তরুণ চক্রবর্তী- নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (ক্যাব)–‌এর বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে অসম তো বটেই, অশান্তির আগুন ছড়াল ত্রিপুরাতেও। এই ইস্যুতে বিজেপি–‌র সঙ্গে সরকারের শরিক দল আইপিএফটি–‌র সমর্থকদের সঙ্ঘর্ষ বেধেছে প্রকাশ্যে। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় দিনভর সঙ্ঘর্ষের জেরে পুলিশ কর্মীদের জখম হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একাধিক এলাকা থেকে পুলিশের কাঁদানে গ্যাস ও শূন্যে গুলিচালনারও খবর এসেছে। দোকানপাট, যানবাহন বিক্ষোভের আগুনে পুড়ে ছাই। পরিস্থিতি সামাল দিতে ৪৮ ঘণ্টার জন্য ত্রিপুরা জুড়ে ইন্টারনেট সার্ভিস ও  মোবাইল ফোনে এসএমএস পরিযেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।
ক্যাব প্রত্যাহারের দাবিতে উত্তর–‌পূর্ব ছাত্র সংগঠন বা নেসো–‌র ডাকা বন্‌ধে মঙ্গলবার উত্তাল হয়ে ওঠে ত্রিপুরা। রাজ্যের আদিবাসী এলাকা, এমনকী রাজধানী আগরতলাতেও পিকেটিং করে বন্‌ধ সমর্থকরা। এদিন সকাল থেকেই ধলাই, ঊনকোটি, বিশালগড়, উত্তর ত্রিপুরা, দক্ষিণ ত্রিপুরা থেকে সঙ্ঘর্ষের খবর আসতে থাকে। সঙ্ঘর্ষে জড়ায় আইপিএফটি, ত্রিপুরা স্টুডেন্ট ফেডারেশন, আইএনপিটি–‌র সমর্থকরা। বন্‌ধের ডাক উপেক্ষা করে সোমবার স্কুলে স্কুলে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের টেস্ট পরীক্ষা চালু রাখার কথা ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু পরীক্ষা নিতে গিয়ে নিগৃহীত হন অন্তত ১৭ জন শিক্ষক। এরপরই পরীক্ষা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বেশ কিছু ট্রেন বাতিল করে উত্তর–‌পূর্ব রেল। বেশির ভাগ সড়কও ছিল অবরোধকারীদের দখলে। সামনেই ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদ বা টিটিএএডিসি–‌র ভোট। এদিন ত্রিপুরা পিপলস ফ্রন্টের নেত্রী পাতালকন্যা জামাতিয়া জানান, তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছেন।  ১০ ডিসেম্বর অসমে প্রতি বছর ‘শহিদ দিবস’ পালন করে আসু। মঙ্গলবার ক্যাবের বিরুদ্ধে ডাকা নেসো–‌র বন্‌ধে বাড়তি উন্মাদনা ছিল আসু–‌র সমর্থকদের। অসম বন্‌ধ এদিন সর্বাত্মক চেহারা নেয়। পোড়ানো হয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর কুশপুতুল। আসু–‌র সদর দপ্তরে অসমিয়া শিল্পী সমাজ ঘোষণা করে, তারা কোনও সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দেবে না। এমনকী, গুয়াহাটিতে ১৫ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির শীর্ষ বৈঠক বয়কটেরও ডাক দেওয়া হয়। অসমিয়া চলচ্চিত্র পরিচালক জাহ্নু বড়ুয়া ক্যাব–‌এর প্রতিবাদে রাজ্য চলচ্চিত্র উৎসব থেকে তাঁর ছবি প্রত্যাহার করে নেন। ডিব্রুগড়ে উড়তে দেথা যায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আলফা–‌র পতাকা। গুয়াহাটি শহরে বিজেপি সভাপতি রঞ্জিত দাস ও শিক্ষামন্ত্রী সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্যের কনভয় বিক্ষোভের জেরে পিছু হঠতে বাধ্য হয়। স্থানীয় সাংসদ ক্যুই ওঝার বাড়িতেও ভাঙচুর চলে। কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতির নেতা অখিল গগৈয়ের হুমকি, ‘আন্দোলন আরও তীব্র হবে। অমিত শাহের দাদাগিরি অসমে চলবে না।’ এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপি বিধায়ক বিমল বরাও দলীয় নেতৃত্বকে সতর্ক করে দিয়ে ইস্তফার হুমকি দিয়ে রেখেছেন।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top