সংবাদ সংস্থা, দিল্লি, ২ জুন- ‌বিধ্বংসী আমফানের পর দু’‌সপ্তাহ না–‌কাটতেই ধেয়ে আসছে আরেক ঘূর্ণিঝড় ‘‌নিসর্গ’‌। আসছে মহারাষ্ট্র ও গুজরাটে আরব সাগরের উপকূলের দিকে।
মঙ্গলবার গোয়ার পাঞ্জিম থেকে ২৮০ কিলোমিটার, মুম্বই থেকে ৪৮০ কিলোমিটার ও সুরাট থেকে ৬৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ–‌পশ্চিমে ঘনীভূত ছিল এই ঝড়। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, এদিন ভোরে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত–‌হওয়া এই নিম্নচাপ আগামী ১২ ঘণ্টায় তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের চেহারা নেবে। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের অধিকর্তা মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, বুধবার বেলা তিনটে নাগাদ তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘‌নিসর্গ’‌ মহারাষ্ট্রের রায়গড়া জেলার হরিহরেশ্বর ও দমনের মাঝামাঝি এলাকায় স্থলভূমিতে প্রবেশ করবে। জায়গাটা মুম্বই থেকে ৯৪ কিলোমিটার দক্ষিণে, আলিবাগের কাছাকাছি। সেই সময় ঝড়ের গতি হবে ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত। কখনও কখনও দমকা, ঝোড়ো হাওয়ার দাপট পৌঁছোবে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটারে। তিনি জানিয়েছেন, ঝড়ের ফলে গুজরাট উপকূলের চেয়ে বেশি ক্ষতি হবে মুম্বই–সহ মহারাষ্ট্রের উপকূলীয় জেলাগুলির। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সিন্ধুদুর্গ, রত্নগিরি, ঠানে, রায়গড়া, মুম্বই ও পালঘর এলাকা। ঝড়ের দাপটে সমুদ্রের জল এক থেকে দু’মিটার পর্যন্ত ফুলেফেঁপে উঠবে। এর জেরে মুম্বই, ঠানে ও রায়গড়া জেলার নীচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা। মহাপাত্র সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ঝড়ে ক্ষতি হতে পারে গাছ, টেলিফোনের তার ও বিদ্যুতের খুঁটির। ইতিমধ্যেই ওই সব উপকূলের মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। বিপর্যয়ের আশঙ্কায় আগাম নামানো হয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ৩১টি দলকে। ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাসের পরেই মহারাষ্ট্রের উপকূলীয় জেলাগুলি ছাড়াও, দমন, দাদরা ও নগর হাভেলির সিলভাসা ও গুজরাটের ভালসাদে বন্যার সতর্কতা জারি করেছে কেন্দ্রীয় জল নিগম। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কেরল, লাক্ষাদ্বীপ, উপকূলীয় কর্ণাটক, গোয়া, মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। জলবায়ু বিজ্ঞানী রক্সি ম্যাথু কোল বলেন, ‘বর্ষার পর আরব সাগরে ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যাবৃদ্ধি আমরা আগেই লক্ষ্য করেছি। এবার কি তা হলে প্রাক্‌–‌বর্ষা ঘূর্ণিঝড়ও বাড়ছে? দেখা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আরব সাগরে বর্ষা নামার ঠিক আগেই ঘূর্ণিঝড় বাড়ছে। তবে জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলেই এটা ঘটছে কি না, তা খতিেয় দেখা হচ্ছে।’ আসন্ন ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলায় আগাম পদক্ষেপ করতে শুরু করেছে মহারাষ্ট্র সরকার। মঙ্গলবারই মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজের জন্য রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ১০টি দল। তৈরি রাখা হয়েছে আরও ৬টি দলকে। মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে টুইটে জানানো হয়েছে, মুম্বই শহর ও সংলগ্ন এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কঁাচা বাড়িতে থাকা লোকজনকে নিরাপদ জায়গায় সরানো হচ্ছে। কোভিডের চিকিৎসা হচ্ছে না, এমন হাসপাতালগুলিকে তৈরি থাকতে বলা হয়েছে। 

 ক্রেন দিয়ে তটভূমি থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে জলযান। মুম্বইয়ে। ছবি: এএফপি

জনপ্রিয়

Back To Top