আজকাল ওয়েবডেস্কঃ সোমবার মধ্যরাতে লোকসভায় পাশ হয়ে গিয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। মঙ্গলবার উত্তর–পূর্বের রাজ্যগুলিতে এই বিলের বিরুদ্ধে চলেছে দিনভর প্রতিবাদ। আর আগামীকাল বুধবারই রাজ্যসভায় এই বিল পেশ করতে চলেছে কেন্দ্রের মোদি সরকার। 
লোকসভায় পাশ হলেও রাজ্যসভায় নাগরিকত্ব (‌সংশোধনী)‌ বিল আটকাতে মরিয়া বিরোধীরা। সংখ্যার হিসেবে এগিয়ে রয়েছে সরকার পক্ষ। রাজ্যসভায় ভোটাভুটি হলে জয়ের ব্যবধান হতে পারে ৩০–‌এর কাছাকাছি। বিলে ২০টি সংশোধনী প্রস্তাব আনতে চলেছে তৃণমূল। লোকসভায় সমর্থন দিলেও রাজ্যসভায় বিলের বিরোধিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিবসেনা। বিরোধী শিবিরের কাছাকাছি এসেছে চন্দ্রশেখর রাওয়ের দল তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতিও। 
সোমবার লোকসভায় পাশ হয়েছে ক্যাব। বুধবার দুপুর ২‌টোয় রাজ্যসভায় বিলটি পেশ করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আলোচনার জন্য বরাদ্দ হয়েছে ছ’‌ঘণ্টা। তৃণমূলের তরফে বলবেন দলনেতা ডেরেক ও’‌ব্রায়েন। এদিন তিনি জানিয়েছেন, ‘‌নাগরিকত্ব (‌সংশোধনী)‌ বিল নিয়ে যাবতীয় বিতর্ক মূলত সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও নৈতিকতা নিয়ে। এই বিলে মোট ২০টি সংশোধনী আনা হবে, যা সরকার মেনে নিলে বিলটি সম্পূর্ণ বদলে যাবে। না মানলে বিলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই হুইপ জারি করা হয়েছে। উপস্থিত থাকবেন সব সাংসদ।’‌ তৃণমূলের ১২জন সাংসদের পাশাপাশি বাংলার নির্দল সাংসদ ঋতব্রত ব্যানার্জিও বিলের বিরুদ্ধে ভোট দেবেন। তৃণমূল সূত্রের খবর, ক্যাবের সংশোধনী প্রস্তাবে ছ’‌টি ধর্মাবলম্বী শরণার্থীর পরিবর্তে সকল ধর্মের শরণার্থীকে নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রস্তাব জমা দিয়েছে তৃণমূল। এছাড়াও বসবাসের সময়সীমা নির্দিষ্ট না করার কথা বলা হয়েছে।
মহারাষ্ট্রের দুই শরিক কংগ্রেস ও এনসিপি–র চাপে অবস্থান বদলেছে শিবসেনা। মঙ্গলবার শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘‌বিল সম্পর্কে শিবসেনার কিছু জানার আছে। বেশ কিছু বিষয় অস্পষ্ট। সেগুলি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যসভায় বিল সমর্থন করবেন না তাঁরা। অর্থনীতি, কর্মসংস্থানের অভাব, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বিশেষত অগ্নিমূল্য পেঁয়াজ, এই সব বিষয় নিয়ে মোদি সরকারের ভাবা উচিত। বিল কার্যকর করার থেকে সেগুলি অনেক বেশি জরুরি। এই বিলের বা বিজেপি–র সমর্থকরাই দেশভক্ত আর বিরোধিতা করলেই দেশদ্রোহী, এই ভাবনা বদলাতে হবে।’‌ উদ্ধব বলেন, ‘‌শরণার্থীরা থাকবেন কোথায়,‌ কোন রাজ্যে, এই সব বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। আমরা কিছু প্রশ্ন করেছি। তার জবাব মেলেনি।’‌ শিবসেনা নেতা অরবিন্দ সাওয়ান্ত বলেন, ‘‌দেশের স্বার্থে আমরা বিল সমর্থন করেছি। অভিন্ন ন্যূনতম কর্মসূচি (‌সিএমপি)‌ শুধু মহারাষ্ট্রেই প্রযোজ্য।’‌
কংগ্রেস–এনসিপি এই বিলের ঘোর বিরোধী। শিবসেনা লোকসভায় বিল সমর্থন করায় চটেছে দুই দল। রাখঢাক না করেই ক্ষোভ উগরে দিয়ে টুইটে রাহুল গান্ধী বলেছেন, ‘‌যাঁরা এই বিল সমর্থন করছেন তাঁরা আমাদের দেশের ভিতকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছেন।’‌ তবে এনসিপি মুখপাত্র নবাব মালিক বলেন, ‘‌শিবসেনার আদর্শ আলাদা। কিন্তু অভিন্ন ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে মহারাষ্ট্রে মহা বিকাশ আগাড়ি সরকার তৈরি হয়েছে। আমাদের আদর্শের ফারাক থাকলেও সরকারের ওপর তার প্রভাব পড়বে না।’‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top