আজকালের প্রতিবেদন
দিল্লি, ১২ আগস্ট

ভওঁরলাল শর্মা। বয়স ৭৫। বহু ঘাটের জল খাওয়া রাজনীতিক। ছিলেন শচীন পাইলটের শিবিরে। তিনি আর তাঁর পাঁচ অনুগামী নিভৃতবাস থেকে চম্পট দিতেই শচীনকে রণে ভঙ্গ দিতে হয়। দলের হাইকমান্ডের তরফে কে সি বেণুগোপাল পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছিলেন। তিনিই সম্ভবত বার্তাটা আগাম জানান রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে। তাঁরা এরপরেই উদ্যোগী হন পাইলটে দলে ধরে রাখতে। পাইলটের সামনেও আর কোনও রাস্তা ছিল না। কারণ, সরকার ফেলতে না–পারলে বিজেপি–র কাছেও তিনি কল্কে পেতেন না। 
এক সময়ে বিজেপি–র তাবড় নেতা ভৈরোঁ সিং শেখাওয়াত হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচারের জন্য আমেরিকা যেতেই তাঁর সরকার ফেলে দিয়েছিলেন এই ভওঁরলালই। এবার তিনি বুঝে গিয়েছিলেন সরকার ফেলার মতো বিধায়ক জোটাতে পারেননি শচীন। যত দূর জানা গেছে, সমস্যা মিটে যাওয়ার পর বিশ্বেন্দ্র সিং ও রমেশ মিনাকে মন্ত্রিত্বে ফেরাতে পারেন গেহলট। পাইলটের সঙ্গে যোগ দেওয়ায় এঁদের মন্ত্রিত্ব গিয়েছিল।
এদিকে দ্বন্দ্ব মিটতেই পাইলট ও গেহলট শিবিরের বিধায়কেরা জয়পুরে পৌঁছেছেন। শুক্রবার বসবে বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন। বিধায়করা উঠেছেন দিল্লি–‌‌রাজস্থান জাতীয় সড়কের ধারে ফেয়ারমাউন্ট হোটেলে। সেখান থেকেই বিধানসভা অধিবেশন ও আস্থাভোটের কৌশল নির্ধারণ করবে কংগ্রেস। মোট দুশো আসনের বিধানসভায় কংগ্রেসের হাতে এখন আবার ১২২ বিধায়ক। 
কিছুটা ‘‌চাপে’‌ পড়েই মুখে লাগাম দিতে হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটকে। হাইকমান্ডের নির্দেশ শিরোধার্য করে উভয়েই ‘‌হাত’‌ ধরাধরি করে সরকার চালানোর কথা বলছেন। যদিও, উভয়েই ঠারেঠোরে একে অপরকে বিঁধে চলেছেন। পাইলটের প্রত্যাবর্তনে তিনি যে হতাশ, প্রকাশ্যেই তা জানাতে কসুর করছেন না গেহলট। উল্টোদিকে, গেহলটকে মিষ্টি কথার ছুরিতে বিঁধে চলেছেন পাইলট।
গেহলট বলেছেন, ‘আমাদের যে বন্ধুরা চলে গিয়েছিলেন, এখন ফিরে এসেছেন, তাঁদের সবার সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করব। আশা করি, যাবতীয় মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে, জটিলতা কাটিয়ে উঠতে পারব। রাজ্যের সেবা করতে পারব।’ 
সাংবাদিকরা গেহলটের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, পাইলট ফিরে আসায় তিনি হতাশ কি না।‌ জবাবে মুখ্যমন্ত্রী গেহলট বলেছেন, ‘‌গত এক মাস ধরে যা কিছু ঘটেছে, তা হতাশ হওয়ার মতোই। বিধায়কদের হতাশ হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এক মাস ধরে তাঁরা হোটেলে রয়েছেন। বিধায়কদের ক্ষোভ ন্যায়সঙ্গত। তবে, ক্ষোভ মেটানোর চেষ্টা করা হবে। কারণ, দেশ, রাজ্য ও সাধারণ মানুষের সেবা করতে এবং গণতন্ত্র রক্ষা করতে হলে সহ্যশীল হতেই হয়।’ 
অদূর ভবিষ্যতে তাঁকে ‘‌পুরস্কৃত’ করা হবে, এই শর্তে রণে ভঙ্গ দিয়েছেন পাইলট।‌ সব মিটে যাওয়ার পর গেহলট বলছেন, ‘‌কেউ ভুল করলে তাঁকে ক্ষমা করা উচিত।’‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top