আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ আইএনএক্স মিডিয়া দুর্নীতি মামলায় জামিন পেলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম। বুধবার সুপ্রিম কোর্ট শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছে চিদম্বরমকে। গ্রেপ্তার হওয়ার ১০৬ দিন পর জামিন পেলেন চিদম্বরম। তবে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, দেশ ছেড়ে কোথাও যেতে পারবেন না তিনি। সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে পারবেন না। সংবাদমাধ্যমের সামনেও মুখ খুলতে পারবেন না। এমনকি প্রকাশ্যে কোথাও মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে পারবেন না। তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে চিদম্বরমকে। 
১০৬ দিন তিহার জেলে বন্দি ছিলেন তিনি। ২ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে চিদম্বরমের জামিন মঞ্জুর করেন সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। অবশেষে কিছুটা স্বস্তি পেলেন তিনি। তিহার জেলে থাকাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন চিদম্বরম। চিকিৎসাও চলছিল। পরিবারের সদস্যরা প্রাক্তন মন্ত্রীর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন। জামিন মঞ্জুর হওয়ার পরিবারের সদস্যরাও পেলেন স্বস্তি। 
গত ২৮ নভেম্বর নভেম্বর চিদম্বরমের জামিনের আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি হয়। সেদিন রায়দান স্থগিত রেখেছিল সুপ্রিম কোর্টের ৩ সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চ। বুধবার সর্বোচ্চ আদালত প্রাক্তন অর্থমন্ত্রীকে স্বস্তি দিল। এই মামলায় সিবিআইয়ের করা মামলায় আগেই জামিন পেয়েছিলেন চিদম্বরম। এবার ইডির মামলাতেও জামিন পেলেন। ফলে, তাঁর আর জেল থেকে বেরোতে কোনও বাধা রইল না।
সওয়াল জবাবের সময় ইডি দাবি করেছিল, চিদম্বরম এখনও যথেষ্ঠ প্রভাবশালী। তাই তিনি জেলের বাইরে গেলে তদন্তকে প্রভাবিত করতে পারেন। পাল্টা চিদম্বরমের আইনজীবীদের যুক্তি ছিল, এটা দীর্ঘদিনের পুরনো মামলা। তাই এতদিন বাদে তদন্তকে প্রভাবিত করার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। তাছাড়া, এতদিন পর্যন্ত জেলে চিদম্বরমকে নতুন কোনও বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করেনি ইডি। নতুন কোনও প্রমাণ বা তথ্যও জোগাড় করতে পারেনি তারা। তাছাড়া নতুন কোনও সাক্ষীর মুখোমুখি বসিয়ে তাঁকে জেরাও করা হয়নি। তাহলে, কোন যুক্তিতে তাঁকে জেলে আটকে রাখা হচ্ছে? চিদম্বরমের আইনজীবীদের যুক্তি মেনে নেয় আদালত। তারপরেই প্রাক্তন অর্থমন্ত্রীর জামিনের আবেদন মঞ্জুর করা হয়। বাবার জামিনের খবর পেয়ে চিদম্বরমের ছেলে কার্তি টুইট করেছেন, ‘‌অবশেষে ১০৬ দিন পর।’‌ বুধবার জামিনের পর বৃহস্পতিবারই সংসদে যাবেন চিদম্বরম। বলেছেন ছেলে কার্তি। 

জনপ্রিয়

Back To Top