আজকালের প্রতিবেদন, দিল্লি, ১৩ আগস্ট- কর্ণাটকের পর বিজেপি–‌‌র নজরে উত্তর-‌পূর্বের সিকিম। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পবনকুমার চামলিংয়ের দল ‘‌সিকিম ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট’‌-‌এ ভাঙন ধরিয়ে, রাজ্যে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হল বিজেপি। অনেকটা ত্রিপুরার কায়দায়। রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, এরপর কি সিকিম দখল?‌
মঙ্গলবার এসডিএফ ছেড়ে বিজেপি–‌তে যোগ দিয়েছেন চামলিংয়ের ১০ বিধায়ক। ফলে, সিকিম বিধানসভায় এসডিএফের বিধায়ক সংখ্যা ১৩ থেকে কমে ৩ হয়ে গেল। শূন্য থেকে ১০-‌এ পৌঁছে গেল বিজেপি। বিজেপি–‌ই এখন প্রধান বিরোধী দল। এসডিএফ তৃতীয় স্থানে। ধরাশায়ী হয়ে স্বভাবতই দলের অস্তিত্বরক্ষা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন পাঁচবারের মুখ্যমন্ত্রী এবং আধুনিক সিকিমের রূপকার হিসেবে পরিচিত পবনকুমার চামলিং। বিজেপি বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা করতে চলেছে চামলিংয়ের ঘনিষ্ঠ দোরজি শেরিং লেপচাকে। 
এমনিতে উত্তর-‌পূর্বে দলবেঁধে দলত্যাগ নতুন কিছু নয়। তবুও এ হেন দলত্যাগের হিড়িক দেখে ভয় পাচ্ছেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী তথা এসকেএম নেতা প্রেম সিং তামাং। উত্তর-‌পূর্বে আশপাশের রাজ্যগুলিতে বিজেপি–‌‌র নেতৃত্বাধীন ‘‌নর্থ ইস্ট ডেমোক্র‌্যাটিক অ্যালায়েন্স’‌ ক্ষমতায় থাকলেও, এতদিন সিকিমে দাঁত ফোটাতে পারেনি বিজেপি। এবার সেই পথ খুলে গেল। এদিনের ঘটনা দেখে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অনেকেই বলছেন, বিজেপি–‌‌র সিকিম দখল সময়ের অপেক্ষা। 
এদিন দিল্লিতে বিজেপি’–‌র কার্যনির্বাহী সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডা এবং সাধারণ সম্পাদক রাম মাধবের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপি–‌‌তে যোগ দেন বিধায়করা। নিয়ম অনুযায়ী, দলের দুই-‌তৃতীয়াংশ বা তার বেশি সংখ্যক বিধায়ক অন্য দলে যোগ দিলে, জনপ্রিনিধিত্ব আইনে তা স্বীকৃত হয়। গত এপ্রিলের নির্বাচনী ফল অনুযায়ী, মোট ৩২ আসনের বিধানসভায় এই মুহূর্তে ‘‌সিকিম ক্রান্তিকারি মোর্চা’‌র ১৬ জন, ‘‌সিকিম ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট’‌-‌এর ৩ এবং বিজেপি–‌র ১০ জন বিধায়ক হল। আরও ৩টি পদ ফাঁকা রয়েছে। বিজেপি সূত্রের খবর, এসকেএম ভাঙিয়ে খুব শীঘ্রই সিকিমে সরকার গড়বে বিজেপি। এখন দেখার, জল কোন দিকে গড়ায়।‌‌

দিল্লিতে বিজেপি দপ্তরে এসডিএফ–এর বিধায়করা। 

জনপ্রিয়

Back To Top