‌সংবাদ সংস্থা: ৭৮ বছর বয়স তাঁর। শরীর অশক্ত। অথচ তুমুল বৃষ্টিতে যখন সবাই মাথা গোঁজার আড়াল খুঁজছে, নির্বাচনী প্রচারের মঞ্চে অবিচল দাঁড়িয়ে রইলেন শারদ পাওয়ার। সমর্থকদের উদ্দেশে বললেন, ‘ভুল হয়েছিল। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছি।’ কী ভুল?‌ যেখানে ছিল জনসভা, সেখানে গত লোকসভা ভোটে পাওয়ার প্রার্থী করেছিলেন শিবাজির বংশধর উদয়নরাজে ভোসলেকে। জেতেনও তিনি। কিন্তু মহারাষ্ট্র বিধানসভা ভোটের ঠিক আগেই, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি, গেরুয়া শিবিরে চলে যান উদয়নরাজে। তাঁকে টিকিট দেওয়া যে ঠিক হয়নি, সে কথা মেনে নিতে দ্বিধা করেননি প্রবীণ এনসিপি নেতা।
কিন্তু এত বয়সেও এই যে বৃষ্টির মধ্যে বক্তৃতা চালিয়ে যাওয়া, কী বার্তা দিচ্ছে এই ঘটনা?‌ যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এনসিপি প্রধানের এই জেদকে কুর্নিশ জানাচ্ছে দল। তুমুল বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেও সভা চালিয়ে যাচ্ছেন পাওয়ার, এই ছবিটা টুইটার, ফেসবুকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকে। একজন টুইট করে বলেন, ‘এই উদ্যমই পথ দেখাবে এনসিপিকে। হ্যাটস অফ পাওয়ার সাহেব।’ অন্য এক জন টুইটারে লেখেন, ‘লড়াইয়ের এই সাহস মহারাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি প্রজন্মের কাছে শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে।’ কেউ বলছেন ‘ফাইটার’। কারও আবার আশা, এই ভাবমূর্তিই সোনা ফলাবে ভোটে। ফলাবে কি না পরের প্রশ্ন, কিন্তু জোটসঙ্গী কংগ্রেসের প্রচারে ঘরের ফাটল যখন স্পষ্ট, তখন শারদ পাওয়ার যে পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছেন, তাতে সংশয় নেই।
মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার কটাক্ষ করেন শারদ পাওয়ারকে। মোদির বক্তব্য ছিল, পাওয়ার লোকসভা ভোটে লড়াই করার সাহসটুকুও দেখাতে পারেননি। শুক্রবার সেই নির্বাচনী কেন্দ্রেই তুমুল বৃষ্টির মধ্যেই এক প্রচারসভায় শারদ পাওয়ার বললেন, ‘হ্যাঁ, গত লোকসভা কেন্দ্রে দলের শক্ত ঘাঁটিতে প্রার্থী বাছাই ভুল হয়েছে।’ 
এনসিপি–‌র তরফে সাতারা বিধানসভা আসনে প্রার্থী শ্রীনিবাস পাটিল। এদিন ছিল বিধানসভা ভোটের আগে প্রচারের শেষ দিন। বিধানসভার ২৮৮ আসনে ভোট সোমবার।
ভোটের মুখে মহারাষ্ট্রে কংগ্রেসের হয়েও গলা চড়ালেন এনসিপি প্রধান শারদ পাওয়ার। অনেকে বলছেন বিধানসভা ভোটের ময়দান থেকে বেমালুম হাওয়া হয়েছে শতাব্দী প্রাচীন রাজনৈতিক দলটি। কিন্তু সে কথা নস্যাৎ করেছেন পাওয়ার। তাঁর দাবি, মহারাষ্ট্রে কংগ্রেস দুর্বল নয়। তৃণমূল স্তরে দারুণভাবে কাজ করছে কংগ্রেস।‌ তাই তাঁর অনুমান, মহারাষ্ট্রে এবার সরকার বদলে যাবে। এনসিপি আর কংগ্রেসকে ‘‌ক্লান্ত’‌ বলায় কংগ্রেস নেতা সুশীল কুমার শিন্ডেকে তুলোধোনাও করেছেন পাওয়ার।
পিটিআইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে পাওয়ার বলেন, ‘‌মাটির সঙ্গে যোগ রয়েছে মহারাষ্ট্র কংগ্রেসের। দল সংগঠিত। আমি দেখেছি বহু জায়গায় অসংখ্য কংগ্রেস কর্মী আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে কাজ করছেন। (‌বিজেপি–র সঙ্গে)‌ একমাত্র পার্থক্য প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, এবং ওদের শীর্ষ নেতৃত্ব। কিন্তু কংগ্রেসের জাতীয় স্তরের নেতাদের মধ্যে কেউই মহারাষ্ট্রের নন।’‌ 
ওদিকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (‌ইডি)‌–এর নজর রয়েছে পাওয়ারের ওপর। পৃথক একটি আর্থিক কেলেঙ্কারির মামলায় এনসিপি নেতা প্রফুল প্যাটেলকে সমন পাঠিয়েছে ইডি। পাওয়ার বলেন,  ‘‌বিরোধীদের হেনস্থা করছে এনডিএ সরকার। ভোট 
আসতেই মামলা করছে ওরা। 
অতীতে ভোটের আগে কেউ এমন পদক্ষেপ করেনি।’‌
লোকসভা ভোটে জিতলেও বিধানসভায় বিজেপি জয়ী হতে পারবে না দাবি করে বলেন, ‘‌মহারাষ্ট্রে পালাবদল হবে। বিজেপি যতই ৩৭০ ধারা রদের হাওয়া তুলুক সাধারণ মানুষ তাতে চিন্তিত নয়। ৩৭০ ধারা রদের পর কেউ কাশ্মীরে জমি কিনতেই পারেন। আগে তা সম্ভব ছিল না। কিন্তু যখন লোকজনের কাছে জানতে চাই তাঁরা কাশ্মীরে যেতে ইচ্ছুক কিনা, সেখানে চাষাবাদ করবেন কিনা, কেউই হ্যঁা বলেননি। ফলে, বিধানসভা ভোটে এই কৌশলে কাজ হবে না।’‌ 
 

জনপ্রিয়

Back To Top