আজকালের প্রতিবেদন, দিল্লি: একজন করোনা আক্রান্ত যত্রতত্র ঘুরে বাড়ালে মাত্র ৩০ দিনে ৪০৬ জন মানুষকে সংক্রামিত করতে পারেন। যা দেশকে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারে। তাই করোনা–‌‌যুদ্ধে রোগীকে চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার মতোই লকডাউন জারি রাখা অত্যন্ত জরুরি। এক সমীক্ষার পর কেন্দ্রীয় সরকারকে এই তথ্য দিয়েছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ বা আইসিএমআর। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক। এদিকে, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোভিড–‌‌১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৫০৮ জন, মারা গিয়েছেন ১৩ জন। সংক্রামিতের সংখ্যা গতকালের চেয়ে কিছুটা কম। গতকাল এক দিনে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৭০৪। সেটাই ছিল চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষের সংক্রামিত হওয়ার রেকর্ড। এ যাবৎ দেশে মৃতের সংখ্যা এখন দাঁড়িয়েছে ১২৪। দেশে এখনও অবধি কোভিড–‌‌১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৭৮৯ জন। মঙ্গলবার সন্ধে ছ’‌টায় এই তথ্য জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক।
মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব লব আগরওয়ালের কথায়, ‘করোনা মোকাবিলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলির নেওয়া পদক্ষেপের সুফল মিলছে। কিন্তু আশঙ্কার বিষয় হল, কোনও এক করোনা আক্রান্ত যদি সামাজিক দূরত্বের নিয়ম না মানেন, তাহলে এক মাসে কমপক্ষে ৪০৬ জনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে দিতে পারেন। করোনা সংক্রমণের গতিবিধির ওপর সমীক্ষা চালিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ।’‌ আইসিএমআর-‌এর মুখ্য বৈজ্ঞানিক রামন গঙ্গাখেদকর জানিয়েছেন, ‘‌এখনও পর্যন্ত দেশে ১,০৭,০০৬ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১১,৭৯৫ জনের পরীক্ষা হয়েছে।’‌ স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, গত ১৫–‌‌২০ মার্চের মধ্যে গড়ে প্রতি ৫ দিনে ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছিল। কিন্তু, তারপর ২০–‌‌২৩ মার্চের মধ্যে গড়ে ৩ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। এরপর ২৩–‌‌২৯ মার্চের মধ্যে করোনা রোগীর বৃদ্ধির হার অনেকটা কমেছিল। তারপর ২৯ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিলের মধ্যে করোনা রোগীর সংখ্যা প্রতি ৪ দিনে দ্বিগুণ হয়েছে। 
করোনা রুখতে কেন্দ্রীয় সরকার কী কী পদক্ষেপ করেছে?‌ মন্ত্রক জানিয়েছে, করোনা দমনে ক্লাস্টার ম্যানেজমেন্ট পদ্ধতি প্রয়োগ করে সাফল্য এসেছে আগ্রা, গৌতমবুদ্ধ নগর, পাতানামথিত্তা, ভিলওয়াড়া এবং পূর্ব দিল্লিতে। এখন একই কৌশল নেওয়া হচ্ছে মুম্বইতেও। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের একটি সূত্র জানাচ্ছে,  লকডাউনের প্রথম ১৩ দিনে বিশ্বের অন্য দেশের তুলনায় ভারতে করোনা সংক্রমণের হার অনেকটাই কমিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু, নিজামুদ্দিন মরকজের পরবর্তী পরিস্থিতিতে আরও বেশি টেস্ট করার প্রয়োজন। এর কারণ হল, মরকজ থেকে মানু্ষ সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে গিয়েছেন, এবং বহু মানুষ জেনে বা না–জেনে তাঁদের সংস্পর্শে এসেছেন। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top