তরুণ চক্রবর্তী- বন্যার জল, এনআরসি–‌র জাল আর প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে ইদের আনন্দ দফারফা অসমে। বন্যা পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হলেও ভয়াবহ বন্যায় সর্বস্বান্ত হয়ে অসমের সংখ্যালঘুদের বড় অংশ এখন দিশেহারা। তাঁদের কাছে খুশির ইদ পালনের থেকে পরিবারের সকলের জন্য নুন–‌ভাত জোগাড় করাটাই এখন বড় দায়। এর সঙ্গে রয়েছে এনআরসি–‌র ভীতি। সামনেই ৩১ আগস্ট। প্রকাশিত হবে এনআরসি–‌র চূড়ান্ত তালিকা। অন্তত ৫ লাখ সংখ্যালঘু হারাতে চলেছেন নিজেদের নাগরিকত্ব। তাই এবার পবিত্র ইদ অসমের সংখ্যালঘুদের জন্য মোটেই আনন্দের নয়। বরং আতঙ্কের। অসমে এখন চলছে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ। সোমবার তাপমাত্রা ছিল ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তারই মধ্যে সকলের কল্যাণ কামনায় নমাজ পড়লেন মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা।
অসম জুড়ে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ত্রাণের জন্য হাহাকার চলছেই। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার ত্রাণ নিয়ে ঢালাও প্রচার করলেও বাস্তবে তা মিলছে না। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি রিপুন বরার অভিযোগ, মানুষ বন্যায় সব খুইয়ে এখন পথে বসতে চলেছেন। রাজ্য ও কেন্দ্রের অপরিকল্পিত ও অপ্রতুল ত্রাণবণ্টন সমস্যাকে আরও শোচনীয় করে তুলেছে। বন্যায় বহু মানুষ খুইয়েছেন নিজেদের সর্বস্ব। এখন তাকিয়ে আছেন সরকারি সহায়তার দিকে। কিন্তু সেখান থেকে শুধু প্রতিশ্রুতিই মিলছে বলে অভিযোগ।
বন্যার পাশাপাশি রয়েছে এনআরসি নিয়ে হয়রানির অভিযোগ। ৩১ আগস্ট এনআরসি–‌র চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে। তার আগে চলছে ফের নাগরিকত্ব পরীক্ষা। অসম থেকে নির্বাচিত কংগ্রেসের লোকসভা সদস্য আবদুল খালেকের অভিযোগ, সংখ্যালঘুদের তথ্য যাচাইয়ের নামে চলছে ব্যাপক হয়রানি। রাজ্য সরকার ও এনএআরসি কর্তারা সংখ্যালঘুদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করছেন। সারা অসম সংখ্যালঘু ছাত্র সংস্থা (আমসু) এই হয়রানির প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছে। তবে এতেও শান্তি নেই বিজেপি নেতাদের। দলের বিতর্কিত বিধায়ক শিলাদিত্য দেবের অভিযোগ, এনআরসি প্রক্রিয়া মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে বের করতে ব্যর্থ। তাই তিনি সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে চলা গোটা প্রক্রিয়াকেই, ‘ফ্লপ, ফ্রড ও ফেক’ বলে বর্ণনা করেছেন।
সোমবার এসবের মধ্যেই ‘নির্বিঘ্নে’ পালিত হল ইদ। কোনও অশান্তির খবর নেই। তবে সর্বত্রই ছিল নিরাপত্তার কঠোর বন্দোবস্ত। এমনিতেই অসম জুড়ে রয়েছে বাড়তি সতর্কতা। প্রতিবারের মতো এবারও ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস বর্জনের ডাক দিয়েছে আলফা–‌সহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েক জায়গা থেকে বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে। অসম পুলিশের ডিজি কুলধর শইকিয়ার দাবি, এবারও নির্বিঘ্নেই পালিত হবে স্বাধীনতা দিবস। তবে প্রচণ্ড গরম আর ফের প্রবল বৃষ্টির আশঙ্কায় অসমের মানুষ উদ্বিগ্ন। ফলে উৎসবের সুর অনেকটাই ম্লান বিজেপি শাসিত রাজ্যটিতে।  

জনপ্রিয়

Back To Top