আবু হায়াত বিশ্বাস: মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানায় বিধানসভা নির্বাচন ২১ অক্টোবর। ফল ঘোষণা হবে ২৪ অক্টোবর। মহারাষ্ট্রে ২৮৮ আসন এবং হরিয়ানায় ৯০ আসনে নির্বাচন হবে। শনিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করলেন। ২১ তারিখেই বিহারের সমস্তিপুর লোকসভা আসন এবং দেশের বিভিন্ন রাজ্যের ৬৪টি বিধানসভা আসনে উপ–‌‌নির্বাচন হবে। এদিন অবশ্য ঝাড়খণ্ডের বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেনি কমিশন। বিজেপি–শিবসেনা জোটশাসিত ‌মহারাষ্ট্র ও বিজেপি–শাসিত হরিয়ানায় বিধানসভার মেয়াদ শেষ হবে নভেম্বরের গোড়ায়। নির্বাচন ঘোষণার পর দুই রাজ্যেই নির্বাচনী আদর্শ আচরণ বিধি চালু হয়ে গেল। ২৭ অক্টোবর দেওয়ালি। তার আগেই জানা হয়ে যাবে, এই দুই রাজ্যে কারা সরকার গড়ছে। এর পাশাপাশি কর্ণাটকের ১৫ বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনও হবে ২১ অক্টোবর। রাজ্যের নবগঠিত বিজেপি সরকারকে ক্ষমতা ধরে রাখতে হলে ১৫–র মধ্যে অন্তত ৭ আসন পেতে হবে।
লোকসভা নির্বাচনের প্রায় ৬ মাস পরেও বিজেপি–‌র শক্তি অটুট রয়েছে কী না তার পরীক্ষা হবে এই দুই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে। উল্টোদিকে লোকসভা নির্বাচনে বিপুল ভরাডুবির পর কংগ্রেসের কাছেও দুটি রাজ্যের নির্বাচন বড় চ্যালেঞ্জ। বিজেপি এই দুই রাজ্যের ভোটে কাশ্মীরের বিশেষ ক্ষমতা প্রত্যাহার ও দেশে নাগরিকপঞ্জি চালু করাকে প্রচারের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। শাসকপক্ষ জোরদার নির্বাচনী প্রচার কর্মসূচি শুরু করে দিলেও কংগ্রেস বা অন্য বিরোধী দলগুলিকে ‌এখনও সেভাবে প্রচারে দেখা যায়নি। প্রাক্‌নির্বাচনী সমীক্ষায় দুই রাজ্যেই গেরুয়া ঝড়ের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে মহারাষ্ট্রে শিবসেনার সঙ্গে বিজেপি–র আসনরফা নিয়ে জট এখনও কাটেনি। উল্টোদিকে কংগ্রেস ও এনসিপি–র জোট হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ইতিমধ্যেই কংগ্রেস ও এনসিপি ছেড়ে বেশ কিছু নেতা শাসক শিবিরে যোগ দিয়েছেন। 
এদিন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা জানিয়েছেন, দুই রাজ্যের নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি জারি হবে ২৭ সেপ্টেম্বর। মনোনয়ন জমার শেষ দিন ৪ অক্টোবর। মনোনয়ন যাচাই হবে ৫ অক্টোবর। ৭ অক্টোবর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। বিধানসভা নির্বাচনে একজন প্রার্থী ২৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে পারবেন। নির্বাচনী প্রচারে রাজনৈতিক দলগুলিকে পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারের আবেদন জানিয়েছেন তিনি। অরোরা এদিন বলেন, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকা গড়চিরোলি ও গোন্ডিয়ায় বিশেষ নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হবে। 
এই ভোটের সঙ্গে বাংলায় উপনির্বাচন হচ্ছে না। উৎসবের মরশুম থাকায় আপত্তি জানিয়েছিল রাজ্য। সবচেয়ে বেশি আসনে উপনির্বাচন হবে কর্ণাটক ও উত্তরপ্রদেশে, যথাক্রমে ১৫টি ও ১১টি আসনে৷
দ্বিতীয় মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম কোনও রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে। দ্বিতীয় মোদি সরকারের প্রথম একশো দিনে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ ক্ষমতা প্রত্যাহার, তিন তালাক বিল, মোটর ভেহিকলস আইনের সংশোধন–‌সহ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্র। মোদি সরকারের সাফল্য তুলে ধরে ভোটমুখী রাজ্যে প্রচারও শুরু করে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। অপরদিকে, দেশের আর্থিক বৃদ্ধির হার ক্রমশ কমছে। ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, কৃষকদের ক্ষোভকে হাতিয়ার করে লড়বে বিরোধীরা। 
২০১৪ সালে মোদি–লহরে কংগ্রেস–‌শাসিত দুই রাজ্যেই বড় জয় পেয়েছিল গেরুয়া শিবির। ২৮৮ আসনের মহারাষ্ট্র বিধানসভায় বিজেপি একা লড়ে ১২২টি আসন পেয়েছিল, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার থেকে ২৩ আসন কম। তারপর শিবসেনার সমর্থনে দেবেন্দ্র ফড়নবিশ মুখ্যমন্ত্রী হন। মহারাষ্ট্রের মতোই কংগ্রেসের আর এক গড় হরিয়ানাও সেবার বিজেপি–র দিকে যায়। হরিয়ানা বিধানসভার ৯০ আসনের মধ্যে ৪৭ আসন পেয়ে সরকার গড়েছিল বিজেপি। এবার তাদের লক্ষ্য ‘‌মিশন ৭৫’।‌ গত ১৮ আগস্ট থেকে বিজেপি হরিয়ানা জুড়ে শুরু করেছে ‘‌জন আশীর্বাদ যাত্রা’‌। সম্প্রতি ‘‌বিজয় সঙ্কল্প র‌্যালি’–‌‌তে প্রধানমন্ত্রী মোদি গিয়েছিলেন। অন্যদিকে, হরিয়ানায় ভূপিন্দর সিং হুডা, কুমারী শেলজার নেতৃত্বে কোমর বেঁধে নামছে কংগ্রেসও।‌ এদিনই কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেরা বলেছেন, ‘‌দুই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের নির্বাচনের দিন ঘোষণাকে স্বাগত জানাচ্ছি। কংগ্রেস সর্বশক্তি দিয়ে বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করবে। লক্ষ লক্ষ কর্মী ছাটাই, আখচাষিদের সমস্যা তুলে ধরা হবে। সাধরণ মানুষের ইস্যুকেই নির্বাচনী প্রচারে তুলে ধরবে কংগ্রেস।’‌ ‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top