আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ পাকিস্তান নয়, ভারতের পক্ষে সবথেকে বিপজ্জনক চীন। মনে করেন এনসিপি নেতা শারদ পাওয়ার। খুব সূক্ষ্মভাবে সমস্ত প্রতিবেশি দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক খারাপ করে দিচ্ছে এই দেশ। অথচ দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু চীন নিয়ে যে নীতি নিয়েছিলেন, সেই একই পথে চলছেন নরেন্দ্র মোদিও, আক্ষেপ পাওয়ারের। 
মহারাষ্ট্রে শিবসেনা এবং কংগ্রেসের হাত ধরে সরকার গঠন করেছে এনসিপি। শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউতের সঙ্গে কথোপকথনেই এসব বললেন এনসিপি সুপ্রিমো। বললেন, ‘‌আমরা আমাদের দেশে সব সময় পাকিস্তানকেই শত্রু বলে মনে করি। কিন্তু অনেক বছর ধরে যা দেখছি, তাতে আমার মনে হয়, পাকিস্তানের থেকে সেভাবে আমাদের ভয় নেই। পাকিস্তান এমন সব পদক্ষেপ করে, যেগুলো হয়তো আমাদের ক্ষতি করে। কিন্তু আখেরে আমাদের সমস্যায় ফেলার ক্ষমতা, দূরদর্শিতা, পরিকল্পনা রাখে একমাত্র চীন।’‌  
সেই সঙ্গে পাওয়ার এও মনে করিয়ে দিলেন, চীন আর পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর শক্তির আকাশপাতাল ফারাকের কথা। তাঁর মতে ভারতের তুলনায়ও চীনের সামরিক শক্তি ১০ গুণ বেশি। তাই চীনের সঙ্গে লড়াই করে সমস্যার সমাধান হবে না। বরং কূটনৈতিক পথেই আসবে সমাধান। পাওয়ার আরও জানালেন, সেই নেহরুর আমল থেকে ভারতের বিদেশনীতি একই রকম রয়ে গেছে। অটলবিহারী বাজপেয়ী, নরেন্দ্র মোদির আমলেও বিদেশনীতি বদলায়নি। বরং সম্প্রতি প্রতিবেশি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয়েছে। নাম না করে যে মোদিকেই খোঁচা দিলেন তিনি, তা স্পষ্ট। 
এনসিপি সুপ্রিমোর কথায়, ‘‌পাকিস্কান বরাবর চীনের সঙ্গে। কিন্তু নেপাল বরাবর আমাদের বন্ধু ছিল। সেই নেপালও এখন দূরত্ব বাড়াচ্ছে। মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর নেপাল গিয়ে পশুপতিনাথে পুজো দিয়েছিলেন। প্রথম হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে নেপালের প্রশংসা করেছিলেন। সেই নেপালও এখন চীনের পাশে।’‌ এমনকী যে বাংলাদেশ গঠনে ভারত এত সাহায্য করেছিল, তারাও চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি করল। 
প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী পাওয়ার বারবার বলে এসেছেন, চীনের সঙ্গে সংঘর্ষে রাজনীতির রং যেন না আরোপ করা হয়। এবার সেই মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন। তাঁর কথায়, কাল যদি ভারত চীনকে আক্রমণ করে, চীনও পাল্টা আক্রমণ করবে। তখন কিন্তু বিপদে পড়বে দেশ। বড় মূল্য চোকাতে হবে। দেশের আর্থিক মন্দা নিয়ে পাওয়ারের নিদান, আজ এক জন মনমোহন সিংয়ের দরকার। 

জনপ্রিয়

Back To Top