রাজীব চক্রবর্তী, মথুরা: ‘‌বসন্তী কো ভোট দো, হাম ডায়লগ শুনায়েঙ্গে।’‌ জনতার অনুরোধ শুনে এমনটাই বলে গেছেন অভিনেতা ধর্মেন্দ্র। তাতেই খুশি এঁরা— চউমা সর্বোদয় বিদ্যালয়ের মাঠের এক কোণে বটতলায় বসে তাস পেটানো একদল উচ্চবর্ণের ভোটার।
ক’‌দিন আগে মাঠে নেমে গম কেটে কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী। ‘‌ড্রিম গার্ল’–‌এর সেই ছবি মুহূর্তে ভাইরাল। বিশু গ্রামে পিচ রাস্তার পাশে সোনার ফসল কাটছিলেন যে কৃষক রমণীরা, তাঁদের চোখ এড়ায়নি এসি গাড়িতে ওঠার সময় অভিনেত্রী প্রার্থীর অস্বস্তিটুকু। শীলাদেবী, মোহনদেবী, লজ্জাদেবীরা জাটব। দলিত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। ভোট দেবেন অজিত সিংয়ের দল আরএলডি–‌র ‘‌টিউবওয়েল’ প্রতীকে।‌
পান‌–বিড়ির দোকানে জটলা। জাঠ, ঠাকুর, পণ্ডিত ও বানিয়া সম্প্রদায়ের চন্দ্রপাল চৌধুরি, জীবনলাল, পঙ্কজ ঠাকুর, সুশীলকুমার গুপ্তাদের ‘‌ড্রিম গার্ল’‌ তরজা তখন তুঙ্গে। ওঁরা বিজেপি সমর্থক। কথার সারমর্ম, হেমা মালিনীকে নয়, মোদিকে দেখেই ভোট দেবেন। কেন এমন বলছেন?‌ গ্রামের শেঠ সুশীলকুমার চুপিচুপি বললেন, ‘‌সত্যিটা হল, গত ৫ বছরে হেমা মালিনী মথুরায় কম, মুম্বইয়ে থেকেছেন বেশি। অনেকের রাগ থাকতে পারে। তাই এবার ভোট মোদির নামে।’‌ কোথা থেকে উদয় হলেন কাঁচাপাকা চুলের বেঁটেখাটো মূলচন্দ। ইনি বহেনজির সমর্থক। দলিত খেতমজুর। জনা পঁচিশেক বিজেপি সমর্থকের মাঝে দাঁড়িয়েও তাঁর সে কী ঝাঁজ!‌ হেমার পরিবর্তে কেন তিনি মহাজোটের আরএলডি প্রার্থী কুঁয়র নরেন্দ্র সিংকে ভোট দেবেন, যুক্তি–‌সহ তা বোঝানোর চেষ্টা করলেন। 
৪৫ জন কর্মীকে নিয়ে মদনমোহন মালব্যের স্মৃতিবিজড়িত ‘‌শ্রীমথুরা–‌বৃন্দাবন হাসানন্দ গো–চর ভূমি ট্রাস্ট’–এর গোশালায় ৭০০ গরুর দেখভাল করেন ট্রাস্টের ম্যানেজার গোপাল চতুর্বেদী। হরিদ্বার থেকে এসেছেন পশুচিকিৎসক সাহিদ সাগর। উন্নত প্রজননের মাধ্যমে দুধের উৎপাদন বাড়ানো তাঁর লক্ষ্য। চতুর্বেদী ব্রাহ্মণ। আমতা আমতা করে বলেই ফেললেন, ‘‌দেখুন মথুরা তো ধর্মস্থল, ব্রাহ্মণদের ভিড় বেশি। কংগ্রেস প্রার্থী মহেশ পাঠক ব্রাহ্মণ হওয়ায় বিজেপি–‌র ভোট কাটবেন। ক্ষতি হবে হেমা মালিনীর।’‌ 
মথুরায় সমাজের ভিন্ন ভিন্ন স্তরে ভিন্ন ভিন্ন হাওয়া। না, গতবারের মতো ‘‌মোদিঝড়’ আর নেই। তবে মানতেই হচ্ছে, এখনও এ তল্লাটে মৃদুমন্দ ‘‌মোদি বাতাস’ বইছে। ‘‌স্বপ্নকন্যা’র ভরসা সেটাই। মহাজোটের প্রার্থী আরএলডি–‌র কুঁয়র নরেন্দ্র সিং। জাঠ সম্প্রদায়ের মানুষ। তাঁর স্বচ্ছ ভাবমূর্তি চাপ বাড়িয়েছে পদ্ম শিবিরের। জাঠ ভোটে কে কতখানি ভাগ বসাতে পারে, লড়াইয়ের ফল নির্ভর করছে তার ওপরেই। হাওয়া বেগতিক হতে পারে বুঝে জাঠ সম্প্রদায়ের মুখ হিসেবে অভিনেতা স্বামী ধর্মেন্দ্রকে মাঠে নামিয়েছেন হেমা। তাতে কিছুটা কাজও হয়েছে। কংগ্রেসের প্রার্থী মহেশ পাঠক এখানে ব্রাহ্মণ ভোটে ভাগ বসাচ্ছেন। তবে ত্রিমুখী লড়াই হলেও টক্কর ‘‌পদ্ম’‌ ও ‘‌টিউবওয়েল’‌–‌‌এর।
মথুরা, আগ্রা ও ফতেপুর সিক্রিতে বৃহস্পতিবার ভোট। পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের যে ৮টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে, তার সঙ্গে অনেক অমিল মথুরার। এখানে গন্না (‌আখ) নয়, প্রধান ফসল গম। বিজেপি–‌র প্রচারের অভিমুখ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে। ড্রিম গার্লের গ্ল্যামার আর তেমন কাজ করছে না।

জনপ্রিয়

Back To Top