আবু হায়াত বিশ্বাস
দিল্লি, ১২ আগস্ট

দৈনিক সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলেও দেশে সংক্রমণ এখনও শিখরে পৌঁছায়নি বলে মনে করেছেন এইমস–এর ডিরেক্টর রণদীপ গুলেরিয়া। অর্থাৎ দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা এক জায়গা বরাবর দাঁড়িয়ে থাকবে এমন সময়ও এখনও আসেনি। গতকাল রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিন স্পুটনিক ভি ভ্যাকসিন তৈরির কথা ঘোষণা করলেও গুলেরিয়া বলেছেন, ‘‌রাশিয়ার তৈরি ভ্যাকসিনটি কার্যকরী এবং নিরাপদ কিনা, তা আমাদের খুঁটিয়ে দেখতে হবে।’ ভারত যেহেতু পৃথিবীর ৬০ শতাংশ ভ্যাকসিন তৈরি করে, তাই করোনার ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেও এ দেশের কিছু বাড়তি সুবিধা আছে বলে তিনি জানান। 
এদিকে টানা চারদিন দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ৬০ হাজারের ওপরে থাকার পর মাঝে একদিন‌ তা কমেছিল। কিন্তু বুধবার সকালের স্বাস্থ্যমন্ত্রকের রিপোর্ট বলছে, ফের ৬০ হাজারের গণ্ডি পেরিয়েছে আক্রান্তের সংখ্যা। পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ৬০,৯৬৩ জন আক্রান্ত। মৃত্যু হয়েছে ৮৩৪ জনের। দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির জেরে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা পেরিয়ে গেল ২৩ লক্ষের গণ্ডি। আর, করোনার জেরে এখনও অবধি মৃত্যু হয়েছে ৪৬ হাজারের বেশি মানুষের। টানা ৮ দিন ধরে দৈনিক সংক্রমণের নিরিখে শীর্ষে রয়েছে ভারত। ৪ আগস্ট থেকে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যায় পিছনে ফেলেছে আমেরিকা, ব্রাজিলকে। 
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্যানুসারে, দেশে মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২৩,২৯,৬৩৮ জন। যার মধ্যে ‌সুস্থ হয়েছেন ১৬,৩৯,৫৯৯ জন। সুস্থতার হার ৭০.‌৩৮ শতাংশ। এখনও সক্রিয় কেস রয়েছে ৬,৪৩,৯৪৮। অর্থাৎ, মোট আক্রান্তের ২৭.‌৬৪ শতাংশ এখন অসুস্থ। করোনায় মৃত্যুর হার ‌১.৯৮ শতাংশ।  মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু  অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক, পাঞ্জাব, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, গুজরাট, তেলেঙ্গানা ও উত্তরপ্রদেশে করোনা সংক্রমণের বৃদ্ধিই এখন উদ্বিগ্ন রেখেছে স্বাস্থ্যমন্ত্রককে। সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলি থেকেই ৮০ শতাংশ নতুন কেস আসছে। এই অবস্থায় কন্টেনমেন্ট জোনে নজরদারি বাড়ানো, নমুনা পরীক্ষা বৃদ্ধি এবং কারা সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছেন তা চিহ্নিত করার ওপর বাড়তি জোর দিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

জনপ্রিয়

Back To Top