আজকালের প্রতিবেদন: পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের মানুষকে উদ্বেগের মধ্যে রেখে মঙ্গলবারই কোভিডে মৃতের সংখ্যা ১০ লক্ষ ছাড়িয়ে গেল। টানা ৯ মাস কোভিড সংক্রমণে বিধ্বস্ত বিশ্ব‌–‌অর্থনীতি। সংক্রমণ বদলে দিয়েছে মানুষের জীবনযাত্রা, শিক্ষা ও কাজের পদ্ধতি। এই ভাইরাস নতুন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে রাজনীতিকদের সামনে। শুরু হয়ে গেছে বিজ্ঞান ও রাজনীতির লড়াই। 
হাওয়ার্ড মার্কেল। ইউনিভার্সিটি অফ মিশিগানের মেডিক্যাল হিস্ট্রির অধ্যাপক। অতিমারী নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন দেশের সরকারকে পরামর্শ দেওয়াই তঁার কাজ। কোভিডে হারিয়েছেন ৮৪ বছরের মাকে। তঁার কথায়, ‘যঁারা মারা গেছেন তঁারা শুধু কতকগুলো সংখ্যা নন। তঁারা মানুষ। আমাদের অত্যন্ত প্রিয়জন। আমাদের ভাই, বোন বা আত্মীয়।’ এই অধ্যাপকের কথায় ফুটে উঠেছে অতিমারী নিয়ে গভীর উদ্বেগ। জন্‌স হপকিন্স ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা জানিয়েছেন মৃতের সংখ্যার আসল গুরুত্ব। তঁারা জানিয়েছেন, জেরুজালেম বা টেক্সাসের অস্টিনে যত লোক বাস করেন, কোভিডে মৃতদের সংখ্যা তঁাদের চেয়ে বেশি। ১৯৬৯ সালে আমেরিকার উডস্টারে যত লোক বাস করতেন, কোভিডে মৃতের সংখ্যা তার আড়াই গুণ। ২০০৪ সালে ভারত মহাসাগরে ভূমিকম্প ও সুনামিতে যত লোক মারা গিয়েছিলেন, কোভিডে এ–‌পর্যন্ত মৃত তার চারগুণ। আর এই সংখ্যাটিও সম্পূর্ণ নয়। কারণ পরীক্ষা ঠিকমতো না হওয়ায় সংক্রমিত ও মৃতের সংখ্যায় অসঙ্গতি থেকে যাচ্ছে। মৃতের সংখ্যা কম করে দেখানোর প্রবণতাও রয়েছে। এখনও প্রতিদিন গড়ে এই রোগে ৫ হাজার জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে দুনিয়া জুড়ে। আমেরিকায় কোভিডে মৃত ২ লক্ষ ৫ হাজার। মানে, বিশ্বে কোভিডে মৃত প্রতি ৫ জনের একজনই মার্কিন নাগরিক। অথচ বিত্তে ও সম্পদে এই দেশই পৃথিবীর সেরা। ইওরোপের একাংশে শুরু হয়েছে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ। আমেরিকার সামনেও একই আশঙ্কা। ফলে আসন্ন শীতে সংক্রমণের আরেক পর্ব নিয়ে শঙ্কিত গোটা বিশ্ব।
দেশে কমল সংক্রমণ ও মৃত্যু, বাড়ল সুস্থতা 
এদিকে, ভারতে দৈনিক সংক্রমিতের সংখ্যা ৮০ হাজারের ওপরে থাকছিল। সেই সংখ্যা অনেকটাই কমেছে গত ২৪ ঘণ্টায়। করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার সংখ্যাও বাড়ল দেশে। কমল সংক্রমণের হার। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্যানুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৮৪,৮৭৭ জন। আর আক্রান্ত হয়েছেন ৭০,৫৮৯ জন। কমেছে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যাও। গত এক মাস ধরে দৈনিক হাজারের বেশি করোনা–‌আক্রান্তের মৃত্যু হলেও, এদিন সেই সংখ্যা কমে হয়েছে ‌‌৭৭৬।‌‌ নীতি আয়োগের সদস্য ভি কে পাল বলেছেন, করোনা সংক্রমণ অনেকটাই রুখে দেওয়া গেছে। নিয়মিত নজরদারি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলায় সংক্রমিতের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। তবে ফের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, উৎসবের মরশুমেও মাস্ক পরতে হবে। পুজো, ছট, দেওয়ালিতে বড় জমায়েত না করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
এদিন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব রাজেশ ভূষণ জানান, প্রতি ১০ লক্ষ জনসংখ্যায় ভারতে করোনা–আক্রান্তের সংখ্যা বিশ্বের অন্য দেশগুলির থেকে অনেক কম। প্রতি ১০ লক্ষে ভারতে করোনা–‌আক্রান্ত ৪,৪৫৩ জন। সেই সংখ্যাই ব্রাজিলে ২২,১৯৬, আমেরিকায় ২১,১৭৫। ভূষণ জানান, ৫১ লক্ষের বেশি মানুষ করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন। সুস্থতার নিরিখে বিশ্বে এখনও ভারত শীর্ষে। মোট ৭ কোটি ৩০ লক্ষ নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসেই হয়েছে ২ কোটি ৯৭ লক্ষ নমুনা পরীক্ষা। গত সপ্তাহে ৭৭.‌৮ লক্ষ নমুনা পরীক্ষা হয়েছে দেশের গবেষণাগারগুলিতে। করোনা–‌মৃত্যুর অডিট করতে রাজ্যগুলিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। মহারাষ্ট্র ও অন্ধ্রপ্রদেশেও এখন করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা অনেকটাই কম হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। 
স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য বলছে, দেশে সুস্থতার হার ৮৩.‌১ শতাংশ। আর সক্রিয় কেস রয়েছে ৯,৪৭,৫৭৬টি। অর্থাৎ মোট আক্রান্তের ১৫.‌৪ শতাংশ সক্রিয় করোনা–‌রোগী রয়েছেন। দেশে এ–‌যাবৎ করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৯৬,৩১৮ জনের। মৃত্যুর হার ১.‌৬ শতাংশ। সক্রিয় করোনা–‌রোগীর রাজ্যওয়ারি তালিকায় শীর্ষে রয়েছে মহারাষ্ট্র। এখনও ২,৬৫,৪৫৫টি সক্রিয় কেস রয়েছে মহারাষ্ট্রে। যা মোট আক্রান্তের ২০ শতাংশ। কর্ণাটকে ১ লক্ষের বেশি সক্রিয় রোগী। অন্ধ্রপ্রদেশে ৬৩,১১৬, কেরলে প্রায় ৫৮ হাজার, উত্তরপ্রদেশে ৫৩ হাজার সক্রিয় করোনা কেস রয়েছে।

জনপ্রিয়

Back To Top