সংবাদ সংস্থা, মুম্বই: ভারতীয় অর্থনীতির এত খারাপ অবস্থা গত ৪১ বছরে হয়নি, যা হতে চলেছে ২০২১ সালে। কারণ, করোনা সংক্রমণে লকডাউন এবং তার জেরে অর্থনৈতিক অচলাবস্থা। আগে থেকেই বেহাল ভারতীয় অর্থনীতিকে আরও গভীর মন্দায় টেনে নামাচ্ছে এই লকডাউন। বলছে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি সমীক্ষক সংস্থা গোল্ডমান সাক্স। আগে তারা বলেছিল, ২০২০–২১ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার হবে মাইনাস ০.‌৪%। কিন্তু এখন সেটা আরও কমে দঁাড়িয়েছে মাইনাস ৫%। ফলে এমন এক অর্থনৈতিক সঙ্কট আসতে চলেছে, যা ভারত সাম্প্রতিক অতীতে মোকাবিলা করেনি। সম্প্রতি ভারত সরকার বিভিন্ন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যে–সব সংস্কারের কথা ঘোষণা করেছে, তা মূলত মাঝারি মেয়াদের ব্যবস্থা, যার সুফল এখনই পাওয়া যাবে না। কাজেই খারাপ সময় আসছে।  
গোল্ডমান সাক্স–এর সাম্প্রতিক পূর্বাভাস, চলতি আর্থিক বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ভারতের গড় জাতীয় উৎপাদন, তার আগের ৩ মাসের তুলনায় বার্ষিক ৪৫% হারে কমবে। করোনা–পূর্ববর্তী সময়ে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ক্রমশ কমতে থাকার দরুন যেটা ২০% বার্ষিক হারে কমবে বলে তাদের অনুমান ছিল। লকডাউন পর্যায়ক্রমে তুলে নিয়ে অর্থনৈতিক সক্রিয়তা ক্রমশ ফিরে এলে, তৃতীয় ত্রৈমাসিকে গড় জাতীয় উৎপাদন ২০% বৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ২০২০–২১ অর্থবর্ষে ভারতের বাস্তবিক, বা প্রকৃত গড় জাতীয় উৎপাদন ৫% কমে যাবে। আগে থেকেই অর্থনৈতিক অচলাবস্থার শিকার ভারতকে আরও গভীর মন্দায় টেনে নামাবে এই লকডাউন।
গোল্ডমান সাক্স তাদের আগের পূর্বাভাসে ভারতের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আদৌ আশাবাদী ছিল না। বলেছিল, চলতি আর্থিক বছরে ভারতের গড় জাতীয় উৎপাদন ১৪% বার্ষিক হারে বাড়বে। পরের অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে যে বৃদ্ধি কমে হবে ৬.‌৫%, সেই পূর্বাভাস আপাতত একই রাখছে সংস্থাটি। এবং মনে করিয়ে দিয়েছে, ১৯৭৯ সালের পর এমন গভীর মন্দা ভারত আর দেখেনি। ১৭ মে–র একটি নোটে গোল্ডমান সাক্সের দুই অর্থনীতিবিদ প্রাচী মিশ্র ও অ্যান্ড্রু টিলডন বলেন, ‘সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পরিকাঠামোগত সংস্কারের দিকে জোর দিয়েছে ভারত। কিন্তু এই সংস্কারগুলি মূলত মাঝারি মেয়াদের, যার সুফল এখনই পাওয়া যাবে না।’‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top