আজকালের প্রতিবেদন, দিল্লি: প্রথাগত পদ্ধতিতে গড় জাতীয় উৎপাদন বা জিডিপি–র হিসেব না করে প্রয়োগ করা হয়েছিল নতুন পদ্ধতি। তার সুবাদে সম্ভাব্য গড় জাতীয় উৎপাদন যা, তার থেকে বাড়িয়ে, ফুলিয়ে–‌ফঁাপিয়ে দেখানো সম্ভব হয়েছিল। দাবি করা গিয়েছিল, দেশের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্যবৃদ্ধি হচ্ছে। ২০১১–১২ এবং ২০১৬–১৭, দু’‌বার এই নতুন পদ্ধতিতে হিসেব কষে জিডিপির হার ২.‌৫% বাড়িয়ে দেখানো হয়েছিল। যখন সম্ভাব্য জিডিপি ৭% বলে দাবি করা হয়েছিল, তা আদতে ছিল ৪.‌৫%। আর্থিক বছর দুটি ইউপিএ এবং এনডিএ সরকারের আমলে। অর্থাৎ দুই সরকারই জল মিশিয়েছিল হিসেবে। এই তথ্য ফঁাস করেছেন মোদি সরকারের প্রাক্তন মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অরবিন্দ সুব্রহ্মণ্যন। আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশিত তঁার এক গবেষণাপত্রে।
প্রথম মোদি সরকারের উপদেষ্টা পদে সুব্রহ্মণ্যনের মেয়াদ সম্প্রসারিত হয়ে মে ২০১৯ পর্যন্ত হওয়া সত্ত্বেও ২০১৮ আগস্টে ইস্তফা দেন তিনি। ততদিনে জিডিপি–‌র হার নির্ণয়ের ওই সংশোধিত হিসাব পদ্ধতিকেই নিয়মিত করে ফেলেছে মোদি সরকার। যদিও তাতে সুবিধে হয়নি। অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ক্রমশই মন্দগতি হয়েছে। ভারত চলে গেছে চীনের পেছনে। সরকারি পরিসংখ্যানই বলছে, কৃষিক্ষেত্র এবং শিল্প উৎপাদনে যথেষ্ট বৃদ্ধি না হওয়াই এর কারণ। যার পরিণতি, চলতি বছরের প্রথম ত্রৈমাসিক, অর্থাৎ জানুয়ারি–মার্চের মধ্যে বৃদ্ধির হার ৫.‌৮%, গত পঁাচ বছরে সর্বনিম্ন। সুব্রহ্মণ্যন তঁার গবেষণাপত্রে অতিরিক্ত দুটি কারণের কথা লিখেছেন। সার্বিক অর্থনৈতিক নীতির ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত কড়াকড়ি এবং অর্থনৈতিক সংস্কারে উৎসাহদান ব্যাহত হওয়া। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে এগিয়ে যেতে হলে বৃদ্ধিকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। কেন্দ্র সরকার সার্বজনিক বিকাশের যে প্রশংসনীয় নীতি নিয়েছে, তাতে অর্থের জোগান নিশ্চিত করতে হবে। এবং জিডিপি–‌র হার হিসাব করার পদ্ধতি ফের খতিয়ে দেখতে হবে। কারণ, সম্ভাব্য গড় জাতীয় উৎপাদন বাড়িয়ে দেখানো হলেও, তা কিন্তু দেশে নতুন কাজের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। চাকরির বাজার আগে যতটা খারাপ ছিল, তা–ই থেকে গেছে। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top