সংবাদ সংস্থা, দিল্লি, ২ জুন- বর্ষা নামার আগে, জুন মাসে মহারাষ্ট্রের উপকূলে ঘূর্ণিঝড়? যবে থেকে এ দেশে আবহাওয়ার নথি রাখা হচ্ছে, সেই নথিতে এমন কোনও রেকর্ড নেই। জানাচ্ছেন জলবায়ু বিজ্ঞানীরা। বুধবার আছড়ে পড়ার পর নিসর্গ–‌ই হবে জুন মাসে মহারাষ্ট্রের উপকূলে সর্বপ্রথম ঘূর্ণিঝড়। জানিয়েছেন ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মেটেরিওলজির জলবায়ু বিজ্ঞানী রক্সি ম্যাথু কোল। তবে তঁাকে সামান্য সংশোধন করে দিয়েছেন আরেক গবেষক বিনীত কুমার। তঁার দাবি, অতীতে মাত্র একবারই বর্ষার আগে মহারাষ্ট্র উপকূলে ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়েছিল। সেটা ছিল ১৯৬১ সালের মে মাস। তবে প্রথম হোক বা দ্বিতীয়, মহারাষ্ট্রের উপকূলে বর্ষার আগেই নিসর্গ–‌র আবির্ভাব কিন্তু আবহাওয়ার ইতিহাসে ব্যতিক্রমী ঘটনা। ঠিক যেমন মে মাসে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে তীব্র ঘূর্ণিঝড় আমফানের আছড়ে পড়াও উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম। অসময়ে বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরের উপকূলে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের আবির্ভাব তাই জলবায়ু পরিবর্তনের সূচক বলে দাবি গবেষকদের। তঁারা অবশ্য এজন্য দায়ী করছেন পরিকল্পনাহীন নগরায়ণ ও নির্বিচার ম্যানগ্রোভ অরণ্য ধ্বংসকেই। তঁাদের বক্তব্য, এই দুটি কারণেই ঘন ঘন এবং আরও শক্তিশালী হাওয়ার দাপট–সহ দেখা দিচ্ছে নানা তীব্রতার সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড়।
বিজ্ঞানীরা আগেই লক্ষ্য করেছিলেন, আরব সাগরে বর্ষার পর সাইক্লোনের প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। এখন দেখা যাচ্ছে, প্রাক্‌–‌বর্ষার মরশুমেও ঘূর্ণিঝড় বাড়ার বিষয়টি স্পষ্ট। তঁাদের বক্তব্য, আবহাওয়া বদলের কারণে ভবিষ্যতে আরও বেশি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের আবির্ভাব ঘটবে। জলবায়ু বিজ্ঞানী রক্সি ম্যাথু কোল জানান, আমফান ও নিসর্গ, দুটি ঝড়কেই বেশি শক্তি জুগিয়েছে সাগরের উষ্ণ জলতল। আমফানের আগে বঙ্গোপসাগরের জলতলের তাপমাত্রা ছিল ৩০ থেকে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবার আরব সাগরের যে–‌নিম্নচাপ থেকে নিসর্গ–‌র উৎপত্তি, দেখা গেছে, তারও জলতলের তাপমাত্রা ৩০ থেকে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
রাষ্ট্রপুঞ্জের সংস্থা ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ–‌এর রিপোর্ট উল্লেখ করে হায়দরাবাদের জলবায়ু বিজ্ঞানী অঞ্জন প্রকাশ বলেন, ‘সমুদ্রের জলতলের উষ্ণতা বাড়লে সাইক্লোন ও বৃষ্টিপাত বাড়বে, সাগরে প্রবল ঢেউ উঠবে, সমুদ্রের জলতলের উচ্চতাও বাড়বে এবং এর জেরে উপকূলে বিপদ বাড়বে।’ প্রকাশের মতে, এ–সবের ফলে ঝামেলায় পড়বে যে–‌সব এলাকা, তার মধ্যে রয়েছে মুম্বইও। আবার বিভিন্ন গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, জলবায়ু বদলের জেরে প্লাবিত হওয়ার সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা মুম্বই ও কলকাতার। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভবিষ্যতের দুর্যোগের মোকাবিলায় এখন থেকে নানা ধরনের গাছ আরও বেশি লাগাতে হবে, জলের স্রোত নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, বন্যা ও ঝড়ের দাপটে সাগরের জল যাতে ক্ষতি করতে না পারে, সেজন্য ‘‌বাফার জোন’‌ গড়তে হবে।

জনপ্রিয়

Back To Top