আজকাল ওয়েবডেস্ক: করোনা ভাইরাস নিয়ে সারা বিশ্ব জুড়ে যখন তোলপাড় হচ্ছে, হিন্দু মহাসভার জাতীয় সভাপতি স্বামী চক্রপানি তখন বলছেন, করোনা ভাইরাস চীনে ‘অবতার’ হিসাবে দেখা দিয়েছে। আমিশাষী মানুষজনের ক্ষেত্রে। তাঁরা নিরীহ পশুপাখি মেরে খান, তাই তাঁদের এই অভিশাপ ভোগ করতে হচ্ছে। তাঁদের সঙ্গে এটাই হওয়ার ছিল! এটা তাঁদের শাস্তি। তাঁর কথায় ‘করোনা আসলে কোনও ভাইরাসই নয়। অবলা প্রাণীদের রক্ষা করার জন্য এই অবতার এসেছে। যাঁরা এদের মেরে খায়, তাঁদের শাস্তি দিতেই এই অবতার এসেছে।’ অবিশ্বাস্য হলেও তিনি তাঁর বক্তব্যের ক্ষেত্রে যুক্তি দিয়েছেন, পুরাণে নৃসিংহ অবতার যেভাবে অশুভশক্তিকে শেষ করেছিল, সেভাবেই নাকি এই অবতার এসেছে অবলা প্রাণীদের রক্ষা করতে। তাই চীনের মানুষজন যতদিন না এই আমিষের অভ্যাস ছাড়বেন, ততদিন তাঁদের এই মহামারীর জ্বালা ভোগ করতেই হবে। 
তিনি মনে করেন, চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিংপিংয়ের এই মুহূর্তে উচিত করোনার একটি মূর্তি বানিয়ে তাঁর পুজো শুরু করা, তাঁর কাছে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া এতগুলো বছরের এই ভুলের জন্য। তাহলেই একমাত্র এর থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। বাকি চীনের সাধারণ মানুষের এখনই শপথ করা উচিত, যে তাঁরা আর নিরীহ, অবলা প্রাণী মেরে খাবেন না। তাঁর মতে এই পথেই একমাত্র ওই ভাইরাসের অবতার নিজের গ্রহে ফিরে যেতে পারে। মুক্তি পেতে পারে সাধারণ মানুষজন। ভারতীয়দের এক্ষেত্রে কোনওভাবেই চিন্তার কারণ নেই বলেই তিনি মনে করছেন। ‘গরুর পুজো করেন যাঁরা, তাঁদের এনিয়ে কোনও চিন্তার দরকার নেই’, এটাই তিনি মনে করছেন। যদিও এখনও পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন যাঁরা, তাঁদের মধ্যে তিনজন ভারতেরই।
তবে তথ্য বলছে, রবিবার পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মোট ৬৯,২৬৮ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত, যাঁদের মধ্যে ৬৮৫০০ জনই চীনের বাসিন্দা। ১৬৭০ জন মারা গেছেন এই রোগে, ১৬৬৬ জনই চীনের। 
‘পেটা’-র মতো অবলা প্রাণীদের অধিকার রক্ষাকারী সংস্থা বলছে, এই ভাইরাস নির্দিষ্ট কিছু প্রাণী থেকেই ছড়াচ্ছে। মূলত চীনের উহানের বাজারে যে মাংস বিক্রি করা হয় বা সেখানে যে পশুপাখি রয়েছে, সেগুলোর সংস্পর্শে যাঁরা আসছেন, তাঁদের মধ্যেই এই ভাইরাসের প্রভাব দেখা গেছে। তবু হিন্দু মহাসভার জাতীয় সভাপতি স্বামী চক্রপানির বক্তব্যে তাঁরা অবাক।

‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top