রাজীব চক্রবর্তী,দিল্লি: অভিযোগ নয়, প্রমাণ দিল তৃণমূল। বিদ্যাসাগর কলেজের গেট টপকে ভেতরে ঢুকে গেরুয়া বাহিনীর বেপরোয়া ভাঙচুরের ছবি দেখাল। দিল্লিতে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেখানো হয় মঙ্গলবার সন্ধের সেই ভয়াবহ তাণ্ডবের ৩টি খণ্ডচিত্র। তৃণমূলের প্রকাশ করা ভিডিও ৪৪টি। দলের দাবি, প্রতিটি ফুটেজই ‘‌খাঁটি’‌। সংবাদমাধ্যমের সামনে দেখানো হয়েছে মাত্র ৩টি। অমিত শাহর মিছিল থেকে বিদ্যাসাগরের মূর্তি–‌সহ কলেজে ভাঙচুরের প্রকৃত দোষীদের চিনিয়ে দিতেই। ৪০ সেকেন্ডের প্রথম ভিডিওতে গেরুয়া পোশাক পরা, মাথায় গেরুয়া ফেট্টি বাঁধা উন্মত্ত যুবকদের কলেজ গেটের বাইরে থেকে লাঠি ও ইট হাতে আক্রমণের ছবি দেখা গেছে। দ্বিতীয়টিতে কলেজের গেট টপকে ভেতরে ঢুকে বেপরোয়া ভাঙচুরের ছবি স্পষ্ট। তৃতীয় ভিডিওটি গত সোমবারের। তাতে খিদিরপুরের এক বিজেপি নেতাকে (‌আগে ছিলেন কংগ্রেস)‌‌ তাঁর ‘‌ফাটাফাটি’‌ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্যদের মঙ্গলবার অমিত শাহর র‌্যালিতে হাজির হয়ে অশান্তি পাকানোর কথা বলতে শোনা গেছে। 
দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে তৃণমূলের তরফে সাংবাদিক সম্মেলনে ছিলেন দলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’‌ব্রায়েন, উপনেতা সুখেন্দুশেখর রায়, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও রাজ্যসভার সদস্য মণীশ গুপ্ত এবং সাংসদ নাদিমুল হক। হাতে বর্ণপরিচয় ও বুকে বিদ্যাসাগরের ছবি নিয়ে স্পষ্ট ভাষায় অমিত শাহকে ‘‌মিথ্যাবাদী’‌ ও ‘‌ধোঁকাবাজ’‌ আখ্যা দেন তাঁরা। এদিন বিকেলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরার সঙ্গে দেখা করে ৪৪টি ভিডিও ফুটেজ জমা দিয়ে বিহিত চেয়েছেন তৃণমূল নেতারা। 
ডেরেকের বক্তব্য, ‘বিহার, ঝাড়খণ্ড ও উত্তরপ্রদেশ থেকে বহিরাগতদের এনে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। ‌কলকাতায় তেজেন্দ্র বাগ্গা ছিলেন।‌ ইনিই প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণকে থাপ্পড় মেরেছিলেন। এঁদের মতো লোকেদের সঙ্গে নিয়ে ঘুরে বেড়ান অমিত শাহ।’‌ তৃণমূল দাবি করেছে, তাণ্ডব চালানোর পর বিজেপি সমর্থকদের স্লোগান ছিল, ‘‌হাউ ইজ দ্য জোশ?‌ বিদ্যাসাগর ফিনিশ।’‌ কেন্দ্রীয় বাহিনীর অপব্যবহার নিয়েও বিস্তর অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। দলের অভিযোগ, ‘‌বাংলায় বিজেপি ও কেন্দ্রীয় বাহিনী জোট বেঁধে ভোট করছে।’‌ কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে এর আগে ৩ বার কমিশনে নালিশ জানিয়েছে তৃণমূল। এদিন চতুর্থবার অভিযোগ জানানো হল।
মণীশ গুপ্ত অভিযোগ করেছেন, ‘‌বাংলার দায়িত্বে থাকা ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার সুদীপ জৈন আচরণবিধি ভেঙে পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন। অমিত শাহর সভায় পুলিশকে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করতে নির্দেশ দিয়েছেন।’‌ তঁার আরও দাবি, কলকাতার বিভিন্ন হোটেল ও বাড়িতে ভিন রাজ্যের গুন্ডাদের রেখেছে বিজেপি। গতকাল যারা তাণ্ডব চালিয়েছে তাদের বেশিরভাগই মত্ত ছিল। তিনি বলেছেন, ‘‌অমিত শাহর র‌্যালি উপলক্ষে উত্তর কলকাতার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সরকারি সম্পত্তিতে যে ব্যানার, হোর্ডিং ও কাট‌আউট লাগানো হয়েছিল, সেগুলি সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক। কমিশনের নির্দেশেই সেগুলি খোলা হয়েছিল।’‌ কমিশনের কাছে তাঁর প্রশ্ন, র‌্যালির অনুমতি নিয়ে এত হোর্ডিং ও ব্যানার লাগানোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে?‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top