আজকালের প্রতিবেদন: জাতীয় নাগরিকত্ব পঞ্জিকরণ (‌এনআরসি)‌ যাঁরা তৈরি করেছেন তাঁদের কী কাজ সেটা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল?‌ শুক্রবার কলকাতায় এই প্রশ্ন তুলেছেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য ড.‌ তপোধীর ভট্টাচার্য। তাঁর অভিযোগ, তালিকা তৈরিতে পদ্ধতিগত ত্রুটি রয়েছে। এদিন এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, চূড়ান্ত অপমানিত বোধ করছি। এই দেশ কি আমার নয়?‌ কে ঠিক করে দিল? সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে‌ তপোধীর ভট্টাচার্য বলেন, এই তালিকা স্বাভাবিক নয়। রাজনৈতিক অভিপ্রায় রয়েছে। বিভাজনের খেলা হচ্ছে কেন?‌ অসমিয়া যাঁদের মাতৃভাষা নয়, অসমের সেই নাগরিকদের কী হবে?‌ প্রশ্ন তাঁর। এদিন বৌদ্ধ ধর্মাঙ্কুর সভার কৃপাশরণ হলে সভার আয়োজন করেছিল সর্বভারতীয় বাংলা ভাষা মঞ্চ ও ঐকতান গবেষণাপত্র। অসমে বাঙালি বিতারণের প্রতিবাদে। একই দাবিতে তারা বুধবার রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর দ্বারস্থ হতে চলেছে। পাশাপাশি রাজ্যের বিদ্বৎ সমাজকে আরও এগিয়ে আসার আবেদন করেছে। সভায় উপস্থিত ছিলেন অসমের প্রাক্তন মন্ত্রী আবু সালেম নাজিমুদ্দিন, সর্বভারতীয় বাংলা ভাষা মঞ্চের সভাপতি ডি কে সিনহা, সংগঠনের সম্পাদক এবং ঐকতান গবেষণাপত্রের সম্পাদক নীতীশ বিশ্বাস, অধ্যাপক বাসুদেব বর্মন, আসেকা–র ড.‌ সুবোধ হাঁসদা, শঙ্কর চক্রবর্তী–সহ বিশিষ্টরা। অসমে এনআরসি–তে নাম ওঠেনি ১ কোটি ৩৯ লক্ষ মানুষের। এর মধ্যে রয়েছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ তপোধীর ভট্টাচার্যও। এই ঘটনায় আহত তিনি। সভায় তাঁর বক্তৃতায় সে–‌কথাই বার বার উঠে আসে। তিনি বলেন, বাবা তারাপদ ভট্টাচার্য ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী। পরে অসম বিধানসভার সদস্যও হয়েছিলেন। আমার লেখা বই অসমিয়া ভাষায় অনূদিত হয়েছে। সাহিত্য তত্ত্ব নিয়ে কাজ করি। সেই লেখার অনেকগুলি অসমিয়ায় অনূদিত হয়েছে। আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব সামলেছি। কিন্তু এখন যা চলছে তা দেখে প্রশ্ন জাগে, আমি কি বিদেশি?‌ আমি তো জন্মসূত্রে ভারতীয়। তা হলে কে আমার নাগরিকত্ব কেড়ে নেবে?‌ নিজেকে ‘‌ভাসমান বাঙালি’‌ বলে পরিচয় দিয়েছেন তিনি। তপোধীরবাবু বলেন, পরের তালিকায় নাম থাকবে কিনা তা এখন যেন লটারির মতো। অসমের বাঙালিরা আশঙ্কায় কুঁকড়ে রয়েছেন। বাংলা ভাষায় কথা বলাই কি অপরাধ?‌ যিনি বাঙালি তিনি হিন্দু বা মুসলমান কোনওটাই নয়, তিনি বাঙালি। আবু সালেম নাজিমুদ্দিনের দাবি, শাসকগোষ্ঠীর খেলা চলছে। অসমের উন্নয়নে সবসময় বাঙালিরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছে। সেখানকার বাঙালিদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বাংলার সমর্থন চেয়েছেন তিনি। নীতীশ বিশ্বাস জানান, বুধবার রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর দ্বারস্থ হব। শান্তিপূর্ণ, ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ চলবে।‌

অসমে বাঙালি–‌খেদাও চক্রান্তের প্রতিবাদে আয়োজিত সভায় তপোধীর ভট্টাচার্য। বৌদ্ধ ধর্মাঙ্কুর সভা প্রেক্ষাগৃহে, শুক্রবার। 
ছবি:‌ বিজয় সেনগুপ্ত

জনপ্রিয়

Back To Top