আবু হায়াত বিশ্বাস, দিল্লি: দেশে করোনা–আক্রান্তের সংখ্যা ২ ‌লক্ষের দোরগোড়ায়। এখন দিনে সংক্রমিতের সংখ্যা ৮ হাজারের ওপরে থাকছে। ‌এই অবস্থায় জয়েন্ট কোভিড টাস্ক ফোর্স–এর ১৫ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের একটি দল বলছে, কেন্দ্রীয় সরকার স্বীকার না করলেও দেশে গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়ে গেছে। এ প্রসঙ্গে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (‌আইসিএমআর)‌–এর বিজ্ঞানী নিবেদিতা গুপ্তা মঙ্গলবার বলেন, ‘‌গোষ্ঠী সংক্রমণ কথাটা ব্যবহারের পরিবর্তে সংক্রমণ কতটা ছড়িয়েছে সেটাই দেখা দরকার। দেশে মৃত্যুহার অন্য দেশগুলির তুলনায় কম। সুস্থতার হার ক্রমেই বাড়ছে।’‌ স্বাস্থ্য মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব লব আগরওয়াল বলেছেন, জনসংখ্যার নিরিখেই তুলনাটা হওয়া উচিত। বিশ্বের ১৪টি দেশের মিলিত জনসংখ্যা ভারতের জনসংখ্যার কাছাকাছি। কিন্তু ভারতের চেয়ে সেই ১৪ দেশে সংক্রমণ ২২.‌৫ শতাংশ বেশি। মৃত্যুর হারও বেশি। 
স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮,১৭১ জনের নতুন করে করোনা ধরা পড়েছে। ২০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশে মোট করোনা–আক্রান্তের সংখ্যা ১,৯৮,৭০৬। মৃত্যু হয়েছে ৫,৫৯৮ জনের। স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত করোনার সক্রিয় কেস রয়েছে ৯৭,৫৮১টি। সুস্থ হয়েছেন ৯৫,৫২৬ জন। সুস্থ হওয়ার হার ৪৮.‌৭ শতাংশ। লব আগরওয়াল বলেছেন, দেশে করোনায় মৃত্যুহার ২‌.‌‌৮২ শতাংশ, যা বিশ্বের বাকি দেশের মৃত্যুর হারের চেয়ে কম। করোনায় মৃতদের ৭৩ শতাংশ কো–মর্বিডিটি ছিল বলে দাবি করেছেন তিনি। স্বাস্থ্য সচিব জানান, এখন দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন করোনা–আক্রান্তরা।
এদিকে, রাজধানী দিল্লিতে করোনা সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। দিল্লির উপ–‌রাজ্যপাল অনিল বৈজলের কার্যালয়ের ১৩ জন আধিকারিকের করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে। রাজ্যে এমনিতেই করোনা–আক্রান্তের সংখ্যা ২১ হাজার ছাড়িয়েছে। রাজধানীতে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৫২৩ জনের। দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন জানিয়েছেন, করোনা প্রকোপ বাড়বে ধরে নিয়ে অগ্রিম এক মাসের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে দিল্লি সরকার। এদিনই মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ‘‌দিল্লি করোনা’‌ অ্যাপের সূচনা করেছেন। এই অ্যাপের মাধ্যমে দিল্লিবাসী ঘরে বসেই জানতে পারবেন বিভিন্ন হাসপাতালে খালি বেড, আইসিইউ, ভেন্টিলেটরের সংখ্যা। 
মহারাষ্ট্রে সোমবার নতুন আক্রান্ত ২,৩৬১ জন। মহারাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা ৭০ হাজার পেরিয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ২,৩৬২ জনের। তামিলনাড়ুতে ২৩,৪৯৫ জন আক্রান্ত, মৃত ১৮৪। গুজরাটে ১৭ হাজার আক্রান্ত। সুস্থ হয়েছেন ১০,৭৮০ জন। মৃত্যু ১,০৬৩।

জনপ্রিয়

Back To Top