আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে কৃষক বিক্ষোভ। কেন্দ্র পিছু না হঠলে রাজধানীর রাস্তা অবরুদ্ধ করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কৃষকরা। এই পরিস্থিতিতে আন্দোলন দমাতে বিক্ষোভে ‘‌খালিস্তানি এবং মাওবাদী’‌–যোগের তত্ত্ব খাঁড়া করতে শুরু করল বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে কৃষক বিক্ষোভে মদত দেওয়ার অভিযোগ এনে বিজেপির আইটিসেলের প্রধান অমিত মালব্য বলেন, ‘‌দিল্লি জ্বালানোর পরিকল্পনা করছেন তিনি।’‌  
সোমবার তিনি টুইটারের লেখেন, ‘‌গত ২৩ নভেম্বরেই নয়া কৃষি আইন নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল দিল্লির কেজরিওয়াল সরকার। তা কার্যকর করাও শুরু হয়েছিল। এখন যেহেতু খালিস্তানি আর মাওবাদীরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছে, এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে দিল্লি জ্বালানোর কথা ভাবছেন তিনি। কৃষকদের নিয়ে কখনই ভাবেননি তিনি। শুধু রাজনীতিই করেছেন!‌’‌ 
পাল্টা বিবৃতি জারি করে আম আদমি পার্টির তরফে জানানো হয়, ‘‌আপ সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা আছে, কৃষকেরা মান্ডির বাইরেও নিজেদের ফসল বেচতে পারবেন। মান্ডি ব্যবস্থা এখনও রয়েছে দিল্লিতে। কৃষকরা তার বিরোধিতা করছেন না। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, ফসলের ন্যূনতম সহায়ক নিশ্চিত করতে হবে। আমরা এই দাবিকে সমর্থন করি।’‌ আপ নেতা রাঘব চাড্ডা বলেন, ‘‌কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো মানে যদি রাজনীতি করা হয়, তাহলে তাই। কেন্দ্র চাইলে এক মিনিটেই সমস্যার সমাধান করতে পারে।’‌ 
কৃষক বিক্ষোভে খালিস্তানি–যোগের তত্ত্ব নিয়ে আগেই সরব হয়েছিলেন হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খাট্টার। বলেছিলেন, ‘‌‘‌যারা বিক্ষোভ দেখাচ্ছে, তাদের মধ্যে কিছু অবাঞ্ছিত লোকজন আছে। আমাদের কাছে খবর আছে, এরা উল্টোপাল্টা স্লোগান দিচ্ছে। এমন ভিডিও পাওয়া গেছে, যেখানে এরা বলছে– ‘‌যদি ইন্দিরা গান্ধীর ওই অবস্থা করতে পারি, তা হলে... (মোদিকে ছাড়া হবে কেন!)’‌’‌ উত্তরাখণ্ডের বিজেপি নেতা দুষ্মন্ত কুমার গৌতম বলেন, ‘‌বিক্ষোভে নেই কৃষকরা। জঙ্গি, দেশদ্রোহীরা গোটা আন্দোলন হাইজ্যাক করে নিয়েছে। ঝকঝকে গাড়ি চড়ে আর চকমকে জামাকাপড় পরে যাঁরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, তাঁরা কৃষক হতে পারেন না।’‌
এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কৃষক–বিক্ষোভ প্রসঙ্গে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে কৃষকদের যে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েই তাঁদের ভ‌য় মূলত। তাই এবারও তাঁরা কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে সন্দেহ প্রকাশ করছেন। আমি গঙ্গার তীরে দাঁড়িয়ে বলছি, আমাদের উদ্দেশ্য কৃষকদের ঠকানো নয়। তা গঙ্গার জলের মতো পবিত্র। যদি কেউ মনে করেন, পুরনো ব্যবস্থাই ভাল ছিল, তাহলে এই আইন কোথায় তাতে বাধা দিচ্ছে?‌ যেখানে ইচ্ছে, তাঁরা ফসল বেচতে পারবেন। অনেক লাভ হবে তাঁদের। আগে বাইরের মান্ডিতে ফসল বেচা যেত না। ছোট চাষীরা তাতে সমস্যায় পড়তেন।’‌ কিন্তু কৃষকদের মূল দাবি যে মান্ডি নিয়ে নয়, তা তাঁরা আগেই জানিয়েছেন। তাঁদের মূল বক্তব্য, ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (‌এমএসপি)‌ নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সরকারের উদ্দেশ্য যদি এতটাই ‘‌পবিত্র’ হয়, তাহলে ফসলের‌ এমএসপি বেঁধে দিতে তাদের সমস্যা কোথায়?‌


 

জনপ্রিয়

Back To Top