আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ পাঁচটি কিস্তিতে প্রধানমন্ত্রী ‘‌আত্মনির্ভর ভারত’‌ প্রকল্পের ২০ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজের ব্যাখ্যা দিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। পঞ্চম দিনের সাংবাদিক বৈঠকে অর্থমন্ত্রী জানালেন, ‌প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত প্যাকেজের থেকে বেশি আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে কেন্দ্র। বললেন, অঙ্কের হিসেবে মোট ২০ লক্ষ ৯৭ হাজার ৫৩ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে এই পাঁচ দিনে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, লকডাউনের বিধ্বস্ত দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা করতে কেন্দ্রের ‘‌গুরুত্বপূর্ণ’‌ পদক্ষেপগুলি.‌.‌.‌
প্রথম কিস্তিতে মূলত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। জানান, এই শিল্পে ঋণের জন্য ৩ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ৪ বছরের জন্য এই টাকা ঋণ দেওয়া হবে। মেয়াদ থাকবে ৩১ অক্টোবর, ২০২০ পর্যন্ত। এক বছরের সুদ দিতে হবে না। ১০০ কোটি টাকার লেনদেন পর্যন্ত ২৫ কোটির ঋণ মিলবে। এতে উপকৃত হবে ৪৫ লক্ষ শিল্প ইউনিট। অনাদায়ী ঋণের চাপে কাবু ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকেও ঋণ দেওয়া হবে। এই খাতে ২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ দেওয়া হবে। এবার থেকে সরকারি কাজের ক্ষেত্রে ২০০ কোটি পর্যন্ত গ্লোবাল টেন্ডার ডাকা হবে না। ইপিএফ ১২ শতাংশের বদলে ১০ শতাংশ কাটা হবে। পাশাপাশি টিডিএস ও টিসিএস ২৫ শতাংশ কম কাটা হবে। এই সব মিলিয়ে আনুমানিক ব্যয়বরাদ্দ দেখানো হয় ৫ লক্ষ ৯৪ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। 
দ্বিতীয় কিস্তিতে কেন্দ্রের নজর ছিল পরিযায়ী শ্রমিকদের আর্থিক সহায়তার দিকে। অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেন, রেশন কার্ড ছাড়াই পরিযায়ী শ্রমিকদের আগামী ‌দু’‌মাস বিনামূল্যে খাদ্যশস্য দেওয়া হবে। যাঁরা রেশন পান, তাঁরা মাসে আরও ৫ কেজি খাদ্যশস্য বিনামূল্যে পাবেন। পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য আবাস যোজনারা আওতায় জায়গায় জায়গায় বাড়ি তৈরি হবে। সহজ শর্তে হকারদের ঋণ দিতে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে। কৃষি ঋণের পরিমাণ বাড়াতে নাবার্ডের মাধ্যমে আরও ৩০ হাজার কোটি টাকা বাজারে ঢালবে কেন্দ্র। কেন্দ্রের বক্তব্য, এতে মোট তিন কোটি কৃষক উপকৃত হবেন। সব মিলিয়ে এইবের জন্য খরচ ধার্য হয় ৩ লক্ষ ১০ হাজার কোটি টাকা।
তৃতীয় কিস্তিতে অর্থমন্ত্রী জানালেন, কৃষি, দুধ, পশুপালন, মৎস্যচাষ সহ নানা ক্ষেত্রে একাধিক সহায়তা করবে কেন্দ্র। ঘোষণা, কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়নে ১ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কৃষিজাত পণ্যের বিক্রিতে নয়া আইন আনা হচ্ছে। যে কোনও জায়গায় কৃষকরা পণ্য বিক্রি করতে পারবেন কৃষকরা। এর ফলে আন্তঃরাজ্য পণ্য পরিবহণে বাধা থাকবে না। পাশাপাশি ক্ষুদ্র খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে ১০ হাজার কোটি টাকা, ক্ষুদ্র খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে ১০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ, দুগ্ধ শিল্পের উন্নয়নে ১৫ হাজার কোটি টাকা, ভেষজ চাষে বরাদ্দ ৪ হাজার কোটি টাকা ও মৌমাছি পালনে ৫০০ কোটির বিশেষ তহবিল গড়ার ঘোষণাও হয়। এর জন্য মোট খরচ ধার্য হয়েছে ১ লক্ষ ৫০ হাজার কোটি টাকা।
চতুর্থ কিস্তিতে বেসরকারি বিনিয়োগের দিকে ঝঁুকল কেন্দ্র। অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা, বেসরকারি সংস্থাকে কয়লা উত্তোলনের ছাড়পত্র দেওয়া হবে। দেশে অস্ত্র উৎপাদনে জোর দেওয়া হবে। দেশে কিছু অস্ত্র তৈরি বাধ্যতামূলক করা হবে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বাড়িয়ে ৭৪ শতাংশ করা হচ্ছে। এছাড়াও, বিনিয়োগে অনুকূল পরিবেশের জন্য রাজ্যগুলির একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এই ধাপে ৮টি ক্ষেত্রের ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। কয়লা, খনিজ, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, বিদ্যুৎ বণ্টন, বিমান পরিষেবা, সৌর শক্তি, পারমাণবিক শক্তি, মহাকাশ ক্ষেত্রে নয়া ঘোষণা করেছেন নির্মলা সীতারমন। জানান, পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপে বিমানবন্দরের পরিচালনা ও সংস্কারের কাজ হবে। সামাজিক পরিকাঠামো নির্মাণে ৮১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে। মহাকাশ ও পারমাণবিক গবেষণায় বেসরকারীকরণ নীতি লাগু হবে।
পঞ্চম কিস্তিতে অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা, রাজ্যগুলি অতিরিক্ত ৪.২৮ লক্ষ কোটি ঋণ নিতে পারবে। সীতারামন জানান, সরকারি ক্ষেত্রে বেসরকারিকরণে সায় দেওয়া হতে পারে। সব জেলায় একটি করে সংক্রামক রোগ চিকিৎসা হাসপাতাল, হেল্থ ল্যাবরেটরি নির্মাণের ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পকে দেউলিয়া ঘোষণা করার সীমা বর্তমানের ১ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ কোটি করা হয়েছে। পাশাপাশি মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি প্রকল্পে অতিরিক্ত ৪০,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তি মিলিয়ে ব্যায় বরাদ্দ হয়েছে ৪৮ হাজার ১০০ কোটি টাকা।

 

 

 

 

জনপ্রিয়

Back To Top