‌এর লোকসভা নির্বাচনে ছিল ৫৪ শতাংশ। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটের মুখে হিংসা–কবলিত মুঙ্গেরে ভোটের হার সবচেয়ে কম, ৪৩.‌৬৪ শতাংশ। বুধবার দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলনে এই তথ্য দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা। 
এদিকে প্রথম দফার ভোটের পর মহাজোটের দাবি, ৭১টি আসনের মধ্যে ৫৫টিতে জয়ী হবে তারা। ভোজপুরের দক্ষিণাংশ এবং পাটলিপুত্র–‌‌মগধ অঞ্চলের যে অংশে ভোট নেওয়া হল, সেখানকার মানুষ দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে জাতপাতের শিকার। দলিত ও মহাদলিত ভোটের সংখ্যা অনেক বেশি। ’‌৮০ ও ’‌৯০–‌এ‌র দশকে জাতিদাঙ্গার পাশাপাশি জমি–‌মাফিয়া এবং পিপল্‌স ওয়ার গ্রুপ, রণবীর সেনাদের সশস্ত্র সন্ত্রাসের সাক্ষী থেকেছে এই অঞ্চল। যার ফলে বিস্তীর্ণ এই এলাকার মানুষের একে অন্যের ওপর বিশ্বাস নষ্ট হয়েছে। এই অঞ্চলেই তুলনামূলক বেশি উচ্চবর্ণের ভূমিহারের বাস। এ ছাড়াও যাদব, কুর্মি, দলিত ও মহাদলিতের সংখ্যাও অনেক বেশি। ’‌৯০–‌এর দশকে অনগ্রসর শ্রেণির ভোট পেয়েছিলেন লালুপ্রসাদ যাদব। পরে কুর্মি ও কয়োরি সম্প্রদায় নীতীশ কুমারের দিকে ঝুঁকেছে। এ ক্ষেত্রে বিজেপি এবং জেডি(‌ইউ)‌–এ‌র জোট এই সম্প্রদায়গুলির মধ্যে নতুন এক সামাজিক সমীকরণের জন্ম দিয়েছে। গত বার আরজেডি,‌ জেডি(‌ইউ)‌ এবং কংগ্রেসের মহাজোট এই ৭১টি‌র মধ্যে ৫৪টিতে জয়ী হয়েছিল। এনডিএ জেতে মাত্র ১৫টিতে। পরে ২০১৭–‌‌তে মহাজোট ছেড়ে এনডিএ–‌‌তে নাম লিখিয়েছেন নীতীশ কুমার। এবার এনডিএ বনাম মহাজোটের লড়াইয়ে এর মধ্যে ১২টি কেন্দ্র নির্ণায়ক হতে পারে। এই কেন্দ্রগুলিতে গত বার খুব কম ব্যবধানে জিতেছিলেন প্রার্থীরা। এর ৮টিতে লড়ছে বিজেপি। বাকি ৪টিতে জেডি(‌ইউ)‌।
২০১৫ সালে জেডি(‌ইউ)‌, আরজেডি ও কংগ্রেসের মহাজোটের কাছে এই অঞ্চলে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছিল বিজেপি–‌‌র নেতৃত্বাধীন এনডিএ। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই এলাকার কুর্মি, অনগ্রসর শ্রেণি এবং মহাদলিত সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশ নীতীশের ভোটব্যাঙ্কে পরিণত হয়েছে। যার ফলে প্রথম দফার ভোট অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। বুধবার যে ৭১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়েছে, তার মধ্যে ১২টি কেন্দ্র ‘‌কিংমেকার’‌ হতে চলেছে। এই কেন্দ্রগুলিতে নীতীশ ও বিজেপি–‌র ফর্মুলা কতটা কার্যকর হয়, সেদিকে নজর রাখছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল। এই ১২টি আসনের মধ্যে রয়েছে আরা, দিনারা, তারাকি, ভাবুয়া, দেহরি, চৈনপুর, শেরঘাটি, রাজৌলি, গোবিন্দপুর, বঁাকা, জামালপুর ও মুঙ্গের। 

 

গত নির্বাচনে রাজ্যের ৩ মন্ত্রী–‌‌‌সহ এই ১২টি আসনে জয়ী প্রার্থীদের জয়ের ব্যবধান ছিল ৫ হাজারের মধ্যে। উল্লেখ্য, সেবার জেডি(‌ইউ)‌ মহাজোটের শরিক ছিল। এর মধ্যে আবার ৩টি আসনে জয়ের ব্যবধান ছিল এক হাজারের মধ্যে। ৩টি আসনে জয়ী হয়েছিল বিজেপি। দিনারা ও জামালপুরে বিজেপি ও জেডি(‌ইউ)‌ মুখোমুখি লড়াই হয়েছিল। দিনারা আসনে বিজেপি–‌‌র প্রার্থী ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী রাজেন্দ্রপ্রসাদ সিং। এবার তিনি টিকিট না পেয়ে এলজেপি–‌‌তে নাম লিখিয়েছেন। প্রার্থীও হয়েছেন। তবে গত বার আরা, দেহরি, মুঙ্গের ও রাজৌলির মতো যে–‌কেন্দ্রগুলিতে খুব কম ব্যবধানে জিতেছিল আরজেডি, সেগুলি ধরে রাখা তেজস্বী যাদবের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
অন্য দিকে, এদিন পিঠোপিঠি দ্বারভাঙায় নির্বাচনী জনসভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। মোদি নাম না করে এনডিএ–‌‌র মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী নীতীশ কুমারকে ঠেসও মেরেছেন। বলেছেন, ‘‌গত বার অনেকেই বলেছিলেন, বিজেপি নির্বাচনের আগে শুধুই রামমন্দির গড়ার কথা বলে, গড়ে না। আমরা অযোধ্যায় রামমন্দির গড়ে দেখিয়েছি। বিজেপি যা বলে, তা করে দেখায়। এক সময় যঁারা আমাদের নিন্দা করতেন, আজ তঁারাই আমাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।’‌ এদিকে, সকালে ভোট চলাকালীন একটি টুইটে ‌বিতর্কে জড়িয়েছেন রাহুল। বিহারবাসীদের উদ্দেশে মহাজোটকে ভোট দেওয়ার আবেদন জানিয়ে টুইটে তিনি লিখেছেন, ‘‌চাকরি, ন্যায়, কৃষক–‌শ্রমিকদের স্বার্থে আপনারা মহাজোটকে ভোট দিন। বিহারের প্রথম দফার ভোটে আপনাদের সকলকে শুভেচ্ছা।’‌ হ্যাশট্যাগ দিয়ে হিন্দিতে লিখেছেন, ‘‌আজ বদলেগা বিহার’!‌ মোট তিন দফার ভোটের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফার ভোটগ্রহণ হবে ৩ ও ৭ নভেম্বর। ফল ঘোষণা ১০ নভেম্বর।

জনপ্রিয়

Back To Top