সংবাদ সংস্থা
কোটি কোটি সরকারি টাকা উড়ে যাচ্ছে অতিথি মার্কিন প্রেসিডেন্টের খাতিরদারিতে। ‘‌নমস্তে ট্রাম্প’‌ মোচ্ছবের নীল নকশা চূড়ান্ত। প্রচারের ঢক্কা নিনাদের ছন্দপতন ঘটিয়ে হঠাৎ এ কী খারাপ খবর শোনাল হোয়াইট হাউস!‌ প্রথমত, যে কারণে এত আয়োজন, সেই ভারত–মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নাকি এ যাত্রায় না–‌ও হতে পারে। গোটা ব্যাপারটা ঘোর অনিশ্চিত। কিন্তু পরের খবরটা আরও অস্বস্তিকর ভারত সরকারের পক্ষে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নাকি ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন সংশোধনীর প্রেক্ষিতে ধর্মীয় স্বাধীনতা সুরক্ষিত রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দু–একটা কথা, যা তিনি জানেন, শোনাবেন। ভারতের চিরন্তন গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য রক্ষায় উপদেশ দেবেন। যদিও প্রকাশ্যে নয়, মোদিকে একান্তেই কথাগুলো বলবেন ট্রাম্প। কিন্তু হোয়াইট হাউস সেটা প্রকাশ্যে জানিয়ে দিয়ে অস্বস্তি বাড়াল মোদি সরকারের। 
২৪ ফেব্রুয়ারি ৩৬ ঘণ্টার ঝটিকা সফরে ট্রাম্প সস্ত্রীক ভারতে আসছেন। যাবেন আমেদাবাদ, আগ্রা, দিল্লি। তার আগে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেছে ‘‌ইউনাইটেড স্টেটস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম’‌। নাগরিকত্ব আইন সংশোধনীর কারণে ভারতে বিভিন্ন ধর্মের সমীকরণ কীভাবে পাল্টাতে পারে, সেই সম্ভাবনার কথা আছে পুস্তিকায়। তার প্রেক্ষিতে হোয়াইট হাউস বলেছে, গণতন্ত্র এবং ধর্মাচরণের অধিকার রক্ষা ভারত–‌আমেরিকা, দুই দেশেরই দায়বদ্ধতা। সে বিষয়ে প্রকাশ্যে এবং প্রধানমন্ত্রীকে অবশ্যই একান্তে বলবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। মনে করিয়ে দেবেন, ভারতের সংবিধানই ধর্মাচরণের অধিকার, সব ধর্মকে সমান চোখে দেখার কথা বলে। বিভিন্ন ধর্ম, ভাষা, সংস্কৃতিই ভারতের সম্প্দ। এবং লোকসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলার কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজেই। 
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সফরে বাণিজ্য চুক্তি যে হচ্ছে না, এ কথা প্রায় ধরেই নেওয়া যায়। ভারত মার্কিন পণ্যের ওপর চড়া শুল্ক রাখায় চলতি সপ্তাহে বার দুয়েক উষ্মা প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। যদিও এ–‌ও বলেছিলেন ভারতের সঙ্গে বড় কোনও বাণিজ্যিক চুক্তি করতেই পারেন। তবে আমেরিকায় সাধারণ নির্বাচনের পরে। তবে নতুন তথ্য হল দু’‌দেশের বাণিজ্যিক চুক্তি না হওয়ার কারণ দু’‌দেশের পারস্পরিক নীতি। ট্রাম্পের ‘‌আমেরিকা ফার্স্ট’‌ নীতির সঙ্গে সরাসরি সঙ্ঘাত বাধবে মোদির ‘‌মেক ইন ইন্ডিয়া’‌ নীতির। মার্কিন প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ‌‘‌মেক ইন ইন্ডিয়া’‌ নিয়ে ভারতের উদ্যোগ আমেরিকাকে চিন্তায় রেখেছে। তাছাড়া সাধারণ বাজেটে আমেরিকা থেকে আসা পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানোর কথা আছে। 
‘‌ইন্ডিয়া–‌ইউএস বিজনেস কাউন্সিল’‌–‌এর প্রধান নিশা বিসোয়াল জানিয়েছেন, ভারত–‌আমেরিকার বাণিজ্যিক চুক্তির আশা দ্রুত হারাচ্ছে। ভারতের ১৩০ কোটি জনগণের কাছে বাছাই করা মার্কিন কৃষি পণ্য ও চিকিৎসার যন্ত্র সংক্রান্ত চুক্তির উদ্যোগ মতানৈক্য থেকেই যাচ্ছে। তবে এত সত্ত্বেও বিসোয়াল বলেছেন,‌ ‘আমরা আশাবাদী হয়তো কিছু একটা চুক্তি হতেও পারে। তবে এ–‌ও জানি, দু’‌দেশের সরকারই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তা হওয়ার নয়।’‌ এ–‌ও জানিয়েছেন, এই সফরেই প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে বসে একটা বাণিজ্যিক পরিকাঠামো তৈরি করে নিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে শেষ মুহূর্ত অবধি বুঝিয়েছে ‘‌ইউএস চেম্বার অফ কমার্স’‌। বলেছে বিশ্বের দুই বৃহৎ গণতন্ত্রের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়া দরকার। ভারতে বিমা বাজারে উদারীকরণের পক্ষেও বলেছে তারা। তবে বাণিজ্যিক চুক্তি যে হবে না, তার বড় একটি ইঙ্গিত দিয়েছেন আমেরিকার বাণিজ্য বিভাগের প্রতিনিধি রবার্ট লাইটাইজার। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে রফা করছিলেন তিনি। শেষ মুহূর্তে ট্রাম্পের সঙ্গে ভারত সফর বাতিল করেছেন। 
বাণিজ্যে ঝুলি শূন্য থাকার আশঙ্কা তো আছেই। তারওপর ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়েও পরামর্শদাতার ভূমিকায় থেকে মোদির অস্বস্তি বাড়াবেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ভারতের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য, প্রতিষ্ঠানকে সম্মান করে আমেরিকা। সেসব যাতে অটুট থাকে, তার জন্য উদ্বুদ্ধ করে যাবে আমেরিকা। ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top