আজকালের প্রতিবেদন 
দিল্লি, ১৮ সেপ্টেম্বর

সংসদে করোনা আতঙ্ক। সংসদে ভাষণ দেওয়ার পর সেন্ট্রাল হলে কিছুটা সময় কাটিয়ে করোনা আক্রান্ত বিজেপি সাংসদ বিনয় সহস্রবুদ্ধে। একদিন আগেই করোনা আক্রান্ত হয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গাডকারিও। গত শুক্রবারই  নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছিল দুজনের। তারপরেই তাঁরা সংসদে যোগ দিয়েছিলেন। ভায়নক পরিস্থিতি আঁচ করে অবিলম্বে অধিবেশন স্থগিত করার দাবি জানাল বিরোধী দলগুলো। শুক্রবারই কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে এবং এনসিপি সংসদ বিষয়ক মন্ত্রীর কাছে এই দাবি জানিয়েছে। সংসদের নিয়ম মেনে করোনা পরীক্ষায় যাঁদের নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছিল, তাঁদের অনেকেই আবারও পরীক্ষা করাতে ছুটছেন।
তবে, বিজেপি অধিবেশন স্থগিত রাখতে নারাজ। বিতর্কিত কৃষি বিল নিয়ে রাজ্যসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মনে করা হচ্ছে, মোদির ভাষণের আগে কোনও মতেই সংসদ বন্ধ করবে না সরকার। নীতিন গাডকারি ও বিনয় সহস্রবুদ্ধে দুজনেই টুইট করে নিজেদের করোনা পজিটিভ হওয়ার খবর জানিয়েছেন। দু’‌‌দিন আগেই করোনা বিষয়ক আলোচনায় অংশ নিয়ে রাজ্যসভায় ২০ মিনিটের ভাষণ দিয়েছেন সহস্রবুদ্ধে। সেই সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি–‌‌সহ ১০ জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। 
তৃণমূল সূত্রের খবর, সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশির সঙ্গে দেখা করে অবিলম্বে অধিবেশন স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন দলের নেতা ডেরেক ও’‌ব্রায়েন। একই প্রস্তাব দিয়েছেন কংগ্রেসের আনন্দ শর্মা, ডিএমকে–‌‌র তিরুচি শিবা এবং এনসিপি–‌‌র প্রফুল প্যাটেল। সরকারের কাছে বিরোধীদের পরামর্শ, বিতর্কিত ৩টি কৃষি বিল ও ব্যাঙ্কিং বিলগুলি সংসদের যৌথ সিলেক্ট কমিটিতে পাঠিয়ে দিয়ে রবিবারের পর সংসদ অধিবেশন স্থগিত করা হোক। এরমধ্যে বাকি ৭টি বিল (‌অধ্যাদেশ)‌ পাশ করা হলে বিরোধীরা বাধা দেবে না। এরমধ্যে অর্থনীতি, মূল্যবৃদ্ধি এবং জিএসটি বিষয়ে আলোচনা করা হোক। যদিও  সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশি তাঁদের জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে অধিবেশন বন্ধ করা অসম্ভব।
প্রথম দফায় লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে ২৫ জন সাংসদের শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। তাঁদের মধ্যে রাজস্থানের সাংসদ হনুমান বেনিওয়াল সওয়াই মাধোপুরের হাসপাতালে গিয়ে আবার পরীক্ষা করিয়েছেন। 
সেখানে তাঁর রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় তিনি লোকসভা অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন। এই নিয়ে কিছুটা 
শোরগোলও হয়েছে।
তৃণমূল সাংসদরা প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৬৫ বছরের বেশি বয়স্কদের করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।‌ সংসদে ওই বয়সের ওপরে রয়েছেন বহু সাংসদ। এই আবহেই প্রথম দিনে রাজ্যসভায় ডেপুটি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হয়েছে। সহস্রবুদ্ধে শেষদিনে কমপক্ষে ২০ জন সাংসদের সংস্পর্শে এসেছিলেন। এরপরেও মোদি সরকার কেন সাংসদদের জীবন নিয়ে খেলছে, সেই প্রশ্ন এখন বড় হয়ে উঠছে।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top