দীপঙ্কর নন্দী
বাবরি মসজিদ ভাঙার রায় বুধবার বেরোনোর পর রাজনৈতিক মহল থেকে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। তৃণমূলের সাংসদ ও মুখপাত্র সৌগত রায় বলেন, ‘‌আমি অবাক হচ্ছি একটি কারণে, ২৮ বছর লেগে গেল মামলার নিষ্পত্তি হতে!‌ বিচার–‌ব্যবস্থাকে অসম্মান করছি না। তবে এটা বলতে পারি, বিচার–‌ব্যবস্থা শিথিল হয়ে পড়েছে। আমি হতাশ হয়েছি।’‌ তিনি বলেন, ‘‌এই রায়ের ফলে ধর্মনিরপেক্ষতা অনেকটাই ধাক্কা খাবে। মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড আবার আদালতে যাচ্ছে। এর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, আমাদের নজরে রাখতে হবে।’‌
কংগ্রেস সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য এই রায়কে হতাশাব্যঞ্জক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘‌বিচার–‌ব্যবস্থায় কোথাও একটা যেন ত্রুটি থেকে যাচ্ছে। আজকের রায়দান তারই প্রমাণ। যে–‌সব নেতা মসজিদ ভাঙার সময় উস্‌কানি দিয়েছিলেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে প্ররোচনা দেন, তঁাদের শাস্তি না দিয়ে মুক্তি দেওয়া হল। এর ফলে বিচার–‌ব্যবস্থা নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠে যাবে। হাতুড়ি, গঁাইতি ও ভাঙচুর করার অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে বিজেপি কর্মীরা বাবরি মসজিদ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। আমার প্রশ্ন হল, সিবিআই কী করছিল?‌ বিজেপি–‌র কর্মীরা আজ উদ্বেলিত, উচ্ছ্বসিত। ওটা আমাদের কাছে তুচ্ছ বিষয়। যেটা প্রধান জিজ্ঞাস্য, ধর্মনিরপেক্ষতা কি দেশে থাকবে না?‌ নেতাদের শাস্তি দেওয়াটা অপ্রাসঙ্গিক। এই রায়ের ফলে সমাজ খণ্ডিত হবে। সমীকরণের রাজনীতি আগামী দিনে বিলুপ্ত হবে। হিন্দু মন্দির ভাঙা যেমন অন্যায়, মুসলিমদের মসজিদ ভাঙাও তেমনই অন্যায়। একটি অন্যায় দিয়ে আরেকটি অন্যায়কে সংশোধন করা যায় না। দেশে কোন্‌ ধরনের রাজনীতি চলছে, সাধারণ মানুষ সব দেখছে। আমাদের আশা, আগামী দিনে বিচার–‌ব্যবস্থায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আসবে।’‌
বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান বলেন, ‘‌দোষীদের নির্দোষ প্রমাণ করা হল। মন্দির তৈরি করার সময়ে যে–‌রায় দেওয়া হয়েছিল, তার পর আর এই রায়ের কোনও গুরুত্ব থাকে না। গণতান্ত্রিক দেশে সংবাদমাধ্যম, সিবিআই এবং বিচার–‌ব্যবস্থার ওপর যদি আস্থা হারিয়ে যায়, তা হলে দেশে ভয়ঙ্কর অবস্থার সৃষ্টি হবে। দেশের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে যাবে। রাজনৈতিক ও ব্যক্তিস্বার্থে এই অবস্থার যেন সৃষ্টি না হয়।’‌
প্রদেশ যুব কংগ্রেস সভাপতি সাদাব খান এই রায়দানে অখুশি হয়েছেন। উত্তরপ্রদেশে দলিত তরুণীকে ধর্ষণ ও খুনের প্রতিবাদে যুব কংগ্রেস রাজভবন ঘেরাও করে।‌‌‌
বাবরি মসজিদ নিয়ে রায় ঘোষণার পর বিজেপি ও আরএসএস–‌‌কে তোপ দেগে রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরি বললেন, ‘আদালতের রায় হতাশাজনক। এখনও মানুষের বিচার–‌ব্যবস্থার ওপর আস্থা রয়েছে। দেশে অরাজকতা তৈরি হোক, চাইছে কেন্দ্রের বিজেপি ও আরএসএস।’‌ তিনি বলেন, ‘‌হাজার হাজার মানুষ প্রকাশ্যে বাবরি মসজিদ ভাঙল। পৃথিবীর মানুষ দেখল। অথচ অপ্রত্যাশিত রায়। মিথ্যাকে স্বীকৃতি দেওয়া হল।’‌ বুধবার মন্ত্রী মালদায় এসেছিলেন প্রয়াত মৌলানা আবদুল হাইয়ের স্মরণসভায় যোগ দিতে।

জনপ্রিয়

Back To Top