‌নির্মলা সীতারামন কতটা গুণী, প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয় জানেন। প্রথমে ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। সাফল্যের কথা আমাদের জানা নেই। শুধু একটা কথা মনে আছে, ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এসেছিলেন উত্তরবঙ্গে। ডুয়ার্সে বলে এসেছিলেন, সব চা–‌বাগান খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা হবে, নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। না। বাণিজ্যমন্ত্রী যা বলেছিলেন, তা করেনি কেন্দ্রীয় সরকার। বরং, বাগান শ্রমিকদের জন্য বেশ কিছু ব্যবস্থা করেছিল রাজ্য সরকার। প্রমোশন হল। হলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। যখন রাফাল বিতর্ক এল সংসদে, যিনি স্বয়ং অভিযুক্ত, সরাসরি, সেই নরেন্দ্র মোদি কিছু বলেননি। মন্ত্রকের বিশেষ কমিটির সুপারিশকে অগ্রাহ্য করে ফ্রান্সে গিয়ে চুক্তি করে এসেছিলেন মোদি। দীর্ঘ ভাষণ দিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। অনেক ফাঁক, নিন্দিত হলেন। তা হোন, উপযুক্ত!‌ এতটাই যে, সাম্প্রতিক নির্বাচনে জয়ের পর নতুন সরকারে তাঁর আরও প্রমোশন। অর্থমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী হিসেবে তিনি কী করতে পেরেছেন, দেশবাসী জানেন। তাঁর পক্ষে একটাই কথা হয়তো বলার আছে, ক্ষমতাহীন, যা করার মোদি–‌শাহই করেন। তিনি আসলে অর্থ মন্ত্রকের মুখপাত্র!‌ তবু তো মন্তব্যের দায়িত্ব নিতে হবে। সম্প্রতি বললেন, গাড়ি শিল্পে বিপর্যয়ের কারণ, তরুণ প্রজন্ম আর ইএমআই–‌এর ঝামেলায় যেতে চাইছে না, তারা ওলা–‌উব্‌র–‌মেট্রোয় যাতায়াত বেছে নিচ্ছে। অ্যাপ ক্যাব আছে মাত্র কয়েকটি শহরে। তার বাইরেও বিরাট গাড়ি বাজার, মন্দা কেন?‌ এমন তো নয় যে, বিক্রি কমেছে শুধু যাত্রী গাড়িতেই। ট্রাক, ভ্যান বিক্রিতেও ঘাটতি কেন?‌ মারুতি–‌সুজুকির কর্তা বলেছেন, অ্যাপ ক্যাব এসেছে কয়েক বছর আগে, এক বছরে বিপর্যয় এতটা কেন?‌ সীতারামন ভাবুন, যদি তরুণ প্রজন্ম গাড়ি কিনতে না চায়, তার কারণ কী?‌ প্রথমত, তারা চাকরি করলেও সবক্ষেত্রে যথেষ্ট বেতন পাচ্ছে না। দ্বিতীয়ত, সেই চাকরিতেও নিশ্চয়তা নেই। তৃতীয়ত, চূড়ান্ত অনিশ্চয়তায় পড়েছে অর্থনীতি, তরুণরা খরচ কমাতে চাইছেন। মূল সমস্যা থেকে দূরে গিয়ে আবোলতাবোল বলা বন্ধ করুন অর্থমন্ত্রী।

জনপ্রিয়

Back To Top