আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ভারতে এমন অনেক ধর্ষণের ঘটনাই ঘটে, যেখানে ধর্ষিতা সম্মানহানির ভয়ে পুলিশে অভিযোগ জানাতে চান না। অনেকসময় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে পুলিশ সেই অভিযোগ দায়েরও করে না। কিন্তু এর থেকেও বড় অমানবিক ঘটনা ঘটল ছত্তিশগড়ে। যেখানে এক ধর্ষিতা পুলিশে অভিযোগ জানানোয় উল্টে তাঁকেই জরিমানা করল গ্রামের পঞ্চায়েত। জানা গিয়েছে, পুলিশে অভিযোগ করায় ৫০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে ওই ধর্ষিতাকে। ছত্তিশগড়ের জাশপুর জেলার পঞ্চায়েতের আধিকারিকদের বক্তব্য, ওই ধর্ষিতার জন্য গ্রামের সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। তাই তাঁকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে।
জানা গিয়েছে, গত ৪ নভেম্বর ঘটনাটি ঘটেছে। নিজের বাড়িতে ঝগড়া করে এক আত্মীয়ের বাড়ি চলে যায় ২৩ বছর বয়সি আক্রান্ত যুবতী। সন্দীপ এবং কিশোর নামে দুই অভিযুক্ত এই পুরো বিষয়টি জানত। তারা এরপর মেয়েটিকে কাজের লোভ দেখিয়ে পরদিন একটি নির্মীয়মান বাড়িতে ডেকে পাঠায়। কিন্তু কাজের খোঁজে মেয়েটি সেখানে গেলেও তাঁকে ধর্ষণ করে সন্দীপ এবং কিশোর। এরপর তাঁকে হুমকি দেয়, ‘‌কাউকে বললে অনেক ক্ষতি হবে।’‌ যদিও মেয়েটি বাড়ি গিয়ে সমস্ত ঘটনা মা’‌কে জানায়। তারপর পুরো ঘটনাটি পুলিশকে জানায় তাঁরা। কিন্তু এফআইআর দায়ের না করেই বাড়ি ফিরে আসে। কয়েকদিন পর গোটা ঘটনার কথা গ্রামে জানাজানি হয়। ১৪ নভেম্বর সালিশি সভায় দুই অভিযুক্তকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এরপর আচমকাই পঞ্চায়েত আধিকারিকরা জানান, মেয়েটিও সমান দোষী। পুলিশকে জানিয়ে ওই যুবতী নাকি গ্রামের সম্মান নষ্ট করেছে। আর তাই তাঁকেও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। এরপর গত ১৬ নভেম্বর পুলিশে অভিযোগ জানায় ওই যুবতী। ইতিমধ্যে পুলিশ দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে এই খবর প্রকাশ্যে আসতে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। একজন ধর্ষিতাকেই কীভাবে জরিমানা দেওয়ার কথা বলা হল?‌ উঠছে সেই প্রশ্ন।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top