সমীর ধর, আগরতলা: ত্রিপুরায় মিলল প্রথম করোনা রোগী। গোমতী জেলা–‌সদর উদয়পুরের এক মহিলার দেহে করোনাভাইরাসের দেখা মিলেছে সোমবার। ৪৫ বছরের এই মহিলা পরিবারের আরও ৮ জনের সঙ্গে গুয়াহাটির কামাখ্যায় তীর্থদর্শনে গিয়েছিলেন। ১৮ মার্চ গুয়াহাটি থেকে ত্রিপুরাসুন্দরী এক্সপ্রসে উঠে ১৯ তারিখ রাজ্যে ফিরে আসেন। ৫ এপ্রিল জ্বর, শ্বাসকষ্ট নিয়ে একটি অ্যাম্বুল্যান্সে জিবি হাসপাতালে যান। অ্যাম্বুল্যান্সের চালক এখন কোয়ারেন্টিনে। সরকারি ভাবে জানানো হয়েছে, আগরতলার জিবি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেই মহিলার চিকিৎসা চলছে। অবস্থা স্থিতিশীল। পরিবারের সদস্য এবং সংস্পর্শে–‌আসা আত্মীয়পরিজন ও প্রতিবেশী–‌সমেত ২৯ জনকে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। মহিলার বাড়ির এলাকা গোকুলপুরের চারদিকের এক কিলোমিটারের মধ্যে সব কিছু সিল করে দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের পৈতৃক বাড়ি এই উদয়পুরেই। সোমবার সবার আগে তিনি নিজেই টুইট করে খবর জানান এবং সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেন। সেদিনের ত্রিপুরাসুন্দরী এক্সপ্রসের এস-৪ এবং এস-৫ কামরায় আসা অন্য যাত্রীদের ওপর বিশেষ নজর রাখতে বলা হয়েছে। নানা গুজবের স্রোত বইছে। মহিলার নিকটাত্মীয় সূত্রে জানা গেছে, গোকুলপুর থেকে মহিলা তঁার স্বামী, দুই বিবাহিতা মেয়ে, বড় মেয়ের টিএসআরে কর্মরত স্বামী, দুই মেয়ের দুই শিশুকন্যা, আগরতলার কাছে রানির বাজারে বাপের বাড়ি থেকে নিজের বৃদ্ধা মা এবং এক ভাইয়ের সঙ্গে গুয়াহাটিতে কামাখ্যা–‌দর্শনে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে দু’‌দিন রানির বাজার বৃদ্ধিনগরে বাপের বাড়িতে কাটিয়েছেন। গোকুলপুরে বাড়িতে গিয়ে পাড়ায় ঘুরে তীর্থদর্শনের গল্প করেছেন, রেশনে গেছেন। স্বামী শহরের মূল বাজারে এবং ওষুধের দোকানে গেছেন। একান্ন পীঠের এক পীঠ বলা হয় কামাখ্যাকে। মহিলার নিজের শহর উদয়পুরের ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দির আরেক পীঠ। সেখানেও পুণ্যার্থীদের ভিড় লেগে থাকে। লকডাউনের পর বন্ধ হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, এই ধর্মীয় স্থানগুলিতে সময়মতো সতর্কতা নেওয়া হয়নি। প্রসঙ্গত, ত্রিপুরা থেকে নিজামুদ্দিনের তবলিগি জমায়েতে যাওয়া ৮ জনের দেহে আগেই করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। তবে তাঁরা কেউ রাজ্যে ফেরেননি। দিল্লি ও রাজস্থানে তঁাদের চিকিৎসা চলছে। ওই জমায়েত থেকে রাজ্যে ফিরে–‌আসা ৬৩ জনকে কোয়ারেন্টিনে রেখে পরীক্ষা করা হয়েছে। পজিটিভ পাওয়া যায়নি।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top