আজকাল ওয়েবডেস্ক: আর্থিক অনটনে আগেই ধুঁকছিল দুই সরকারি সংস্থা৷ এবার সেই দুই সরকারি টেলিকম সংস্থা বিএসএনএল এবং এমটিএনএল-কে বন্ধ করে দেওয়ার প্রস্তাব দিল কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক৷ একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, এই দুই সংস্থাকে আর্থিক সাহায্য দিতে রাজি নয় অর্থমন্ত্রক৷ তাই ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড (বিএসএনএল) এবং মহানগর টেলিফোন নিগম (এমটিএনএল) বন্ধের প্রস্তাব দেওয়া হল৷ গত কয়েক বছর ধরেই অর্থাভাবে ধুঁকছে বিএসএনএল। বেসরকারি টেলিকম সংস্থার চমকপ্রদ অফারের জেরে ক্রমশ বাজার হারিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা। বর্তমানে বিএসএনএলের অবস্থা খুবই শোচনীয়। প্রতি মাসে আয় এবং ব্যয়ের মধ্যে বিশাল ফারাক থাকছে। আর্থিক সাহায্য এখনই না পেলে সংস্থা চালানো কার্যত অসম্ভব হয়ে যাবে।অতিরিক্ত কর্মচারী, বিপুল বেতন এবং খারাপ ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কারণে অকারণে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপকেও বিএসএনএলের বর্তমান দুর্দশার জন্য জন্য দায়ী করা হচ্ছে। তাছাড়া গ্রাহকও আগের তুলনায় কমছে টেলিকম সংস্থাটির। যা জেরে সমস্যা আরও বাড়ছে৷ তবে এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের দ্বারস্থ হয়েও কোনও লাভ হচ্ছে না বিএসএনএল-এর। সরকারের টেলিকমিউনিকেশন দপ্তরের তরফে অর্থমন্ত্রককে সুপারিশ করা হয়েছে, বিএসএনএলকে বাঁচাতে এখনই অন্তত ৭৪ হাজার কোটি টাকা সরকারি বিনিয়োগ প্রয়োজন। অন্যদিকে, বিএসএনএলকে যদি বন্ধ করে দেওয়া হয় তাহলে কর্মচারীদের ক্ষতিপূরণ দিতেও এই খরচের কাছাকাছি খরচ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও টেলিকম দপ্তরের দাবি, এই মুহূর্তে সংস্থা বন্ধ করতে গেলে খরচ হবে ৯৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রকের হিসেব বলছে, বিএসএনএলের কর্মীদের ক্ষতিপূরণ বাবদ যে টাকা খরচের কথা বলা হচ্ছে, বাস্তবে তার চেয়ে অনেকটাই কম খরচ হবে। স্বাভাবিকভাবেই ভগ্ন সংস্থাকে না বাঁচিয়ে তাঁকে বন্ধ করে দেওয়ায় শ্রেয় মনে করছে অর্থমন্ত্রক। যাঁরা বিএসএনএলের স্থায়ী কর্মী, তাদের সরকারের তরফে জরিমানা দিয়ে স্বেচ্ছাবসরের প্রস্তাব দেওয়া হবে। এবং যাদের যাদের অন্য সরকারি সংস্থায় চাকরি দেওয়া সম্ভব, তাদের অন্য সংস্থায় চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। এই মুহূর্তে বিএসএনএলের কর্মী সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ ৬৫ হাজার। বিএসএনএলের পাশাপাশি এমটিএনএলের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আর অর্থমন্ত্রকের এই প্রস্তাবের পরেই কপালে চিন্তার ভাঁজ দুই সংস্থার কর্মচারীদের৷

জনপ্রিয়

Back To Top