আজকালের প্রতিবেদন: ত্রিপুরার সিপিএম নেতা বাদল চৌধুরি এখনও অধরা। আর এই ‘অপরাধে’ কনস্টেবল থেকে এসপি পর্যন্ত ত্রিপুরা পুলিশে বরখাস্তের সংখ্যা ৯। ডিআইজি থেকে ডিএসপি, বদলির সংখ্যাও কম নয়। কংগ্রেসের কটাক্ষ, মহম্মদ বিন তুঘলক বেঁচে থাকলে তিনিও বিজেপি–র তুঘলকি কাণ্ডে লজ্জা পেতেন! গোটা রাজ্য জুড়েই চলছে তল্লাশি। পুলিশের পাশাপাশি বিজেপি–র নেতা–কর্মীরাও তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন। তবু অধরা রাজ্য বিধানসভার উপ–বিরোধী দলনেতা। তবে 
সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বাদলবাবুকে ধরতে না পারায় বিজেপি–র কাউকে বরখাস্ত করা হয়নি। উল্লেখ্য, ত্রিপুরার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মতো রাজ্য 
বিজেপি–র ভারও মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লবকুমার দেবের কাঁধেই। এরই মধ্যে টিচার্স এলিজিবিলিটি টেস্ট বা টেট টু পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার অভিযোগে শুরু হয়েছে নতুন করে অশান্তি।
দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত ত্রিপুরার প্রাক্তন মন্ত্রী বাদলবাবুকে ধরতে না পারায় পুলিশকর্তাদের বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত। শনিবার বরখাস্ত করা হয় ডিএসপি–ডিআইবি বনজবিপ্লব দাসকে। বুধবার জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর থেকেই বাদলবাবুর কোনও খোঁজ নেই। তাই আগেই বরখাস্ত হন পশ্চিম ত্রিপুরার জেলা পুলিশ সুপার অজিতপ্রতাপ সিং। রুরকি আইআইটি–র এই কৃতী ছাত্র আইপিএস অফিসার হিসেবেও খুব দক্ষ। তাঁকে বরখাস্ত করায় আইপিএস মহলে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। খোদ ডিজিপি–র নেতৃত্বে তাঁরা সেকথা জানিয়েও আসেন মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিপ্লব দেবকে। এতেও কাজ হয়নি। অজিতের জায়গায় বসানো হয় মানিক দাসকে। আইপিএসের বদলে প্রথা ভেঙে স্টেট ক্যাডারের অফিসারকে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার দায়িত্ব দেওয়ায় 
ক্ষোভ আরও বাড়ে। 
স্টেট ক্যাডারের অফিসাররাও ক্ষিপ্ত। কারণ তিন ডিআইজি–র পাশাপাশি একাধিক ডিএসপি লেভেলেও শাস্তিমূলক বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বরখাস্তও হয়েছেন রাজ্য পুলিশের একাধিক কর্মী ও অফিসার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ত্রিপুরা পুলিশেরই এক প্রাক্তন অফিসার এদিন মন্তব্য করেন, ত্রিপুরায় তো বটেই, গোটা দেশেই নজিরবিহীন ঘটনা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আইপিএস অফিসার রাজীব কুমারকে ধরতে না পারায় ক’‌জন সিবিআই আধিকারিক বরখাস্ত হয়েছিলেন? এক সময়ে ভিজিল্যান্সের এসপি পদের দায়িত্ব সামলানো এই অফিসারের দাবি, বাদলবাবুর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের আদতেই কোনও ‘‌মেরিট’‌ নেই। পুরোটাই রাজনৈতিক।
কংগ্রেস নেতা সুবল ভৌমিক এদিন বিপ্লব দেব মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য রতনলাল নাথের বিরুদ্ধেও পাল্টা দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। তাঁর কথায়, ২০০৮–০৯ সালে বাদলবাবুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে রাজ্য তোলপাড় করছে বিজেপি সরকারের পুলিশ। কিন্তু সেই সময় তো বিরোধী দলনেতা ছিলেন রতনবাবু। তিনি তো বিধানসভায় বিষয়টি তোলেননি! তা হলে তিনিও কি এই কেলেঙ্কারিতে যুক্ত ছিলেন? বাদলবাবুকে ধরতে পুলিশি ব্যর্থতার জন্যও তিনি বিপ্লবকেই দায়ী করেন। সেই সঙ্গে সুবলবাবুর মন্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর তুঘলকি কাণ্ডে রাজ্যবাসীর ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
এদিকে, রবিবার ত্রিপুরায় টেট–টু পরীক্ষা। তার আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে উত্তেজনা ছড়ায় ত্রিপুরার বিভিন্ন প্রান্তে। কমলপুরে ২ লাখ ও খোয়াইয়ে ৮ লাখ টাকায় প্রশ্ন বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। শুধু তা–ই নয়, শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথের নাম করে টাকা তোলা নিয়ে টেলি–কথোপকথনের অভিযোগ এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে ওঠে। কমলপুরে দু’‌জনকে স্থানীয় মানুষ প্রশ্নপত্র বিক্রির অভিযোগে আটক করে পুলিশের হাতে তুলেও দেন। ঘটনার তদন্ত দাবি করেছে কংগ্রেস ও সিপিএম। বিরোধীদের এই রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি পুলিশের বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের জেরে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন ত্রিপুরার অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিকরাই।‌

জনপ্রিয়

Back To Top