‌সংবাদ সংস্থা
কানপুর, ৪ জুলাই

উত্তরপ্রদেশের কানপুরে ৮ পুলিশ খুনের ঘটনায় কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে সাসপেন্ড হলেন চৌবেপুর থানার স্টেশন অফিসার বিনয় তেওয়ারি। স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (‌এসটিএফ)‌ তাঁকে হেফাজতে নিয়েছে। চলছে জেরা। তিনিই বিকাশ দুবেকে আগেভাগে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, এমন সন্দেহও করা হচ্ছে। গোটা ঘটনায় তাঁর ভূমিকা সন্দেহজনক হলে তেওয়ারির বিরুদ্ধে মামলা হবে। চৌবেপুর থানার দায়িত্ব এখন দেওয়া হয়েছে পুষ্পরাজ সিংকে। কানপুর রেঞ্জের আইজিপি মোহিত আগরওয়ালের কথায়, দোষীদের শুধু চাকরি যাবে তাই নয়, গ্রেপ্তার করে কাঠগড়ায় তোলা হবে। যে বিকাশ দুবেকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে উত্তরপ্রদেশের আট পুলিশকর্মী গুলিতে প্রাণ দিয়েছেন, তাকে ধরতে এবার ২৫টি বিশেষ দল গঠন করেছে যোগী আদিত্যনাথ সরকারের পুলিশ। তারা রাজ্যের বিভিন্ন জেলার সম্ভাব্য সব জায়গায় দুবের খেঁাজে তল্লাশি চালাচ্ছে। ‘‌ট্র্যাক’‌ হচ্ছে অন্তত ৫০০টি মোবাইল ফোন। ৬০টি মামলায় অভিযুক্ত দুবে ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পরেও ফেরার।    ‌
এর মধ্যে খুনি বিকাশ দুবের বাড়ি ধুলিস্যাৎ করার কাজ শুরু করেছে পুলিশ। ৬০টি খুনের মামলা ঝুলছে বিকাশের বিরুদ্ধে। খোঁজ চলছে তার। এর মধ্যেই রাহুল তেওয়ারি নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, পুলিশের সামনে বিকাশ তাঁকে পিটিয়েছে। সূত্রের খবর, অভিযোগ পেয়ে বুধবার বিকাশের বাড়ি যান স্টেশন অফিসার বিনয় তেওয়ারি। অভিযোগের কথা পাড়তেই স্বমূর্তি ধারণ করে বিকাশ। স্টেশন অফিসারের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। চূড়ান্ত অভদ্রতা করে। উভয়ের মধ্যে বচসা বাধে। পরিস্থিতি হাতাহাতির জায়গায় পৌঁছলে বিকাশের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে পুলিশ।
রাহুল তেওয়ারির অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকাশের নামে মামলা রুজু হয়। শুক্রবার ভোররাতে বিকাশকে গ্রেপ্তার করতে যায় ৫০ জন পুলিশের দল। নেতৃত্বে ছিলেন বিলহাউরের সার্কেল অফিসার দেবেন্দ্র কুমার। বিকাশের বাড়ির কাছে পৌঁছোতেই পুলিশ বাহিনীর পথ আটকে দিয়ে গুলি আর পাথরবৃষ্টি শুরু করে বিকাশ ও তার সাকরেদরা। ৮ জন পুলিশ নিহত ও ৬ জন আহত হন। ডিজিপি হীতেশচন্দ্র অবস্থি বলেন, পুলিশ অভিযানের খবর আগেই পেয়ে গিয়েছিল বিকাশ। পুলিশের কাছ থেকে বা অন্য কোনও সূত্রে খবর ফাঁস হয়েছিল। 
এদিকে, কানপুর–সহ অন্যান্য জায়গায় বিকাশের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি ছড়িয়ে আছে। শুক্রবার গুলির লড়াইয়ের পর বিকাশের ভিকরু গ্রামের বাড়ি সিল করেছিল পুলিশ। শনিবার থেকে সেই বাড়ি ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। এদিন সকালে পুলিশ বাহিনী ভিকরু গ্রামে গিয়ে বিকাশের বাড়ি সংলগ্ন ৫০ মিটার এলাকা ঘিরে ফেলে। বিকাশের বাবা, পরিবারের লোকজন ও পরিচারকদের বাড়ি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিশাল উঁচু পাঁচিলে ঘেরা বাড়ি। ৪টি বিশাল গেট। পাঁচিলের ওপর রয়েছে সীমান্তে ব্যবহৃত কাঁটাতার। এদিক–ওদিকে মোট ৫০টি সিসি টিভি ক্যামেরা লাগানো। কোন গেট দিয়ে কোন গাড়ি ঢুকছে–বেরোচ্ছে তার ওপর চলে নজরদারি। পাঁচিলের গা ঘেঁষে তৈরি গাড়ি রাখার জায়গাও ধুলিস্যাৎ হয়েছে। লোকচক্ষুর আড়ালে বাড়িতে বাঙ্কার বানিয়ে রেখেছিল বিকাশ। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, গ্রামের পৈতৃক বাড়ি–লাগোয়া জমি জবরদখল করে ৭–৮ বছর আগে এই অট্টালিকা তৈরি করে বিকাশ। অট্টালিকার একদিকে পৈতৃক ভিটেতে থাকে পরিচারকেরা। বিকাশের বিলাসি গাড়ির সংখ্যা কম নয়। বাড়িতে রয়েছে দামি দামি আসবাব, বৈদ্যুতিন গ্যাজেট। সংবাদমাধ্যমকে সেখানে ঘেঁষতে না দিয়েই চলছে বাড়ি ভাঙার কাজকর্ম।
এদিকে, ৮ পুলিশকর্মী খুনের প্রতিবাদে রাজ্য জুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী দলের তরফে উত্তরপ্রদেশের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে নিশানা করে তোপ দেগেছেন। দলের তরফে রাজ্যের আইন–‌‌শৃঙ্খলার অবনতির প্রতিবাদে সরব হয়েছেন রাহুল গান্ধীও। তবে, প্রিয়াঙ্কা কোমর বেঁধে নামতে চাইছেন। বিজেপি সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরে রাজ্যে কংগ্রেসকে মজবুত করাই তাঁর লক্ষ্য। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top