সংবাদ সংস্থা, পাটনা: মঙ্গলবার পাটনার গান্ধী ময়দানে দশেরা অনুষ্ঠানের মঞ্চে নীতীশ কুমারের পাশে হাজির ছিলেন কংগ্রেস ও আরজেডি নেতারা। অথচ ছিলেন না সরকারের শরিক বিজেপি–‌র কোনও নেতা। তবে কি জেডিইউ–‌এর হাত ছেড়ে বিহারে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরিতে ব্যস্ত বিজেপি? 
দশেরার মঞ্চে আসেননি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ। ছিলেন না উপমুখ্যমন্ত্রী সুশীল মোদিও। আমন্ত্রিত হয়েও আসেননি বিজেপি–‌র রাজ্য সভাপতি সঞ্জয় জয়সওয়াল। তাঁর বক্তব্য, ‘‌আমি পুজো দিতে নেপালে গিয়েছিলাম। বাকিরাও নানা কাজে ব্যস্ত থাকায় দশেরায় যাননি।’‌ বিজেপি নেতাদের এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ জেডিইউ। দলের তরফে রাজীবরঞ্জন প্রসাদ বলেন, ‘‌এমন দল বেঁধে গরহাজিরা তো পলায়নী মনোবৃত্তি।’‌ এরই মধ্যে বিতর্ক উস্‌কে দিয়েছেন পাটলিপুত্রের বিজেপি সাংসদ রামকৃপাল যাদব। তাঁর বক্তব্য, ‘যাঁরা বসে বসে রাবণ বধের দৃশ্য উপভোগ করছিলেন, সামনের বছর বিধানসভা ভোটে তাঁদের একে একে রাবণের মতোই বধ করা হবে।’‌ কয়েক ঘণ্টা পরেই অবশ্য তিনি বদলে ফেলেন মন্তব্য, ‘আমি বলেছিলাম গান্ধী ময়দানে যেসব বিরোধী নেতা হাজির ছিলেন তাঁদের কথা।’‌
বিহার কংগ্রেসের অন্যতম নেতা প্রেমচন্দ্র মিশ্র বলেন, ‘মনে হচ্ছে নীতীশ কুমারকে বিপদে ফেলার জন্য ফাঁদ পাতছে বিজেপি। নীতীশের ট্রেন লাইনচ্যুত করতে চায় তারা। সেজন্যই গিরিরাজ কিশোর ও তাঁর সঙ্গীরা ক্রমাগত নীতীশের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাচ্ছেন। অবাক হব না যদি দেওয়ালির মধ্যেই রাজ্যে বড়সড় গোলমাল পাকায় বিজেপি। বিহার দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে। এমনকী রাষ্ট্রপতির শাসনও জারি হতে পারে।’‌ আরজেডি নেতা শিবানন্দ তেওয়ারির মতে, ‘বিহারে ২০১৫–‌র বিধানসভা ভোটে ভরাডুবি হয় বিজেপি–‌র। তখন নীতীশ কুমারকে মোদির দরকার ছিল। এখন প্রয়োজন ফুরিয়েছে। সেকারণেই দশেরার মঞ্চে ছিলেন না বিজেপি নেতারা।’
 

জনপ্রিয়

Back To Top