আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ গত বছর লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবির দায় নিয়ে সভাপতিত্ব ছেড়েছিলেন রাহুল গান্ধী। ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট অনিচ্ছাসত্ত্বেও অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতির দায়িত্ব নেন সোনিয়া গান্ধী। এক বছরের জন্য। সেই মেয়াদ শেষ হতে চলেছে এবার। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এবার কে?‌ রাহুল কী নেবেন ফের দায়িত্ব?‌ না নিলে, কংগ্রেস চালানোর ভার কার ওপর বর্তাবে?‌ 
এই নিয়ে এবার মুখ খুললেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরও। বললেন, লোকে ভাবছে কংগ্রেসের এখন ‘‌হাল নেই’‌। কোনওমতে ভেসে চলছে। তাহলে কী মনে করেন থারুর?‌ রাহুল গান্ধীরই আবার হাল ধরা উচিত?‌ তিনি জানালেন, অবশ্যই। রাহুল গান্ধীর সেই ‘‌যোগ্যতা, দক্ষতা রয়েছে’‌। আর যদি রাহুল দায়িত্ব নিতে অনিচ্ছুক হন, তাহলে দলের উচিত যোগ্য সভাপতি নির্বাচন করা। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন থারুর। 
পিটিআই–কে একটি সাক্ষাৎকারে বললেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, নেতৃত্ব কোন পথে এগোচ্ছে তা নিয়ে আমাদের মনে স্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার। ‌আমি গত বছর সোনিয়াজির নিয়োগকে সমর্থন করেছি। কিন্তু আমি মনে করি, তাঁর থেকে যদি আশা করা হয় যে অনির্দিষ্ট কালের জন্য এই বোঝা বয়ে বেড়াবেন, তাহলে তা অনুচিত।’‌
প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও বললেন, লোকে মনে করছে কংগ্রেস এখন হালছাড়া। বিরোধী হয়ে ওঠার যোগ্যতা নেই। আর এই ধারণাতে ঘি ঢালছে সংবাদ মাধ্যম। মানুষের এই ধারণাই এবার বদলানোর সময় এসেছে। আর এটা করার অন্যতম উপায় কংগ্রেসের জন্য স্থায়ী সভাপতি নির্বাচন। 
কংগ্রেসে রাহুলকে সভাপতি পদে ফেরানোর দাবি জোরদার হচ্ছে। থারুরও কি তাই মনে করেন?‌ তিরুবনন্তপুরমের সাংসদ জানালেন, ‘‌অবশ্যই। রাহুল গান্ধী নেতৃত্ব নিতে চাইলে শুধু তাঁকে ইস্তফাপত্র ফিরিয়ে নিতে হবে। ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সভাপতি পদে তাঁর মেয়াদ রয়েছে। চাইলেই তা ফিরিয়ে নিতে পারেন।’‌ আর যদি তিনি তা না করেন?‌ থারুরের মতে, তাহলে এখনই দলকে পদক্ষেপ করতে হবে। কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির নির্বাচন করতে হবে। তাহলে আখেরে দলেরই লাভ হবে। কোভিড, তার জেরে লকডাউন, চীনের আগ্রাসন নিয়ে রাহুল যেভাবে সরকারকে আক্রমণ করেছেন এককভাবে, তার যথেষ্ট প্রশংসাও করলেন থারুর।   

জনপ্রিয়

Back To Top