সংবাদ সংস্থা
বেঙ্গালুরু, ১২ আগস্ট

কংগ্রেস বিধায়কের ভাইপোর সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা উত্তেজক মন্তব্য ঘিরে অশান্তি। আর তারই জেরে মঙ্গলবার রাতভর অশান্তির মধ্যে বেঙ্গালুরুতে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। রাতে শহরের পূর্বদিকে পুলকেশী নগর এলাকায় ভাঙচুর চালায় উত্তেজিত জনতা। ঘেরাও করা হয় কংগ্রেস বিধায়কের বাড়ি। হামলা হয় ডিজে হাল্লি থানায়। অশান্তি চলে বুধবার ভোর পর্যন্ত। রাতেই জনতাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি চালায় পুলিশ। বেঙ্গালুরুর পুলিশ কমিশনার কমল পন্থ জানিয়েছেন, পুলিসের গুলিতে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গ্রেপ্তার ১৪৯ জন। গ্রেপ্তার করা হয়েছে উত্তেজক পোস্টের জন্য দায়ী বিধায়কের ভাইপো নবীনকেও। সঙ্ঘর্ষে ৬০ জন পুলিসকর্মী–সহ আহত বহু। বুধবার ডিজে হাল্লি ও কেডি হাল্লি থানা এলাকায় কার্ফু জারি করা হয়। পুলিশকে কড়া হাতে পরিস্থিতি সামলানোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ইয়েদুরাপ্পা। বুধবার তিনি বলেন, ‘বিধায়ক অখণ্ড শ্রীনিবাসমূর্তির বাড়িতে ও ডিজে হাল্লি থানায় হামলার ঘটনা নিন্দাজনক। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হিংসা থামাতে সবরকম ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। পুলিশ, সংবাদ মাধ্যম ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর হামলা বরদাস্ত করা হবে না।’
এলাকায় শান্তি ফেরাতে বিজেপি সরকারের পাশে দঁাড়িয়েছে বিরোধী কংগ্রেস ও জেডিএস শিবির। বিরোধী পক্ষের সন্দেহ, এই ঘটনা পরিকল্পনা প্রসূত। বিরোধী নেতা কংগ্রেসের সিদ্দারামাইয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট এবং হিংসার ঘটনা, দুটোরই নিন্দা করেছেন। বিবদমান দু’পক্ষকেই শান্ত থাকার আর্জি জানান তিনি। হিংসার ঘটনার নিন্দা করেছেন কর্ণাটক প্রদেশ কংগ্রেস প্রধান ডি শিবকুমারও। হিংসা থামাতে কড়া ব্যবস্থা দাবি করেছেন জেডিএস প্রধান দেবগৌড়া ও রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই পোস্টের জেরে মঙ্গলবার রাতেই রাস্তায় নেমে পড়ে উত্তেজিত জনতা। ডিজে হাল্লি থানায় হামলা চালানোর পাশপাশি জ্বালিয়ে দেওয়া হয় পুলিশের গাড়ি, থানা চত্বরে রাখা ২০০ বাইক। বিধায়ক মূর্তি ও তঁার বোনের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। ভাঙা হয় একটি এটিএম। জনতাকে হঠাতে প্রথমে লাঠি ও কঁাদানে গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ। পরে গুলি চালালে তিনজনের মৃত্যু হয়। মৃতদের একজনের নাম ইয়াসিন পাশা। মৃতের বাবার দাবি, ইয়াসিন গন্ডগোলে ছিল না। দোকান বন্ধ করে রাতের খাবার খেতে গিয়েছিল। তখনই পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যু হয়। বহিরাগতরাই হিংসার জন্য দায়ী বলে তঁার অভিযোগ। পুলিশের লাঠিতে আহত হন এক সাংবাদিকও। এদিন কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাসবরাজ বোম্মাই আইন হাতে তুলে না নেওয়ার জন্য জনতার কাছে আর্জি জানান। মঙ্গলবার রাতেই এলাকায় শান্তি ফেরানোর আর্জি জানান বিধায়ক অখণ্ড শ্রীনিবাসমূর্তি।

জনপ্রিয়

Back To Top