আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ মাওবাদী ছিল দিদি। তাকে নিকেশ করে কর্তব্য পালন করল পুলিশ ভাই। ঘটনাটি ঘটেছে ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলার বালেংটং জঙ্গলে। গত ২৯ জুলাই সকাল সাতটা নাগাদ নিরাপত্তারক্ষীদের ১৪০ জনের একটি দল মাওবাদী শিবির ঘিরে ফেলে। চলে দু’‌পক্ষের গুলিবর্ষণ। তাতে একাধিক মাওবাদী খতম হয়। যার মধ্যে এক পুলিশের দিদিও ছিল। 
২৮ জুলাই সারারাত মাওবাদীদের খোঁজে জঙ্গলে টহল দিয়েছিল নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর দলটি। যে দলের নেতৃত্বে ছিল ভেট্টি রামা। সুকমা পুলিশের গোপন সৈনিক রামা। এই অপারেশনের সেকশন কম্যান্ডার ছিল সে। একসময় নিজেও মাওবাদী ছিল রামা। পরে আত্মসমর্পণ করে। পুলিশের কাছে খবর ছিল ওই জঙ্গলে ৩০ জনের একটি মাওবাদী দল লুকিয়ে রয়েছে। যার নেতৃত্বে আছে ভেট্টি কান্নি (‌৫০)‌। যে রামার (‌৪৩)‌ দিদি। 
মাওবাদীদের ক্যাম্প ঘিরে ফেলার পর যখন গুলিবর্ষণ চলছে। তখনই মুখোমুখি দেখা হয়ে যায় রামা ও কান্নির। দু’‌জনেই পরস্পরের দিকে তাকিয়ে ছিল। তখনই কান্নির নিরাপত্তারক্ষীরা রামাকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে। পাল্টা জবাব দেয় সুকমা পুলিশও। দু’‌জন মাওবাদী তখনই খতম হয়। কান্নি আহত অবস্থায় কোনওক্রমে পালিয়ে যায়। পরে জানা যায়, কান্নিও খতম হয়েছে। রামা বলেছেন, ‘‌আমি কান্নিকে গুলি করতে চাইনি। কিন্তু কান্নির নিরাপত্তারক্ষীরা আমাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে শুরু করল। এরপরই আমি গুলি চালাই। কান্নিও পাল্টা গুলি ছোঁড়ে। আমার গুলিতে সে গুরুতর আহত হয়ে জঙ্গলে পালিয়ে যায়।’‌ 
জানা গেছে কান্নিকে দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছিল পুলিশ। তার মাথার দাম ছিল ৫ লক্ষ টাকা। ১৯৯০ সালে কান্নি ও রামা একসঙ্গে মাওবাদী দলে যোগ দিয়েছিল। কিন্তু একসময় মাওবাদীদের কার্যকলাপে বিরক্ত হয়ে ২০১৮ সালে আত্মসমর্পণ করে রামা। এরপর পুলিশে চাকরি পায়। 
এরপর দিদিকেও আত্মসমর্পণ করার জন্য তিনটি চিঠি দিয়েছিল রামা। কিন্তু কান্নি প্রতারক বলেছিল রামাকে। রামার কথায়, ‘‌সিনিয়র হয়েও মাওবাদী গ্রুপে যোগ্য মর্যাদা পাইনি। প্রায় সাত বছর স্ত্রীকে দেখতে পর্যন্ত পাইনি।’‌ এখন অবশ্য স্ত্রীকে নিয়ে সুকমায় পুলিশ কোয়ার্টারে থাকে রামা। তাঁর কথায়, ‘‌আর কারও সঙ্গে যেন এই ঘটনা না ঘটে।’‌  

জনপ্রিয়

Back To Top