আজকাল ওয়েবডেস্ক: মারা গেলেন অসমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। কোভিড পরিবর্তী চিকিৎসার জন্য গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। সোমবার সকাল থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। বিকেল ৫.‌৩৪ মিনিটে মাল্টি–অর্গ্যান ফেলিওর হয়ে মৃত্যু হয় এই দুঁদে রাজনীতিকের। তাঁর মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন অসমের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা।  হাসপাতালে তরুণ গগৈয়ের ছেলে গৌরব গগৈয়ের সঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে সোমবার দেখতে গিয়েছিলেন হিমন্ত। রবিবার টানা ছয় ঘণ্টা ধরে গগৈয়ের ডায়ালিসিস চলেছিল। তাঁর রক্তচাপও ওঠানামা করছিল। গত ২৫ আগস্ট কোভিড পজিটিভ হওয়ার পর ২৬ তারিখ গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল বা জিএমসিএইচ–এ ভর্তি হন গগৈ। দুমাস পর ২৫ অক্টোবর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও ফের গত দুতারিখ কোভিড পরবর্তী জটিলতার জন্য তাঁকে ওই হাসপাতালেই ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকায় শনিবার থেকে ইনভেসিভ ভেন্টিলেশনে রাখা হয় তাঁকে। তবুও শেষরক্ষা করতে পারেনি চিকিৎসকরা। 
১৯৩৬ সালের পয়লা এপ্রিল, জোরহাট জেলার রঙ্গাজন টি এস্টেটের আদি অসমিয়া তাই–অহোম সম্প্রদায়ের পরিবারে জন্ম তরুণ গগৈয়ের। বাবা কমলেশ্বর ছিলেন ওই টি এস্টেটের চিকিৎসক। মা ঊষা ছিলেন বিশিষ্ট অসমিয়া কবি গণেশ গগৈয়ের ছোট বোন। রঙ্গাজনেই প্রাথমিক পড়াশোনা। পরে জোরহাটের জগন্নাথ বড়ুয়া কলেজ থেকে স্নাতক হয়ে গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি পাস করেন গগৈ। ১৯৭২ সালে বিয়ে করেন ডলি গগৈকে। তাঁদের দুই সন্তান চন্দ্রিমা এবং গৌরব।
১৯৭৬–এ ইন্দিরা গান্ধীর জমানায় এআইসিসি–র যুগ্ম সম্পাদক হওয়ার পরই রাজনৈতিক জীবনের উত্থান শুরু গগৈয়ের। রাজীব গান্ধীর আমলেও এআইসিসি–র সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। ১৯৭১–৮৫ সালে প্রথমবার লোকসভা ভোটে দাঁড়িয়ে জোরহাট কেন্দ্র থেকে জেতেন গগৈ। তারপর কালিয়াবর কেন্দ্র থেকে ১৯৯১–৯৬ এবং ১৯৯৮–২০০২ সালে জেতেন। ওই কেন্দ্রেরই এখন সাংসদ তাঁর ছেলে। মোট ছয়বার লোকসভার সাংসদ ছিলেন গগৈ।  পিভি নরসিংহ রাও–এর সরকারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। ১৯৯১–৯৬ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় খাদ্য এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন।
২০০১ সালে তাঁর নেতৃত্বেই অসমে জেতে কংগ্রেস। সেবারই প্রথমবার অসমের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন। তারপর ২০০৬ এবং ২০১১ সালেও তাঁর নেতৃত্বেই সরকার গড়েছিল অসমে কংগ্রেস। ২০১৪–য় গগৈ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ২০১৬–র বিধানসভা ভোটে তিনি দলকে নেতৃত্ব না–ও দিতে পারেন। সেবারই কংগ্রেসের হাত থেকে বেরিয়ে অসমের ক্ষমতা চলে যায় বিজেপির হাতে। মুখ্যমন্ত্রী হন সর্বানন্দ সোনোয়াল।    

জনপ্রিয়

Back To Top