সমীর ধর, আগরতলা, ২৪ ফেব্রুয়ারি- ত্রিপুরা বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে ধরাশায়ী বিজেপি। সেইসঙ্গে উঠে এল নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জল্পনা। ত্রিপুরায় চিরকালের শত্রু সিপিএম আর কংগ্রেস কি কাছাকাছি আসতে শুরু করেছে? আইনজীবীদের ভোট হলেও রাজ্য রাজনীতির ময়দানে এই ঘটনাটি নিয়ে প্রতি বছরই টানটান উত্তেজনা থাকে। রবিবার রাতে এবারের ভোট গণনার পর ফল ঘোষণা হতেই নতুন সমীকরণের জল্পনা জোরালো হয়ে ওঠে। সিপিএম আর কংগ্রেস জোট বেঁধে ‘‌সংবিধান বাঁচাও মঞ্চ’‌ নামে লড়াই করে বিজেপি–কে ১৫টি আসনের ১২টিতেই পরাস্ত করেছে। নতুন সভাপতি হয়েছেন মৃণালকান্তি বিশ্বাস, সম্পাদক কৌশিক ইন্দু। ৫ কর্মকর্তার পদের একটাও পায়নি গেরুয়া শিবির। বিপ্লবকুমার দেব সরকারের কপালে একটার পর একটা ভাঁজ গভীর হচ্ছে। সিপিএম রাজ্য সম্পাদক গৌতম দাশ বললেন, ‘‌দেশের গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষায় এবং রাজ্যে  আইনের শাসন ফেরানোর প্রশ্নে মানুষের মনোভাব এই ফলে প্রতিফলিত হয়েছে।’‌‌ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পীযূষকান্তি  বিশ্বাসের মতে, ‘‌সংবিধান ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা ঘোষিত হয়েছে।’‌ 
সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন জনপ্রিয় প্রশ্ন, ২০২৩–‌এ ত্রিপুরার বিধানসভা ভোটেও কি বিজেপি–কে হারাতে সিপিএম–‌কংগ্রেস সমঝোতা হতে চলেছে?‌ কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা তাপস দে বলেন, ‘‌এটা ট্রেলার। দেশের শত্রু বড় শত্রু। তাকে হারাতে ছোট শত্রুর সঙ্গে হাত মেলানো যেতেই পারে।’‌ সিপিএম নেতা পবিত্র কর বললেন, ‘‌কংগ্রেসের সঙ্গে কী হবে সেটা এখন বলার সময় আসেনি। সময়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হবে।’‌ এই বিষয়টা নিয়ে পাল্টা আক্রমণে বিজেপি। শাসক দলের রাজ্য মুখপাত্র নবেন্দু ভট্টাচার্য বলেন, সিপিএম আর কংগ্রেস যে গোপনে বন্ধু, আমরা আগেও বলেছি। বার নির্বাচনে বোঝা গেল, বামেদের আমলে কংগ্রেস আসলে সিপিএমের বেতনভোগী বিরোধী দল ছিল।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top