সংবাদ সংস্থা
দিল্লি, ২০ সেপ্টেম্বর

এমন হতে পারে, এবার শীতেও দাপট কমল না করোনার। বরং শীতেই শুরু হতে পারে কোভিডের দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ। বাড়তে পারে সংক্রমণের তীব্রতাও। আগাম এমন একটি আশঙ্কার কথা শুনিয়ে রাখছেন কোনও কোনও বিশেষজ্ঞ।  
কোভিড–১৯ এমন একটা ভাইরাস, যা নাক ও গলা দিেয় শরীরে ঢুকে ক্ষতি করে শ্বাসযন্ত্রের। মানে, রোগটা মূলত শ্বাসকষ্টজনিত। একদা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে যুক্ত সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ক্লাউস স্টোহর বলেছেন, ‘শ্বাসপ্রশ্বাসের অন্যান্য রোগের সঙ্গে করোনা ভাইরাস অতিমারীর আচরণে খুব একটা ফারাক নেই। এই ধরনের রোগ প্রতি শীতেই ফিরে আসে।’ আর এখানেই থেকে যাচ্ছে সবচেয়ে বড় আশঙ্কা। ব্রিটেনের অ্যাকাডেমি অফ মেডিক্যাল সােয়ন্সেসের পূর্বানুমান হল, ২০২১ সালের জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারি মাসে সে দেশে কোভিডে সংক্রমণ ও মৃত্যু —দুটোই বাড়বে। এবং তা হবে গত শীতকালের মতোই। একইভাবে এদেশের আইআইটি ভুবনেশ্বর ও এইমসের একটি সমীক্ষা জানাচ্ছে, তাপমাত্রা কমলে তা কোভিড ছড়ানোর পক্ষে সহায়ক হবে। মানে শীতেও বিপদের আশঙ্কা বাড়বে।
গত বছর ডিসেম্বরেই চীনের উহান শহরে কোভিড–১৯ সংক্রমণের সূত্রপাত। তা ছাড়া ইতালির লম্বার্ডি এলাকায় গত বছর শীতে রহস্যময় এক নিউমোনিয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বহু বয়স্ক মানু্ষ। সেটাই করোনার আসল সূত্রপাত কিনা, সন্দেহ রয়েছে তা নিয়েও। উহান থেকে এই ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে। পৌঁছে যায় প্রত্যন্ত এলাকাতেও। তখন থেকেই এই ভাইরাসকে ভালভাবে চিনে নেওয়ার গবেষণা শুরু হয়। এবং উঠে আসে এই ঘাতক ভাইরাস সম্পর্কে নানা তথ্য।
এখন বছর ঘুরে আসতে চলল আরও একটা শীতকাল। ফলে জোরালো গবেষণা চলছে এই ভাইরাসের সঙ্গে আবহাওয়ার সম্পর্ক নিয়ে। এর আগে কয়েকটি পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছিল, ভারতে গ্রীষ্মকালে যে ধরনের তপ্ত আবহাওয়া থাকে, তাতে হয়তো কোভিড সংক্রমণ ঠেকানো যাবে। আবার অনেকে বলেছিলেন, উষ্ণ অঞ্চলের চেয়ে ঠান্ডা জলবায়ু এলাকায় ভাইরাস ছড়ায় অনেক বেশি। তবে কোনও পর্যবেক্ষণের সমর্থনেই নির্ধারক প্রমাণ মেলেনি। এখন ভারত হয়ে উঠেছে সংক্রমিতদের সংখ্যার বিচারে বিশ্বের দ্বিতীয়। এই পরিস্থিতিতে কোনও কোনও বিশেষজ্ঞ জানাচ্ছেন, আসন্ন শীতে এদেশে আগের চেয়ে বেশি মাত্রায় তীব্র দ্বিতীয় পর্বের কোভিড সংক্রমণ শুরু হতে পারে। এই দাবিরও নির্দিষ্ট কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তবে দেখা গেছে, তাপমাত্রা নীচের দিকে থাকলে এই ভাইরাস বেশিদিন টিকে থাকতে পারে। 
এই রকম একটা অনিশ্চয়তার পরিবেশেই সারা বিশ্বের গবেষক ও  চিকিৎসকরা ঝঁাপিেয় পড়েছেন যাতে দ্রুত একটা কার্যকর, নিরাপদ এবং কম দামি করোনা প্রতিরোধী টিকা বাজারে আনা যায়।‌

জনপ্রিয়

Back To Top