আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ সময় যত এগোচ্ছে, মহারাষ্ট্রের জল তত গড়াচ্ছে। ম্যাজিক ফিগার পেয়েও মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন করতে ব্যর্থ বিজেপি–শিবসেনা জোট। শুক্রবার মধ্যরাতেই মহারাষ্ট্রের বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ ইস্তফাও দিয়ে দিলেন। কিন্তু এখনও মহারাষ্ট্রে সরকার গঠনের জট খুলল না। বিজেপি-শিবসেনা সঙ্ঘাত অব্যাহত। অর্ধেক সময়ের মুখ্যমন্ত্রিত্বের দাবিতে অনড় সেনা নেতৃত্ব। সাংবাদিক বৈঠকেও শিবসেনা প্রধান উদ্ভব ঠাকরে জানিয়ে দিয়েছেন, ‘‌ভোটের আগে ৫০:‌৫০ ফর্মুলায় রাজি হয়েছিল অমিত শাহ। এখন বিজেপি ওই জোট শর্ত অস্বীকার করছে। মিথ্যেবাদীদের সঙ্গে কাজ করতে পছন্দ করি না। মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়া অন্য কোনও কিছু নিয়ে আলোচনায় রাজি নই আমরা। আমার বাবা বালাসাহেব ঠাকরেকে আমি কথা দিয়েছিলাম, একদিন শিবসেনা থেকেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হবে। আমরা এখন সেটাই চাই।’‌ শিবসেনার দাবি কোনও ভাবেই মেনে নিতে পারছে না বিজেপি। পরিস্থিতি সামাল দিতে শিবসেনার সঙ্গে কথোপকথন চালানোর চেষ্টা করছেন কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহণ মন্ত্রী নীতিন গডকরি। যদিও শিবসেনার দাবিকে কার্যত উড়িয়ে দিয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘‌যতদূর জানি মুখ্যমন্ত্রীর পদ দিয়ে অমিত শাহের সঙ্গে কোনও কথা হয়নি শিবসেনা প্রধানের।’‌ নীতিন গডকরির এই বক্তব্য সামনে আসার পরই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। 
এরই মধ্যেই আরও জোরদার হল ‘ঘোড়া কেনা-বেচা’র জল্পনা। বৃহস্পতিবারই দলের বিধায়কদের মুম্বইয়ের একটি পাঁচতারা হোটেলে রেখেছে শিবসেনা। এ বার কংগ্রেসও হোটেলবন্দি করতে শুরু করল দলের বিধায়কদের। তবে উদ্ধব ঠাকরের মতো মুম্বইয়ে নয়, রাজ্যের বাইরে জয়পুরের হোটেলে গিয়ে উঠতে নির্দেশ দেওয়া হল বিধায়কদের। নেতৃত্বের অভিযোগ, বিধায়ক কিনতে মোটা অঙ্কের টাকার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। ৯ নভেম্বরের মধ্যে মহারাষ্ট্রে কোনও রাজনৈতিক দল সরকার গঠনের দাবি না জানালে রাজ্যপাল নিজে আলোচনায় বসবেন বলে জানিয়েছেন। কারণ এদিনই শেষ হয়ে যাচ্ছে মহারাষ্ট্রের বিধানসভার কার্যকালের মেয়াদ। কাজেই মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন নিয়ে চরম উত্তেজনা পূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়ে রয়েছে। বিজেপি উপর ক্রমশ চাপ বাড়াচ্ছে শিবসেনা। এদিকে শিবসেনার অন্দরেই ভাঙন তৈরি করছে বিজেপি, দাবি সেনার।

জনপ্রিয়

Back To Top