‌‌‌আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ শিখ ধর্মাবলম্বী এক যুবকের মাথার পাগড়ি খুলে চুল ধরে টেনে হেঁচড়ে হেঁচড়ে নিয়ে চলেছে পুলিশ। নির্যাতিত ব্যক্তি প্রেম সিং চিৎকার করে সকলকে জানাচ্ছেন যে দোকান বসাতে দিচ্ছে না এবং মারধর করছে পুলিশ। ভিডিওয়ে দেখা যায় গোটা ঘটনাটি।

 

 

ফের পুলিশের অত্যাচারের শিকার হলেন দেশের আরেক সাধারণ নাগরিক। তুতিকোরিনের ঘটনার পর যে পরিমাণ ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল দেশে, তাতে অনেকে মনে করেছিলেন, সম্ভবত এধরণের ঘটনায় এবারে বিরতি পড়বে। কিন্তু না, যেই কে সেই অবস্থা। মধ্যপ্রদেশের বরওয়ানি জেলায় শুক্রবার এই ঘটনাটি ঘটে। ৫০ সেকেন্ডের ভিডিওয়ে দেখা যায়, প্রেম সিং নামের ওই ব্যক্তের চুল ধরে টানতে টানতে নিয়ে চলেছে পুলিশ। প্রেম সিং চিৎকার করে বলছেন, ‘‌পুলিশ মেরে ফেলবে আমাকে। দোকান বসাতে দিচ্ছে না এখানে এবং মারধর করছে। চুল ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।’ দেখা যায় আরেকজন শিখ পুলিশের সামনে এসে কথা বলতেও আসলে তাঁকেও মারেন এক পুলিশকর্মী। 
রাজ্যের কংগ্রেসের মুখপাত্র নরেন্দ্র সালুজা এই ভিডিওটি টুইট করে লেখেন, ‘সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রেম সিং গ্রান্থি দীর্ঘদিন ধরে পালসুড পুলিশ ফাঁড়ির কাছে একটি তালা–চাবির দোকান চালাচ্ছে। তাঁকে এদিন মারধর করা হয়। তাঁর পাগড়ি খুলে দিয়ে তাঁকে অপমান করা হয়। এবং জনসাধারণের সামনে রাস্তাযর মধ্যে তাঁর চুল ধরে টেনে পলিশের গাড়ির সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। শিখ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনা হয়েছে এই ঘটনায়।’‌ ‌ 
প্রেম সিং গ্রান্থি জানিয়েছেন, পুলিশ তাঁর কাছে ঘুষ চেয়েছিল। তিনি দিতে নারাজ হতেই তাঁকে মারধর করা হয়।
রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ নরোত্তম মিশ্র জানালেন, দু’‌জন পুলিশ কর্মীকেই সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়েছে।
বরওয়ানি জেলা পুলিশ সুপার নিমিশ আগরওয়াল এই বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন। উপ–বিভাগীয় অফিসার পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এবং তারপরেই জানা গিয়েছে, প্রেম সিং জবলপুর জেলায় তিনটি চুরি করার মামলায় অভিযুক্ত। ‘‌আমাদের পুলিশকর্মীরা প্রেম সিং সহ আরও দু’‌জনকে আটক করেন। মোটরসাইকেলে চড়ে যাচ্ছিল তারা তারা। আর পুলিশকর্মীরা গাড়ি চেকিং ডিউটিতে ছিলেন। চালকের কাছে ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। এবং তাদের মধ্যে একজন মদ্যপ ছিল। পুলিশকর্মীরা যখন তাদের ফাঁড়িতে আনার চেষ্টা করেন, তাদের মধ্যে একজন সেখানে অশান্তি সৃষ্টি করে। যা ভিডিওর আগের ঘটনা।’‌

 

জনপ্রিয়

Back To Top