আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তর প্রদেশের কানপুরে আট পুলিশকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় চাপে যোগীর পুলিশ প্রশাসন। চৌবেপুর থানার স্টেশন হাউস অফিসার বা এসএইচও বিনয় তিওয়ারিই কুখ্যাত গ্যাংস্টার বিকাশ দুবেকে পুলিশি অভিযানের খবর আগেভাগেই দিয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করছে পুলিশ। তার জেরে শনিবার বিনয়কে সাসপেন্ড করল রাজ্য পুলিশ। একথা জানালেন কানপুরের আইজি মোহিত আগরওয়াল। এদিনই, ঘটনার প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর কানপুর প্রশাসন দিক্রু গ্রামে বিকাশের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেয়।
আইজি জানান, যখন গুলির লড়াই চলছিল, তখনই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন এসএইচও। এমনকি অভিযানে যাওয়ার সময়ও দলের মধ্যে সব থেকে পিছনে ছিলেন তিনি। তাই তিনি তদন্তকারীদের সন্দেহের তালিকায়। প্রয়োজনে এসএইচও–র বিরুদ্ধে মামলা রুজু হবে। তদন্তে কোনও ফাঁক থাকবে না। পলাতক গ্যাংস্টারের সম্পর্কে কেউ পুলিশকে খোঁজ দিলে তাঁর পরিচয় গোপন রেখেই তাঁকে ৫০০০০ টাকা নগদ পুরস্কারও দেওয়া হবে বলে এদিন ঘোষণা করেছেন আইজি। বিকাশের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যাতেই বিনয় তিওয়ারিকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ দীর্ঘক্ষণ জেরা করে। সূত্রের খবর, এর আগেও একবার বিকাশের বিরুদ্ধে করা একটি অভিযোগ দায়ের করতে অস্বীকার করেছিলেন অভিযুক্ত পুলিশ অফিসার। 
ওই অভিযানে আট পুলিশকর্মী শহিদ হন এবং সাতজন গুরুতর জখম হন। মারা যান ডিএসপি দেবেন্দ্র মিশ্রও। ৬০টি অপরাধযোগ্য মামলায় অভিযুক্ত পলাতক বিকাশের ব্যাপারে তথ্য পেতে ৫০০টি মোবাইল ফোন স্ক্যান করছেন তদন্তকারী অফিসাররা। পুরো এলাকাজুড়ে ১০০জন পুলিশকর্মী মোতায়েন আছে। পুলিশের সন্দেহ নেপালে পালিয়ে যেতে পারে বিকাশ। তাই নেপাল সীমান্তে অবস্থিত লখিমপুর খেরি জেলা সিল করে দেওয়া হয়েছে। মধ্য প্রদেশের চম্বল উপত্যকাতেও সে লুকিয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান করছে পুলিশ। তাই মধ্য প্রদেশ সরকারের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। আইজি আরও জানালেন, কানপুর জেলার ৪০টি থানার পুলিশকর্মীরা বিকাশ এবং তার দলবলকে খুঁজতে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে।
ছবি:‌ এএনআই        
 

জনপ্রিয়

Back To Top