রাজীব চক্রবর্তী
দিল্লি, ২ অক্টোবর

হাথরসের প্রতিবাদে জনজোয়ারে ভাসল রাজধানী দিল্লি। মনে করাল ২০১২–‌‌র নির্ভয়ার কথা। শুক্রবার জেএনইউ–‌‌এর বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর আহ্বানে গণতন্ত্রপ্রেমী বিপুল সংখ্যক মানুষ রাস্তায় নেমে যোগী আদিত্যনাথ সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখালেন। সেখানে হাজির হয়ে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল দোষীদের কঠোরতম শাস্তি দেওয়ার দাবি তুললেন। এদিকে এদিনই দিল্লির পাঁচকুইয়া এলাকায় বাল্মীকি মন্দিরে গিয়ে হাথরসের মৃত নির্যাতিত মেয়েটির ন্যায়বিচারের জন্য প্রার্থনাসভায় যোগ দেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র। প্রার্থনা শেষে তিনি জানান, ‘‌আমার বোনের ন্যায়ের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।’‌
হাথরসে ১৯ বছরের দলিত মেয়েকে গণধর্ষণ করে খুন করার ঘটনায় এদিন উত্তরপ্রদেশ সরকারের শীর্ষস্থানীয় কর্তাদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চ। আদালতের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র। বলেছেন, ‘‌আদালতের নির্দেশ কঠোর ও উৎসাহজনক। হাথরসের ধর্ষিতার জন্য ন্যায়ের দাবি তুলেছে গোটা দেশ। উত্তরপ্রদেশ সরকারের অমানবিক ও অবিচারের এই অন্ধকারেও নির্যাতিতার পরিবারকে আশার আলো দেখিয়েছে আদালত।’‌ 
বৃহস্পতিবার হাথরস যাওয়ার পথে পুলিশের হাতে হেনস্থা হন রাহুল। আটক করা হয়েছিল রাহুল–‌‌প্রিয়াঙ্কাদের। তাঁদের জোর করে গাড়িতে তুলে নয়ডার কাছে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর উত্তরপ্রদেশ পুলিশ রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা–‌‌সহ দুশোজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে। তাতে ‌তাঁদের ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৮৮, ২৬৯ এবং ২৭০ ধারা ছাড়াও করোনা–কালে অতিমারী আইন ভাঙার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। গৌতম বুদ্ধ নগর থানা হিন্দি ভাষায় যে এফআইআর দায়ের করেছে, তা দেখে অবশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় হাসির রোল উঠেছে। তাতে লেখা হয়েছে, ‘‌রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি’‌। আবার প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সম্পর্কে লেখা হয়েছে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর স্ত্রী রবার্ট ভদ্র!‌
আজ ছিল ১৫১তম গান্ধী জয়ন্তী। সেই উপলক্ষে গান্ধীজিকে উদ্ধৃত করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী টুইটারে লিখেছেন, ‘‌আমরা এই বিশ্বের কাউকেই ভয় পাব না। অবিচারের কছে মাথা নোয়াব না। সত্যের শক্তি দিয়ে মিথ্যাকে পরাস্ত করব, এবং অসত্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সব প্রতিকূলতার সম্মুখীন হব।’‌ 
যোগী সরকারের এক উচ্চপদস্থ পুলিশকর্তা গতকাল মন্তব্য করেন, ‘‌সফদরজং হাসপাতালে মৃতদেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়নি।’‌ পুলিশকর্তার এই মন্তব্য সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হতেই সরকারের কর্তাদের সমন পাঠিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি রাজন রায় ও যশপ্রীত সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চ। ১২ অক্টোবর সশরীরে আদালতে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে উত্তরপ্রদেশের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং এডিজিদের।
এদিন দিল্লিতে ইন্ডিয়া গেটে প্রতিবাদ কর্মসূচি থাকলেও রাতারাতি ইন্ডিয়া গেটে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। সেই কারণে যন্তরমন্তরে গণতন্ত্রপ্রেমী প্রায় ৪০ হাজার মানুষ হাথরসের নির্যাতিতার পরিবারের জন্য ন্যায়ের দাবিতে মিছিল করেন। যোগী সরকারের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে পুলিশকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট জেলাশাসককে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি তোলেন তাঁরা। মিছিলে জেএনইউ পড়ুয়া ও শিক্ষকদের সঙ্গে যোগ দেন সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিও। তাঁদের দাবি, আইন‌শৃঙ্খলা অবনতির দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করুন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। মধ্যরাতে জোর করে নির্যাতিতার শব দাহ করার জন্য অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা হোক হাথরসের জেলাশাসক ও পুলিশ কর্তাদের। সেইসঙ্গে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও পুলিশের অপদার্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করুন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন বহু কংগ্রেস কর্মী, সমর্থকও। আন্দোলনে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালও।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top